হালিশহরে নিহত তৃণমূল কর্মীর পরিবারকে রাজ্য সরকারের তরফে ১০ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়েছে। তার সঙ্গে আরজি কর হাসপাতালে নির্যাতিতা মৃত চিকিৎসকের পরিবারকে দিতে চাওয়া, তৎকালীন সরকারের ঘোষিত ১০ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণের তুলনা টেনেছিলেন কালীঘাটপন্থী তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষ। তাঁর সেই মন্তব্যের জবাব দিলেন পানিহাটির বিজেপি বিধায়ক তথা আরজি কর কাণ্ডে নিহত চিকিৎসকের মা। তাঁর দাবি, দুই ঘটনার মধ্যে কোনও তুলনাই চলে না। তাঁর মেয়ের মৃত্যু হয়েছিল সরকারি হাসপাতালে কর্তব্যরত অবস্থায়। সেই মৃত্যুর দায় তৎকালীন সরকার এড়াতে পারে না বলেও দাবি করেছেন তিনি।
মৃতার মা বলেন, ‘‘আমার মেয়ের মৃত্যুর সঙ্গে হালিশহরের ঘটনার মিল যাঁরা খুঁজে পাচ্ছেন, তাঁদের আমি বলব, দু’টি ঘটনা এক নয়। রাজ্যের বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী হালিশহরে গিয়ে প্রয়াত ব্যক্তির পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার পাশাপাশি পরিবারের এক জনকে চাকরি দিয়েছেন। ঘটনায় অভিযুক্ত পুলিশ আধিকারিকদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নিয়েছেন। আমার মেয়ের সময় তেমনটা করা হয়নি।’’ তাঁর অভিযোগ, আরজি কর কাণ্ডের পর প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ১০ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার কথা ঘোষণা করলেও ঘটনার প্রকৃত দোষীদের শাস্তি দেওয়ার ব্যবস্থা করেননি। এমনকি, যে সব পুলিশ আধিকারিকের বিরুদ্ধে প্রমাণ লোপাট এবং কর্তব্যে গাফিলতির অভিযোগ উঠেছিল, তাঁদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি। তাঁর কথায়, ‘‘আমার মেয়ের মৃত্যু হয়েছিল একটি সরকারি হাসপাতালে। সে নিজের দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে খুন হয়েছিল। তাই সেই মৃত্যুর দায় কখনও তৎকালীন সরকার এড়িয়ে যেতে পারে না। আমার মেয়ের আরজি কর হাসপাতালে মারা যাওয়ার ঘটনার সঙ্গে হালিশহরের ঘটনার তুলনা টানা উচিত নয়।’’
আরও পড়ুন:
হালিশহরে পুলিশি হেফাজতে মৃত তৃণমূল কর্মী বিরজু কোয়েটের পরিবারের হাতে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ১০ লক্ষ টাকা তুলে দেওয়ার পর সেই সিদ্ধান্তকে সমর্থন করেছেন কুণাল। তাঁর বক্তব্য, ‘‘টাকা দিয়ে মৃত্যুর ক্ষতিপূরণ হয় না। তবে সরকারি নিয়ম অনুযায়ী ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা রয়েছে এবং তার জন্য নির্দিষ্ট তহবিলও রয়েছে।’’ সোমবার নিজের সমাজমাধ্যমে কুণাল লেখেন, ‘‘আমার মতে, শুভেন্দু ঠিক করেছেন। দেওয়া উচিত। কিন্তু বিষয় হল, প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আরজি করের ক্ষেত্রে ঠিক এই কাজটা করাতেই বিতর্কের ঝড় উঠেছিল। বলা হয়েছিল ঘুষ, মুখ বন্ধের জন্য টাকা। এত তাড়াতাড়ি উনি গিয়ে টাকার কথা বললেন কেন?’’ কুণালের দাবি, সেই সময় তাঁরা বলেছিলেন, টাকা দিয়ে ক্ষতিপূরণ হয় না। কিন্তু সরকারের কর্তব্য থাকে ক্ষতিপূরণ দেওয়া। কোন ক্ষেত্রে কত টাকা দেওয়া হবে, তার একটি নির্দিষ্ট তালিকাও জাতীয় স্তরে রয়েছে। এর সঙ্গে ঘুষের কোনও সম্পর্ক নেই বলেও দাবি করেন তিনি। এমনকি চিকিৎসকদের একটি সংগঠনও নিহত চিকিৎসকের পরিবারকে সরকারি ক্ষতিপূরণ দেওয়ার পক্ষে সওয়াল করেছিল বলে জানান কুণাল। তাঁর অভিযোগ, সেই সময় ‘বিপ্লবীরা’ তাঁদের বক্তব্য শোনেননি বা মানেননি। তাঁর দাবি, আরজি কর-কাণ্ডে ১০ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে কুৎসামূলক প্রচার করা হয়েছিল।
শেষ পর্যন্ত দুই পক্ষের বক্তব্যে স্পষ্ট, ক্ষতিপূরণের অঙ্ক এক হলেও হালিশহর ও আরজি করের ঘটনার প্রেক্ষাপট এবং দায় নিয়ে রাজনৈতিক চাপানউতর অব্যাহত।