আগামী তিন মাসের মধ্যে আড়াই লক্ষ পড়ুয়ার পাতে পড়বে ইসকনের মিড-ডে মিল। শনিবার তারাতলায় ইসকনের মিড-ডে মিল কর্মসূচির উদ্বোধন করে এ কথা জানালেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। কলকাতা পুরসভার অন্তর্গত প্রাক্-প্রাথমিক থেকে উচ্চ প্রাথমিক-সহ ৫০০ স্কুলের ৪৪ হাজার পড়ুয়ার কাছে শনিবার পৌঁছে দেওয়া হয়েছে ইসকনের মিড-ডে মিল।
উল্লেখ্য, রাজ্য সরকার আগেই জানিয়েছিল স্কুলে স্কুলে ভাল মানের খাবার পরিবেশন করবে ইসকন। অর্থাৎ, নিরামিষ হলেও ইসকনের মাধ্যমে শিশুদের খাবারের মান উন্নত করতে চায় সরকার। কিন্তু শুরুতেই তা নিয়ে বিতর্ক দানা বাঁধে। কেন স্কুলে শিশুদের পাত থেকে ডিম সরিয়ে দেওয়া হচ্ছে, প্রশ্ন তোলেন অনেকেই। অনেকেই দাবি করেন, এর ফলে মিড-ডে মিলের পুষ্টিগুণ অনেক কমে যাবে। কিন্তু সেই সব অভিযোগ, আলোচনা, বিতর্কে ইতি টানতে শুভেন্দু জানিয়ে দেন, পড়ুয়াদের ডিমও দেওয়া হবে। শনিবার ইসকনের মিড ডে মিলের কর্মসূচিতে গিয়ে আরও এক বার সেই প্রসঙ্গ উল্লেখ করে শুভেন্দু বলেন, ‘‘পড়ুয়াদের সপ্তাহে দু’দিন ডিম দেওয়া হবে। তবে আলাদা ব্যবস্থার মাধ্যমে।’’
একইসঙ্গে মিড-ডে মিলের রাঁধুনিদেরও আশ্বস্ত করেছেন শুভেন্দু। তাঁরা কাজহারা হবেন না বলেও আশ্বস্ত করেছেন। ইসকনের সঙ্গেই তাঁদের জুড়ে নেওয়া হবে। শুধু তা-ই নয়, অগস্ট থেকে স্কুলের মিড ডে মিল রাঁধুনিদের আরও ১০০০ টাকা বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। ফলে তাঁরা মোট ৩০০০ টাকা বেতন পাবেন বলেও জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর কথায়, ‘‘এক মাস আগে মিড-ডে মিলের রাঁধুনিদের নিয়ে একটি মিছিল দেখেছিলাম। কিছু বলিনি। সেই মিছিলকারীদের উদ্দেশে বলি, এক জন রাঁধুনি দিদিও কর্মচ্যুত হবেন না। রান্না এবং মিড-ডে মিল বিতরণ প্রক্রিয়ায় তাঁদের জুড়ে দেওয়া হবে।’’
মিড-ডে মিলের পাইলট প্রকল্পের কথা শুভেন্দু ঘোষণা করেছিলেন আগেই। বলা হয়েছিল ১ অগস্ট থেকে কলকাতায় সরকার এবং সরকারপোষিত স্কুলগুলিতে মিড-ডে মিল দেবে ইসকন। শনিবার সেই প্রকল্পের সূচনা করেন মুখ্যমন্ত্রী। ইসকনের ‘সেন্ট্রাল কিচেন’-এ যান তিনি। সেখানে গিয়ে প্রথমে তিনি ইসকন আয়োজিত যজ্ঞে শামিল হন। তার পর সরাসরি চলে যান ইসকনের রান্নাঘরে। সেখানে মিড-ডে মিল রান্নায় সহযোগিতাও করেন। মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে এই কর্মসূচিতে ছিলেন মুখ্যসচিব মনোজ অগ্রবাল এবং স্কুল শিক্ষামন্ত্রী দীপক বর্মন। রান্নার ব্যবস্থাপনা পরিদর্শন করেন তাঁরা। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে পাঁচটি স্কুলের ৪০ জন পড়ুয়া ছিল। রান্নাঘর উদ্বোধনের পর বৈদ্যুতিক গাড়িরও উদ্বোধন করেন। পাইলট প্রকল্পের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘‘ইসকনের এই ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে খাবার সরবরাহ শুরু হয়ে গিয়েছে। আগামী তিন মাসের মধ্যে এই পরিষেবা আড়াই লক্ষ পড়ুয়াদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে।’’ মুখ্যমন্ত্রী জানান, অত্যন্ত পরিচ্ছন্নতার সঙ্গে, খাদ্য নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করে স্কুলে স্কুলে মিড-ডে মিল পৌঁছে দেবে ইসকন। শুধু বিকাশ নয়, ঐতিহ্য এবং সংস্কৃতিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য ত্রুটিমুক্ত স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তোলাই লক্ষ্য বলে জানান শুভেন্দু।
আরও পড়ুন:
স্কুলে মিড-ডে মিল সরবরাহে ইসকনকে দায়িত্ব দেওয়ার পর থেকেই নানা প্রশ্ন উঠতে শুরু করে। সমালোচনাও হয়। পড়ুয়াদের পাতে ডিম পড়বে কি না, তা নিয়ে নানা আলোচনা, জল্পনাও চলে। তবে ইসকনের কর্মসূচি থেকে মুখ্যমন্ত্রী জানিয়ে দিলেন, রাজ্যের স্কুলের পড়ুয়াদের পাতে ডিম পড়বে। তাদের সপ্তাহে দু’দিন ডিম দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে বলেও আশ্বাস দিয়েছেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘‘প্রথম থেকেই আন্ডা আন্ডা বলে মিছিল বার করে দিলেন! কিছু না-জেনে এ সব নিয়ে বলা শুরু করে দিলেন!’’ তাঁর মন্তব্য, রাজ্য সরকারের সঙ্গে ইসকনের কী চুক্তি হয়েছে, সে বিষয়ে শিক্ষা আধিকারিকদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারতেন, প্রয়োজনে ইসকনের সঙ্গেও যোগাযোগ করতে পারতেন। কিন্তু তা না করে প্রথম থেকেই আন্ডা-আন্ডা বলে মিছিল বার করা হল!’’
উল্লেখ্য, রাজ্যে বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পরেই মিড-ডে মিল ব্যবস্থায় পরিবর্তনের কথা বলা হয়েছিল। পরিচ্ছন্ন ভাবে পুষ্টিকর খাবার পড়ুয়াদের মুখে তুলে দেওয়ার লক্ষ্যে, খাবারের গুণগত মান উন্নত করতে ইসকনের হাতে এই দায়িত্ব তুলে দিয়েছিল সরকার। শুভেন্দু জানিয়েছিলেন, ডিম না-থাকলেও নিরামিষ পুষ্টিকর খাবার পাবে পড়ুয়ারা। পুষ্টিতে কোনও খামতি থাকবে না। প্রাথমিক ভাবে কলকাতার স্কুলগুলিতে মিড-ডে মিলের দায়িত্ব নিচ্ছে ইসকন। তার বাস্তবায়ন দেখে পরবর্তী সময়ে গোটা রাজ্যে এই ব্যবস্থা প্রচলিত হতে পারে। মিড-ডে মিল থেকে ডিম তুলে দেওয়ার কথা ঘোষণা হতেই বিতর্ক দানা বেঁধেছিল। অনেকেই বলেছিলেন, স্কুলে বিতরণ করা খাবারে ডিম থাকলে শিশুদের মুখে হাসি ফোটে। অনেকে শুধু ডিমের ভরসাতেই স্কুলে যায়। তাই ডিম পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া উচিত হবে না। শুভেন্দু বলেন, ‘‘ইসকনের একটি নিজস্ব রীতিনীতি রয়েছে। তার বাইরেও ওড়িশায় আমাদের একটি দল পাঠানো হয়েছিল। জানতে পেরেছি সেখানে স্কুলে এক দিন ডিম সিদ্ধ দেওয়া হয়। আমরা ঠিক করেছি আলাদা করে বাচ্চাদের দু’দিন ডিম বিতরণ করব।’’