তৃণমূল জমানার প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতির অভিযোগ খতিয়ে দেখতে তদন্ত কমিশন গড়েছে বিজেপির সরকার। নেতৃত্বে রয়েছেন হাই কোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি বিশ্বজিৎ বসু। সব কিছু ঠিক থাকলে অগস্টের প্রথমার্ধেই কাজ শুরু করে দিতে পারে এই তদন্ত কমিশন। এমনটাই মনে করছেন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি।
শুভেন্দু অধিকারীর সরকারের গঠিত এই কমিশনের দু’টি দফতর থাকবে। একটি দক্ষিণবঙ্গে, একটি উত্তরবঙ্গে। দক্ষিণবঙ্গের দফতর চলবে কলকাতায় এইচআরবিসি ভবনে। বিশ্বজিৎ জানান, উত্তরবঙ্গের জন্য কোনও দফতর এখনও নির্দিষ্ট হয়নি। প্রাথমিক ভাবে কয়েকটি ভবন কমিশনের নজরে রয়েছে। চূড়ান্ত বাছাই হয়ে গেলে উত্তরবঙ্গের জন্য কমিশনের অফিস তৈরি হবে সেখানেই।
দুর্নীতি-তদন্ত কমিশনের প্রধানের আশ্বাস, এই প্রক্রিয়া খুব দ্রুত এগোচ্ছে। এটি হলে গেলেই কমিশন কাজ শুরু করে দেবে। তাঁর আশা, অগস্টের শুরুর দিক থেকেই চালু হয়ে যাবে কাজ। যাঁরা এত দিন দুর্নীতির শিকার হয়েছেন, তাঁদের সকলের জন্য কমিশনের দরজা খোলা থাকবে বলেও আশ্বস্ত করেন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি। তাঁর কথায়, “দুর্নীতির শিকার হওয়া সর্বস্তরের মানুষ আসতে পারবেন।”
আরও পড়ুন:
তৃণমূল জমানায় রাজ্যে একের পর এক দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। আম্পান ত্রাণে দুর্নীতি, ১০০ দিনের কাজে অনিয়ম, মিড-ডে মিল প্রকল্পে দুর্নীতি, সরকারি টাকা আত্মসাৎ বা অপব্যবহার, ক্ষমতার অপব্যবহার। এর মধ্যে অন্যতম উল্লেখযোগ্য শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি। তবে বিশ্বজিতের মতে, শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতির সরাসরি প্রভাব পড়েছে সাধারণ জনতার উপরে। তবে এটিই যে বাকি সব দুর্নীতিকে ছাপিয়ে ওঠা দুর্নীতি, এমনটা মনে করেন না তিনি।
অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতির মতে, ‘দুর্নীতি’ একটি মানসিকতার বিষয়। পালাবদলের পরেও তার একটি ‘কোল্যাটেরাল এফেক্ট’ থেকে যায় বলে মনে করেন তিনি। সে ক্ষেত্রে কী ভাবে এই বিষয়গুলি রাজ্য থেকে পুরোপুরি নির্মূল করা যায়, সেটিই এই কমিশনের অন্যতম লক্ষ্য থাকবে বলে জানান বিশ্বজিৎ।