সুভাষচন্দ্র বসু সম্পর্কে অবমাননাকর মন্তব্য করার জন্য বিজেপির রাজ্যসভার সাংসদ নগেন্দ্র রায় ওরফে অনন্ত মহারাজকে গ্রেফতার এবং তাঁর সাংসদ-পদ খারিজের দাবিতে এলগিন রোডে ‘নেতাজি ভবনে’র সামনে শুক্রবার রাতভর সত্যাগ্রহের ডাক দিয়েছিল প্রদেশ কংগ্রেস। সেই কর্মসূচি থেকে প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকার-সহ দলের নেতাদের আটক করল পুলিশ। রাতে ভবানীপুর থানা থেকে তাঁদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
এলগিন রোডে সুভাষচন্দ্রের বাসভবনের সামনে কংগ্রেসের মঞ্চ বাঁধার অনুমতি দেয়নি পুলিশ। স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে সেখানে অনেক অতিথি আসেন, মঞ্চ বেঁধে সত্যাগ্রহ চালালে অসুবিধা হবে, এমনই যুক্তি দেওয়া হয়েছিল পুলিশের তরফে। তা ছাড়া, রাজ্য সরকার অনন্তের বিষয়ে কড়া অবস্থান নেওয়ায় এবং চাপে পড়ে বিজেপি সাংসদ ক্ষমাপ্রার্থনা করায় কংগ্রেসের পূর্বঘোষিত ওই কর্মসূচি ঘিরে উৎসাহও তেমন ছিল না। তবে গাড়ির উপরে অস্থায়ী মঞ্চ থেকে কর্মসূচি শুরু করেছিলেন কংগ্রেস নেতারা। সুভাষচন্দ্রকে কংগ্রেস থেকে বহিষ্কার করা হয়েছিল বলে যে দাবি ধারাবাহিক ভাবে করে চলেছেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য, তার প্রেক্ষিতে প্রদেশ কংগ্রেস নেতা অমিতাভ চক্রবর্তী এ দিন বলেন, ‘‘শমীকবাবুদের ইতিহাস নাগপুরে (আরএসএসের সদর দফতর) লিখে দেওয়া হয়েছে। আর আমরা ইতিহাস পড়েছি কলেজ স্ট্রিট থেকে প্রথিতযশা লেখকদের বই কিনে। দু’টোর মধ্যে তফাত থাকবেই!’’ কর্মসূচি কিছু ক্ষণ চলার পরে প্রদেশ সভাপতি শুভঙ্কর, প্রদেশ কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক আশুতোষ চট্টোপাধ্যায়, দক্ষিণ ও মধ্য কলকাতা জেলা কংগ্রেসের দুই সভাপতি যথাক্রমে প্রদীপ প্রসাদ ও মানস সরকারকে আটক করে ভবানীপুর থানায় নিয়ে যায় পুলিশ। রাত ৯টার পরে তাঁদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
বারুইপুরে এ দিনই সিপিএমের ছাত্র সংগঠন এসএফআইয়ের ডাকে ‘আজ়াদি’ মিছিল থেকে সুভাষচন্দ্রকে অসম্মানের দায়ে বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ও সাংসদ অনন্তকে গ্রেফতারের দাবি তোলা হয়েছে। পাশাপাশি, সোনারপুরে আর্য সমাজের একটি অনুষ্ঠানে গিয়ে শমীকের সুরেই স্বামী প্রদীপ্তানন্দ (কার্তিক মহারাজ) দাবি করেছেন, কংগ্রেস সুভাষচন্দ্রকে বহিষ্কার করেছিল। বামফ্রন্টও সুভাষচন্দ্রকে অপমান করেছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, নেতাজিকে নিয়ে এখন যাঁরা নানা মন্তব্য করছেন, তাঁদের আগে ইতিহাস জানা প্রয়োজন।