শিক্ষক দিবসে স্কুলে স্কুলে ‘কেমন হবে আমার বিদ্যালয়' শীর্ষক প্রতিযোগিতার ডাক দিয়েছে শিক্ষা দফতর। এটা করতেই হবে। স্কুল শিক্ষকেরা জানাচ্ছেন, একই বিষয় নিয়ে কিছু মদিন আগেও প্রতিযোগিতা আয়োজনের নির্দেশ দেয় বিকাশ ভবন। কেন চলছে এই পুনরাবৃত্তি? শিক্ষকদের একাংশের মতে, গত কয়েক মাসে প্রতিযোগিতা এবং দিবস পালনের গুঁতোয় পড়াশোনা কার্যত শিকেয় উঠেছে।
শিক্ষকরা জানান, গত তিন মাসে বিশ্ব পরিবেশ দিবস, মায়ের নামে একটি গাছ, মাদক, তামাক-বিরোধী দিবস, বিশ্ব যোগ দিবস, শ্যামাপ্রসাদ পক্ষ, ইকো ক্লাব, সুব্রত কাপ, ছাত্র-ছাত্রীদের মধ্যে জনগণনা জাগরণ, হর ঘর তিরঙ্গা, সংস্কৃত দিবস চলছে তো চলছেই। এক শিক্ষকের কথায়, “সবই ভাল উদ্যোগ। স্কুলে নিয়মিত পড়াশোনা নিয়েও একটু ভাবা উচিত। জনগণনার কাজে শিক্ষকেরা চলে যাওয়ায় পড়াশোনার ক্ষতি হচ্ছে। অনেক স্কুলে একাদশ, দ্বাদশের ক্লাসই প্রায় বন্ধ। এর সমাধান নিয়ে আরও ভাবনাচিন্তা দরকার।”
শিক্ষক দিবসের দিন ৫০০ শব্দে ‘কেমন হবে আমার স্কুল’ প্রবন্ধ লিখতে হবে। পঞ্চম থেকে নবম এবং দশম থেকে দ্বাদশ দু’টি গ্রুপে ভাগ করা হয়েছে। প্রতিটি স্কুলকেই এই প্রতিযোগিতায় থাকতে হবে। শিক্ষক দিবসের দিন প্রথমার্ধে এই প্রতিযোগিতা, দ্বিতীয়ার্ধে স্কুলের শিক্ষক দিবসের নিজস্ব অনুষ্ঠান করতে হবে। দু’টি গ্রুপের প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় বাছতে হবে। বঙ্গীয় শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী সমিতির সাধারণ সম্পাদক স্বপন মণ্ডল বলেন, “যে প্রতিযোগিতা ইতিমধ্যেই হয়ে গিয়েছে এবং সফল ছাত্র-ছাত্রীদের নাম পাঠানো হয়েছে, তা আবার করতে হবে কেন! সরকার কি নিজেদের নির্দেশ নিজেরাই ভুলে যাচ্ছে! এত প্রতিযোগিতায় পড়াশোনাটা যে কখন হবে!"