পুরভোটের আগে ঝুলে থাকা ভোটারদের প্রশ্নে নির্বাচন কমিশনের উপরে আরও চাপ বাড়াল কংগ্রেস। ‘ভোট বাঁচাও, দেশ বাঁচাও’ ডাক দিয়ে বৃহস্পতিবার পথে নেমে এবং পরে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক (সিইও) নীলম মীনার সঙ্গে দেখা করে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনের (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় ‘অন্যায় ভাবে’ বাদ যাওয়া নাগরিকদের নাম ভোটার তালিকায় পুনর্বহালের দাবি ফের তুলেছে কংগ্রেস। পাশাপাশি, ‘যুক্তিগ্রাহ্য অসঙ্গতি’র জেরে বিচারাধীন তালিকা থেকে যাঁদের নাম ভোটার তালিকায় উঠেছিল, তাঁদের বাদ দেওয়ার বিষয়ে কমিশনের দফতরের তরফে যে বিপুল আবেদন হয়েছে, তা নিয়ে তদন্ত তথা আইনি পদক্ষেপের দাবিও সামনে এনেছেন কংগ্রেস নেতৃত্ব। পক্ষান্তরে, সিইও-র দফতর তাঁদের আশ্বাস দিয়েছে, হাওড়া, কলকাতা পুর-এলাকায় ঝুলে থাকা ভোটারদের বিষয়ে দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য ট্রাইবুনালে কথা বলা হবে।
‘ভোট বাঁচাও, দেশ বাঁচাও’ দাবিতে পথের বিক্ষোভে প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকার। নিজস্ব চিত্র।
কমিশনকে দেওয়া দাবিপত্রে প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকার জানিয়েছেন, কমিশনের হলফনামাতেই দেখা যাচ্ছে, যাঁদের নাম বিচারাধীন তালিকা থেকে ভোটার তালিকায় উঠেছিল, সেই অন্তর্ভুক্তির বিরুদ্ধে ১৬ লক্ষ ১০ হাজার আবেদন করেছেন সিইও দফতরের আধিকারিকেরা। কংগ্রেসের দাবি, হলফনামা থেকে বোঝা যাচ্ছে, সিইও, ডিইও, ইআরও ছাড়া অন্য আধিকারিকেরা কমিশনের অনুমোদন ছাড়াই ট্রাইবুনালে এই আবেদন করেছেন। ওই আবেদনগুলি বাতিল করে সংশ্লিষ্ট আধিকারিক কারা, তা প্রকাশ এবং তাঁদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ করতে হবে। এই পরিস্থিতিতে বিচারাধীন এবং ফর্ম ৬-এর মাধ্যমে নতুন করে আবেদন জানানো সকলের বিষয়টি যথাযথ প্রক্রিয়া মেনে নিষ্পত্তির দাবি তুলেছে কংগ্রেস। একই সঙ্গে, ট্রাইবুনালের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় থাকা আবেদনকারী ও ফর্ম-৭ আবেদনের মাধ্যমে নাম বাদ যাওয়া নাগরিকদের বিশেষ অভিযানের সময়ে ফর্ম ৬-এর মাধ্যমে নাম তোলার সুযোগ দেওয়ার দাবিও তোলা হয়েছে। সিইও দফতরে আলোচনায় গিয়েছিল দলের নেতা অমিতাভ চক্রবর্তী, প্রসেনজিৎ বসু, আশুতোষ চট্টোপাধ্যায়-সহ ৬ জনের প্রতিনিধিদল।
তার আগে ‘ভোট বাঁচাও, দেশ বাঁচাও’ ডাক দিয়ে এ দিন কলেজ স্ট্রিট থেকে কংগ্রেসের মিছিল গণেশচন্দ্র অ্যাভিনিউয়ে আটকায় পুলিশ। সেখানেই অবস্থান করেছেন কংগ্রেস কর্মী-সমর্থকেরা। মিছিলে ছিলেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর, এআইসিসি-র পর্যবেক্ষক প্রকাশ জোশী, সহ-পর্যবেক্ষক অম্বা প্রসাদ প্রমুখ। শুভঙ্কর বলেছেন, ‘‘অন্যায় ভাবে বহু ভোটারের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। নির্বাচন কমিশনকে আমরা ছাড়ব না, জ্ঞানেশ কুমারকে ইস্তফা দিতেই হবে। ১ নভেম্বর দিল্লির রামলীলা ময়দান থেকে সারা দেশ ফের এই দাবিতে আওয়াজ তুলবে।’’ প্রকাশের বক্তব্য, ‘‘পুরভোট আসন্ন। এখনও কলকাতায় ১ লক্ষ ২০ হাজার এবং হাওড়ায় ৪০ হাজার ভোটারের বিষয়ে সিদ্ধান্ত ঝুলে রয়েছে।’’ রামলীলা ময়দানে ‘গণতন্ত্র বাঁচাও, সংবিধান বাঁচাও’-এর ডাক দিয়ে যে সমাবেশ হতে চলেছে, সেখানে যোগ দিতে পশ্চিমবঙ্গ থেকেও দল বেঁধে কংগ্রেস নেতা-কর্মীরা দিল্লি যাচ্ছেন। এর আগে, আজ, শুক্রবার রাজ্য নির্বাচন কমিশনের সামনে ভোটার-প্রশ্নেই বিক্ষোভের ডাক দিয়েছে কংগ্রেস।