দিল্লিতে ‘দিমাগি নকশাল’-দের সঙ্গে বৈঠক করতে যাচ্ছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর দিল্লি সফর নিয়ে এমনটাই বললেন বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর দাবি, বিরোধীদের জোট ‘ইন্ডিয়া’-র কোনও অস্তিত্বই নেই।
মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে ঘিরে বিতর্কের আবহে বুধবার দিল্লিতে ‘ইন্ডিয়া’ জোটের বৈঠক রয়েছে। মনে করা হচ্ছে, বিরোধী রাজনীতির পালে হাওয়া লাগানোর চেষ্টা করছেন জোটের নেতারা। তাতে যোগ দিতে মঙ্গলবারই রাজধানী পৌঁছে গিয়েছেন মমতা। সেই নিয়ে তাঁকে বিঁধলেন শুভেন্দু। মঙ্গলবার সল্টলেকে বিজেপির দফতরে জনতার দরবার সেরে বেরোনোর সময় মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘‘ইন্ডি জোটের পিন্ডি অনেক আগে চটকে গিয়েছে। কী করতে যাচ্ছেন (মমতা)? দিমাগি নকশালদের সঙ্গে বৈঠক করতে যাচ্ছেন।’’
সেখানেই থামেননি শুভেন্দু। মমতার নাম না নিয়েই কটাক্ষ করে বলেন, ‘‘আজ়াদি স্লোগান যিনি দেন, তিনি কী করতে পারেন সকলে জানেন। দিল্লি পুলিশ, আইবি-কে বলব ভাল করে নজর রাখবেন। ওঁর সঙ্গে দেশবিরোধী শক্তির বৈঠক না হয়!’’ শুভেন্দুর কথায়, ‘‘দিমাগি নকশালদের এখন মূল মন্ত্রণাদাতা হয়েছেন (মমতা)। এক হাতে জামাত, এক হাতে দিমাগি নকশাল। দু’জনকে নিয়ে চলছেন।’’
স্বাধীনতার ৮০তম বর্ষ উদ্যাপনে লালকেল্লা থেকে মাওবাদী মনোভাবাপন্নদের সতর্কবার্তা দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। বলেছিলেন, সশস্ত্র মাওবাদীর সংখ্যা কমে এলেও দেশে মাওবাদ মনোভাবাপন্নেরা ঘুরে বেড়াচ্ছেন। তাঁদের থেকে সতর্ক থাকতে হবে। সেই সব মাওবাদ মনোভাবাপন্নকে (প্রধানমন্ত্রীর কথায়, দিমাগি নকশাল) চিহ্নিত করে বিচ্ছিন্ন করে দিতে হবে।’’
প্রধানমন্ত্রী এটাও জানান যে, মাওবাদী আন্দোলনকে দুর্বল করে দেওয়া সম্ভব হয়েছে। এর পরই তিনি ‘দিমাগি নকশাল’ কথাটি ব্যবহার করেন। বিরোধীদের একাংশের অভিযোগ ছিল, অতীতেও সমালোচকদের নানা শব্দবন্ধে দাগিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেছেন মোদী-সহ বিজেপি নেতারা। এ বার নিল প্রশ্নফাঁস নিয়ে দেশজোড়া আন্দোলনে কিছুটা ব্যাকফুটে চলে যাওয়া ‘পদ্ম’ শিবির একই কৌশল নিয়েছে। ‘টুকরে টুকরে গ্যাং’, ‘রাষ্ট্রদ্রোহী’, ‘খলিস্তানি’, ‘আরবান নকশাল’ (শহুরে নকশাল), ‘আন্দোলনজীবী’-র পরে এ বার প্রধানমন্ত্রীর বচনে ‘আবির্ভাব’ ঘটেছে ‘দিমাগি নকশাল’ বিশেষণের!
এ বার শুভেন্দু অভিযোগ করলেন, সেই ‘দিমাগি নকশাল’-দের সঙ্গে যোগাযোগ করতেই দিল্লিতে যাচ্ছেন মমতা।