বর্জ্য ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে গঙ্গা তীরবর্তী পুরসভাগুলির নিকাশি বর্জ্য গঙ্গায় ফেলার প্রকল্প ঘোষণা করেছিল কেন্দ্র। ২০১৪ সালের সেইপ্রকল্পে বিনিয়োগ করা হয়েছিল ২০ হাজার কোটি টাকা। কিন্তু গঙ্গা তীরবর্তী হাওড়ায় সেই সুয়ারেজ ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট বা এসটিপি তৈরি করে নিকাশি বর্জ্যর শোধিত জল গঙ্গায় ফেলার একটি প্রকল্পওআজও তৈরি হয়নি। ফলে হাওড়া শহরের সমস্ত নিকাশি বর্জ্য অবাধে গঙ্গায় পড়ে দূষণ ঘটাচ্ছে বছরের পর বছর। বর্তমানে এর দোসর ভূগর্ভস্থ নিকাশি নালা দিয়ে গঙ্গায় এসে পড়া নাইট্রিক অ্যাসিড। এলাকাবাসী এবং পরিবেশ কর্মীদের অভিযোগ, রামকৃষ্ণপুর ঘাটের কাছে একটি তামা পোড়ানোরকারখানায় ব্যবহৃত এই নাইট্রিক অ্যাসিডের ধোঁয়ায় যেমন বায়ু দূষিত হচ্ছে, তেমনই তা অবাধে গঙ্গায় মিশে জলের রং বদলে দিচ্ছে।
হাওড়ার আপার ফোরশোর রোডের এক পাশে গঙ্গা। অপর পাশে কলকাতা বন্দর কর্তৃপক্ষের জমির উপরে একাধিক কারখানাএবং গুদাম। এলাকাবাসীদের অভিযোগ, এরকমই একটি কারখানায় নিত্যদিন ড্রামে করে আনা কয়েকশো লিটার নাইট্রিক অ্যাসিড দিয়ে তামা পোড়ানোর সময়ে গোটা এলাকা কটু গন্ধে ভরে যায়। পাশাপাশি সেই বিষাক্ত অ্যাসিডের খয়েরিধোঁয়া কারখানার চিমনি দিয়েবাতাসে মেশে।
অভিযোগ, শুধু বায়ুদূষণ নয়, ওই কারখানা কর্তৃপক্ষ তামা গলানো অ্যাসিড জল বেপরোয়া ভাবে পুরসভার ভূগর্ভস্থ পাইপলাইনে ফেলে দেওয়ায় তা সরাসরি গিয়েমিশছে গঙ্গায়।
হাওড়ার রামকৃষ্ণপুর লঞ্চঘাটের কাছে গঙ্গার তীর বরাবর, যেখানে বর্তমান বিজেপি সরকারের উদ্যোগে লোহার দুর্গা বা ধুনুচি নাচেরপ্রতিকৃতি হচ্ছে, তার পাশে অ্যাসিড গঙ্গার জলের রং পাল্টে দিয়েছে।
রামকৃষ্ণপুর ঘাটের কাছে একটি চায়ের দোকানের মালিক বলেন, ‘‘প্রতিদিন দুপুর থেকে এইঅ্যাসিডের কাজ শুরু হয়। কাজ চলার সময়ে ধোঁয়ায় চোখ জ্বালা করে, শ্বাসকষ্ট হয়। প্রতিদিন লরি করে অ্যাসিড আসে। আমরা পুলিশকে বার বার বলেছি। কিন্তু এই কাজ বন্ধ হয়নি।’’ যদিও এ ব্যাপারে ওই কারখানার তরফে শাহনওয়াজ আলির দাবি, ‘‘আমার কপার পোড়ানো অ্যাসিড ড্রামে করে রেখে দিই। পরে গাড়িতে চাপিয়ে বাইরে ফেলে আসি। গঙ্গায় ফেলি না।’’
দূষণ নিয়ে পরিবেশ আদালতে আগেই মামলা করেছিলেন পরিবেশকর্মী সুভাষ দত্ত। হাওড়ার বাসিন্দা ওই প্রবীণ পরিবেশ কর্মী বলেন, ‘‘এটা ভয়াবহ দূষণ হচ্ছে। এক দিকে বায়ুদূষণ, অন্য দিকেগঙ্গাদূষণ। আদালত নির্দেশ দিয়েছিল এই ধরনের কারখানা বন্ধ করতে। নতুন সরকারের উচিত, এদের গ্রেফতার করা।’’ জেলা প্রশাসনের এক পদস্থ কর্তা বলেন, ‘অভিযোগ খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেব।’’