নদিয়ায় কংগ্রেস নেতা আনিসুর রহমান ও তাঁর ছেলে, বাঁকুড়ায় সিজেপি কর্মীর বাবাকে খুন এবং রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির অভিযোগে ভবানী ভবন অভিযান করল কংগ্রেস। রাজ্যে পালাবদল হলেও সন্ত্রাসের ঘটনায় লাগাম নেই কেন, এই প্রশ্নে সরব হয়েছেন কংগ্রেস নেতৃত্ব। এরই পাশাপাশি, নদিয়ার নাকাশিপাড়ায় কংগ্রেস নেতা আনিসুর ও তাঁর ছেলেকে খুনের ঘটনায় সোমবার আরও দু’জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এই নিয়ে পাঁচ জন গ্রেফতার হল। এখনও ৭ অভিযুক্ত এখনও অধরা, তার মধ্যে এক জন স্থানীয় বিজেপি নেতাও আছেন। রাজ্য পুলিশের ফরেন্সিক দল এ দিন বিকেলে ঘটনাস্থলে গিয়ে নমুনা সংগ্রহ করেছে।
রাজ্য পুলিশের সদর দফতর ভবানী ভবন অভিযানে ছিলেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকার, দলের নেতা প্রদীপ প্রসাদ, মানস সরকার, আকিব গুলজার, আশুতোষ চট্টোপাধ্যায়, মিতা চক্রবর্তী প্রমুখ। সেখানেই শুভঙ্কর বলেছেন, “তৃণমূল আমলে যারা সন্ত্রাস করেছিল, তারা জোড়াফুল থেকে পদ্মফুলে এসে সন্ত্রাস করেই চলেছে! মারছে মুসলমান, মরছে মুসলমান, পিছনে বিজেপি— এই হল চক্রান্ত। রক্তের হোলি বন্ধ হোক। কংগ্রেস সংযম দেখাচ্ছে। ’২৯-এ হিসাব বাকি থাকবে না!” ডিজি-র কাছে কংগ্রেসের কত জনের প্রতিনিধিদল দাবিপত্র জমা দিতে যাবে, তা নিয়ে চাপান-উতোর তৈরি হয়েছিল। নিহত নেতা ও তাঁর ছেলের শেষকৃত্যে নাকাশিপাড়ার নাগাদিতে গিয়ে কংগ্রেস ওয়ার্কিং কমিটির সদস্য অধীর চৌধুরী বলেছেন, “এলাকায় তৃণমূলের সন্ত্রাসের মধ্যেও আনিসুর কংগ্রেসকে মজবুত করেছিলেন। খুনিদের কড়া শাস্তি দিতে হবে। বাংলায় যাঁরা পরিবর্তনের স্লোগান দিয়ে ক্ষমতায় এসেছিলেন, তাঁদেরও এটা দায়িত্ব। বাংলা যেখানে ছিল, সেখানেই রয়েছে, এই ঘটনা তারই প্রমাণ!” শেষকৃত্যে ছিলেন প্রদেশ সভাপতি শুভঙ্কর, অমিতাভ চক্রবর্তী প্রমুখও।
আনিসুর ও তাঁর ছেলেকে শনিবার রাতে বাড়ির কাছেই গাড়ি আটকে গুলি করে, কুপিয়ে খুন করা হয়। ঘটনায় ধৃতদের অন্যতম হরনগর পঞ্চায়েতের তৃণমূল প্রধান ফতেমা বিবি। তাঁর স্বামী, কৃষ্ণনগর জেলা সংশোধনাগারে বন্দি জুব্বার শেখ এই খুনের ষড়যন্ত্রে যুক্ত থাকতে পারেন বলে পুলিশের সন্দেহ। সংশোধনাগার সূত্রের খবর, গত ৩০ জুলাই, ৬ অগস্ট এবং ঘটনার ঠিক আগের দিন ১৪ অগস্ট ফতেমা তার সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলেন। সেই সময়েই খুনের ছক কষা হয়ে থাকতে পারে বলে তদন্তকারীদের অনুমান।
অভিযোগপত্রে নাম রয়েছে স্থানীয় বিজেপি নেতা হজরত দফাদারেরও, রাজ্যে পালাবদলের পরে এলাকায় ক্ষমতা ধরে রাখতে জুব্বারের গোষ্ঠী যাঁর আশ্রয় নেওয়ার চেষ্টা করছিল বলে স্থানীয় সূত্রের দাবি। যদিও হজরতের দাবি, “রাজনৈতিক ভাবে আমায় ফাঁসানো হয়েছে।” তাঁকে কেন গ্রেফতার করা হচ্ছে না, পুলিশ সেই ব্যাপারে কোনও মন্তব্য করতে চায়নি।