E-Paper
এই প্রতিবেদনটি প্রথমে আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণে প্রকাশিত হয়েছে

‘কর্মফল’-প্রশ্ন, কাকদ্বীপের পাল্টা এ বার চোরবাগানে

কাকদ্বীপে গত বার কালীপুজোর সময়ে একটি অশান্তির ঘটনার প্রেক্ষিতে প্রতিমাকে প্রিজ়ন ভ্যানে তুলে বার করে নিয়ে গিয়েছিল পুলিশ।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২৬ অক্টোবর ২০২৬ ০৮:৪৬
প্রিজ়ন ভ্য়ানে তোলা হচ্ছে কালী প্রতিমা। কাকদ্বীপে গত বছর।

প্রিজ়ন ভ্য়ানে তোলা হচ্ছে কালী প্রতিমা। কাকদ্বীপে গত বছর। নিজস্ব চিত্র।

মা কালীর পাল্টা মা দুর্গা! আরাধ্য প্রতিমাকে অবমাননার অভিযোগে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে আক্রমণ করেছেন বিজেপি নেতৃত্ব। এ বার বিজেপির জমানার ঘটনা টেনে বর্তমান শাসক দলকে প্রশ্ন ফিরিয়ে দিল অধুনা বিরোধী মমতা-তৃণমূল।

সপ্তমীর সন্ধ্যায় মণ্ডপের বাইরে ভিড়ে পদপিষ্ট হয়ে ১৯ জনের মৃত্যুর পরে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল চোরবাগানের পুজো। ফাঁকা, অন্ধকার মণ্ডপে কয়েক দিন থাকার পরে শনিবার দুর্গা প্রতিমাকে গায়ে-কোমরে দড়ি দিয়ে বেঁধে বিসর্জনে ঘাটে নিয়ে গিয়েছে পুলিশ। নিরাপত্তার স্বার্থেই এমন ব্যবস্থা বলে পুলিশ সূত্রের ব্যাখ্যা। কাকদ্বীপে গত বার কালীপুজোর সময়ে একটি অশান্তির ঘটনার প্রেক্ষিতে প্রতিমাকে প্রিজ়ন ভ্যানে তুলে বার করে নিয়ে গিয়েছিল পুলিশ। ক্ষমতায় এসে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী সেই ঘটনার সময়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত আইপিএস কোটেশ্বর রাওকে নিলম্বিত (সাসপেন্ড) করেছিলেন। কাকদ্বীপে গিয়ে শনিবারই শুভেন্দু বলেছেন, যে মুখ্যমন্ত্রীর আমলে মা কালীকে প্রিজ়ন ভ্যানে তোলা হয়েছিল, প্রাক্তন হওয়ার পরে তাঁকেই এই বছর মহালয়ার দিনে দিল্লিতে প্রিজ়ন ভ্যানে উঠতে হয়েছে। দিল্লি ঘটনার দিনে একই কথা বলেছিলেন কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদারও। আর কাকদ্বীপে শুভেন্দুর মন্তব্য, ‘‘সব কর্মফল!’’ সেই সূত্রেই চোরবাগানে মা দুর্গার পরিণতি দেখিয়ে মমতা-তৃণমূল পাল্টা প্রশ্ন তুলছে, এখানে তবে কার কর্মফল কে ভুগছে!

চোরবাগানের প্রতিমা বিসর্জনের সময়ে দেবী মূর্তি রাস্তায় রয়েছে, এমন একটি ছবি তুলে ধরে মমতা-তৃণমূলের বক্তব্য, ‘এই অপমানের ঘটনা বাঙালির মনে দাগ হয়ে থাকবে। কারণ, বিসর্জনের আগে রাস্তার ধারে মা এই ভাবে অযত্নে পড়ে থাকলেন। যাঁরা ধর্ম নিয়ে জোর গলায় জ্ঞান দেন এবং ধর্মানুরাগের বড়সড় প্রদর্শন করেন, তাঁরাই মায়ের প্রতি এমন চরম অবহেলা দেখালেন। এমন কাজ করতে তাঁদের বিন্দুমাত্র লজ্জা হল না’। দলের বিধায়ক কুণাল ঘোষের বক্তব্য, “কিছু কাল আগে পরিকল্পিত ভাবে মা কালীর মূর্তির ক্ষতি করা হয় গোলমাল বাধাতে। পুলিশ সতর্কতামূলক ভাবে সামনে থাকা প্রিজ়ন ভ্যানে করে মায়ের মূর্তি সুরক্ষিত ভাবে সরায়। তখন বিজেপি বিকৃত আখ্যান তৈরি করে বাজারে ছড়ায়। এখন মা দুর্গার গলা, কোমর, হাতে দড়ি বেঁধে টানতে টানতে নিয়ে যাওয়া দেখে তাঁদের কষ্ট হচ্ছে না? এখন নিশ্চয়ই বলবেন, এই ভাবে নিয়ে যাওয়ার সঙ্গে মা’কে অসম্মানের সম্পর্ক নেই। ঠিকই, প্রতিমা বার করতে হবে। তাই সাবধানতা। তা হলে প্রিজ়ন ভ্যান, কোমরে-হাতে দড়ির আখ্যানগুলি দূরে রাখাই ভাল। তাই না?”

বিজেপি বিধায়ক এবং চোরবাগান পুজো কমিটির চেয়ারম্যান বিজয় ওঝার সঙ্গে যোগাযোগ করা যায়নি। তবে বিজেপির এক নেতার মতে, ‘‘ঘটানাটা চোখে লাগার মতোই। কিন্তু দুর্ঘটনার পরে ওখানে আমাদের কারওরই সম্ভবত কিছু করার ছিল না। প্রশাসন যা ঠিক মনে করেছে, করেছে।’’ রাজনৈতিক এবং নাগরিক সমাজের একাংশের মতে, চোরবাগানকে ‘পরিস্থিতির নিরিখে বিচ্ছিন্ন ঘটনা’ ধরলে গত বারের কাকদ্বীপকেও তা-ই ধরা উচিত।

চোরবাগান-কাণ্ডের তদন্ত প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী রবিবারও বলেছেন, কলকাতা পুরসভা ও পুলিশকে নিরপেক্ষতার স্বার্থেই তদন্ত কমিটির বাইরে রাখা হয়েছে। তাঁর বক্তব্য, ‘‘অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি নিরপেক্ষ ভাবে তদন্ত করছেন। তাঁরা যে রিপোর্ট দেবেন, তিন মাসের মধ্যে তা বিধানসভায় পেশ করা হবে। তাঁরা যে সুপারিশ করবেন, সেটা রাজ্য সরকার কার্যকর করবে।’’

এই প্রতিবেদনটি প্রথমে আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণে প্রকাশিত হয়েছে
Mamata Banerjee kakdwip

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy