রাজ্যে চলতি শিক্ষক নিয়োগের প্রক্রিয়ার ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করল কলকাতা হাই কোর্ট। বুধবার এই সংক্রান্ত একটি মামলা শুনানির জন্য উঠলে মামলা পিছিয়ে দেওয়ার আবেদন জানান এসএসসি-র কৌঁসুলি সুতনু পাত্র। তিনি বলেন যে, চলতি নিয়োগ সংক্রান্ত সব প্রক্রিয়া আপাতত বন্ধ থাকায় এই জাতীয় সব মামলা আগামী দু’সপ্তাহের জন্য পিছিয়ে দেওয়ার আর্জি জানিয়েছেন এসএসসি-র সচিব। তা শুনেই বিচারপতি অমৃতা সিংহ প্রশ্ন করেন, ‘‘সুপ্রিম কোর্টের বেঁধে দেওয়া মেয়াদের তবে কী হবে?’’
এই নিয়োগের অধীনে ২০১৬ সালের প্যানেলের চাকরিহারারাও (যাঁরা দাগি তালিকায় নেই) আছেন। এসএসসি নিয়োগ দুর্নীতির মামলায় প্যানেল বাতিল করে পুনর্নিয়োগের নির্দেশে ওই চাকরিহারাদের অগস্ট পর্যন্ত চাকরি করার অনুমতি দিয়েছিল সুপ্রিম কোর্ট। এ দিন বিচারপতির প্রশ্নের উত্তরে এসএসসি-র কৌঁসুলি জানান, তাঁরা ফের সুপ্রিম কোর্টে সময় বৃদ্ধির আর্জি জানাবেন।
চলতি নিয়োগের পরিস্থিতি দেখে এ দিন বিচারপতি সিংহের পর্যবেক্ষণ, ‘‘২০১৬ সালের নিয়োগ প্রক্রিয়া বাতিল হয়ে গিয়েছে। চাকরিহীন হয়ে পড়া মানুষগুলির পরিস্থিতি খুবই দুঃখজনক। চাকরিপ্রার্থীদের জন্য আমার দুঃখ হয়।’’ এ দিন মামলাকারীদের আইনজীবী ফিরদৌস শামিম জানান, নিয়োগ প্রক্রিয়ায় একাধিক জট তৈরি হয়েছে। সংরক্ষণ, অভিজ্ঞতার ১০ নম্বর, চাকরিহারা বনাম নতুন প্রার্থীদের আবেদনের বিষয়ও এসেছে। এই জট ছাড়ালে হয়তো ফের প্যানেল নতুন করে তৈরি করতে হতে পারে।
উল্লেখ্য, বিগত তৃণমূল সরকারের আমলে নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু হলেও ভোটের সময়ে তা থমকে যায়। পালাবদলের পরে সেই কাজ আর শুরু হয়নি বলে অভিযোগ। এসএসসি-র চেয়ারম্যান পদও খালি ছিল। সম্প্রতি সেই পদে নিয়োগ হয়েছে।
এ দিন বিচারপতি সিংহ জানিয়েছেন, অগস্ট মাসের শুনানির তালিকায় থাকবে মামলাগুলি। তিনি বলেছেন, “তত দিনে নিজেদের ঘর গুছিয়ে নিক কমিশন।’’