ভোটকালীন প্রতিশ্রুতি মানলেও ছাত্রীদের উচ্চ শিক্ষা প্রসারে ভর্তির সময়েই একসঙ্গে ৫০ হাজার টাকা দেবে না রাজ্যের বিজেপি সরকার। মঙ্গলবার বিধানসভায় উচ্চশিক্ষা মন্ত্রী জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায় বলেন, “ভর্তির সময়েই এককালীন ৫০ হাজার টাকা দিলে অনেকে টাকাটা মেয়ের বিয়ের খরচ করবেন। সেটা চাই না। কলেজে ভর্তির সময়ে ১৫ হাজার টাকা, মাঝ-পর্বে আরও ১০ হাজার এবং চারটি সিমেস্টার শেষে বাকি ২৫ হাজার টাকা দেওয়া হবে।”
এর আগে বাজেটে শিক্ষা সংক্রান্ত বরাদ্দ নিয়ে আলোচনায় আইএসএফ বিধায়ক নওসাদ সিদ্দিকী এককালীন টাকা দেওয়ার বিপদ নিয়ে অবহিত করেন।
নওসাদ অবশ্য রাজ্যে ছেলেদের শিক্ষাছুট হওয়ার দিকটি বেশি উদ্বেগজনক বলে তুলে ধরেছেন। কেন্দ্রীয় সমীক্ষায় প্রকাশ, এ রাজ্যে ১৩-১৭ শতাংশ স্কুলছুট ছাত্রীর পাশে স্কুলছুট ছাত্রের হার ১৮-২০ শতাংশ। ১৮-২৩ বছরের শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষার নথিভুক্তিতে জাতীয় গড়ের (২৯.৫%) থেকে পিছিয়ে পশ্চিমবঙ্গ (২৬.৩%)। উচ্চশিক্ষায় তৃণমূল জমানায় সরকারি-বেসরকারি স্তরে অনিয়ম এবং ইউনিয়ন রুম কেন্দ্রীক নৈরাজ্যের পাহাড় ডিঙিয়ে তাদের এগোতে হচ্ছে বলেজগন্নাথ জানিয়েছেন।
ডোমকলের সিপিএম বিধায়ক মুস্তাফিজুর রহমান, নওসাদদের বক্তব্যের সূত্রে রাজ্যের নবগঠিত বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলির নামকাওয়াস্তে অস্তিত্ব নিয়ে সরব হল উচ্চশিক্ষা মন্ত্রী। দার্জিলিং হিল ইউনিভার্সিটি, দক্ষিণ দিনাজপুর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে দক্ষিণবঙ্গে হরিচাঁদ গুরুচাঁদ, রানি রাসমণি গ্রিন ইউনিভার্সিটি, কন্যাশ্রী বা হাওড়ার হিন্দি বিশ্ববিদ্যালয়ের বেহাল দশার কথা বলেন তিনি।
জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়ের কথায়, “বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থা প্রাথমিক স্কুলের থেকে খারাপ। হয় অতিথি শিক্ষক দিয়ে চলছে, নয় ভবন পর্যন্ত নেই, বাড়িওয়ালার তাড়া খেতে হচ্ছে।”পাশাপাশি, স্কুলে ৭০ শতাংশ শিক্ষক না থাকলে বদলি করা হবে না বলে আশ্বাস দেন স্কুল শিক্ষামন্ত্রী দীপক বর্মণ। শিক্ষক-ছাত্র অনুপাতে ভারসাম্য রক্ষায় রাজ্য বদ্ধপরিকর বলেতিনি জানান।
মালদহের চাঁচলের তৃণমূল বিধায়ক প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায় এ দিন গৌড়বঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের দুর্নীতি থেকে স্যাক্ট শিক্ষক নিয়োগে অনিয়মের কথা বলেন। তাঁকে আশ্বস্ত করে উচ্চশিক্ষামন্ত্রী বলেন, “স্যাক্ট শিক্ষকদের মতো নানা পদে সাম্মানিক বৃদ্ধি নিয়ে রাজ্য ভাবছে, কিন্তু ৩০-৩৫ % নম্বর পাওয়া যোগ্যতাহীন শিক্ষকদের কলেজে পড়াতে দেওয়া যাবে না।”
তৃণমূল জমানায় ৭৬টি কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রকল্পে নাম লেখায়নি রাজ্য। এখন বিভিন্ন কেন্দ্রীয় প্রকল্পের সঙ্গে গাঁটছড়ায় শিক্ষায় উৎকর্ষ বজায় রাখাই লক্ষ্য বলে উচ্চশিক্ষা ও স্কুল শিক্ষামন্ত্রী দু’জনেরই আশ্বাস।
স্কুলের শৌচাগার থেকে ইন্টারনেট সংযোগ নিয়ে বিরোধীদের আফসোসে নানা কেন্দ্রীয় প্রকল্পে ডিজিটাল শিক্ষার প্রসার, নিট বা আইআইটির মতো পরীক্ষার প্রস্তুতির দরজা খুলবে বলে স্কুল শিক্ষামন্ত্রী জানিয়েছেন। জগন্নাথের আক্ষেপ, এখনও ভিন রাজ্যের বিশ্ববিদ্যালয়ের পশ্চিমবঙ্গে আসা নিয়ে আশঙ্কা রয়েছে। কেন্দ্রীয় বাজেটে ঘোষিত দেশের পাঁচটি এডুসিটির একটি পশ্চিমবঙ্গে গঠনের চেষ্টা চলছে। সেই সঙ্গে বিশ্বের সেরা মানক অনুযায়ী ১০০টির একটি প্রতিষ্ঠানে উচ্চ শিক্ষায় সুযোগ পাওয়া শিক্ষার্থীদের জন্য নতুন বৃত্তির বিজ্ঞপ্তি শীঘ্র বেরোবে।
সব কলেজকে ‘নাক’-এর আওতায় এবং এনআইআরএফ ক্রমে দেশের ১০০টির মধ্যে ২০টি জায়গা দখল পশ্চিমবঙ্গের লক্ষ্য বলে উচ্চশিক্ষা মন্ত্রীর দাবি।