রাজ্যের সরকারি কর্মচারীরা বকেয়া মহার্ঘ ভাতা পাচ্ছেন। তবে তা তাঁদের প্রভিডেন্ট ফান্ড অ্যাকাউন্টে জমা পড়ছে। সেই টাকা ২৪ মাস ‘লক-ইন’ থাকবে। অর্থাৎ দু’বছর টাকা তোলা যাবে না। এই ব্যবস্থা নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের প্রশ্নের মুখে পড়ল শুভেন্দু অধিকারীর সরকার। বিচারপতি সঞ্জয় কারোল ও বিচারপতি প্রশান্ত কুমার মিশ্রের বেঞ্চের প্রশ্ন, তাঁদের রায়ের মধ্যে চব্বিশ মাসের ‘লক-ইন পিরিয়ড’ কোথা থেকে এল?
রাজ্যের ডিএ মামলায় সুপ্রিম কোর্ট যাবতীয় বকেয়া ডিএ মিটিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দিলেও, নতুন বিজেপি সরকার সম্প্রতি সুপ্রিম কোর্টে জানিয়েছে, তারা বকেয়ার ৮৫ শতাংশ মেটাতে রাজি। বাকি ১৫ শতাংশ যেন মকুব করা হয়। মঙ্গলবার রাজ্য সরকারের হয়ে কেন্দ্রের সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা জানান, বকেয়ার ৬৫ শতাংশ ইতিমধ্যেই মেটানো হয়ে গিয়েছে। যার পরিমাণ প্রায় ৭,৭০০ কোটি টাকা। বাকি বকেয়া মেটানোর প্রক্রিয়া চলছে। কিন্তু রাজ্য সরকারের কর্মচারী সংগঠনগুলি অভিযোগ তুলেছে, সুপ্রিম কোর্টের রায় মানা হচ্ছে না। আইনজীবী করুণা নন্দী বলেন, শীর্ষ আদালত সর্বভারতীয় মূল্যবৃদ্ধির সূচক মেনে বকেয়া ডিএ মেটাতে বলেছিল। কিন্তু এ ক্ষেত্রে রাজ্য সরকার পশ্চিমবঙ্গের খুচরো মূল্যবৃদ্ধির সূচক মেনে বকেয়া ডিএ দিতে চাইছে।
কেন্দ্রীয় সরকারের হারে বা সর্বভারতীয় মূল্যবৃদ্ধির সূচক অনুযায়ী ডিএ পাওয়ার জন্যই তৃণমূল জমানায় রাজ্য সরকারি কর্মীরা আন্দোলন ও মামলা চালিয়েছিলেন। কর্মী সংগঠনের হয়ে আইনজীবী বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্যের বার্তা, অনেক ক্ষেত্রেই রাজ্য সরকার রায় মানছে না। করুণা জানান, যে বকেয়া টাকা মেটানো হচ্ছে, তা প্রভিডেন্ট ফান্ডে জমা পড়ছে। কিন্তু তা তোলা যাবে না। কারণ চব্বিশ মাসের ‘লক-ইন’ সময়কাল বেঁধে দেওয়া হচ্ছে। অথচ সুপ্রিম কোর্ট বলেছিল, প্রথমেই ২৫ শতাংশ বকেয়া মিটিয়ে দেওয়ার জন্য।
বিচারপতি প্রশান্ত কুমার মিশ্র রাজ্য সরকারের কাছে জানতে চান, আদালতের রায়ে কোথায় এই ‘লক-ইন পিরিয়ড’ ছিল? সলিসিটর জেনারেল বলেন, এই প্রথম মৌখিক ভাবে অভিযোগ তোলা হল। যদি কর্মী সংগঠনগুলি লিখিত ভাবে আদালতকে জানায়, তা হলে রাজ্য তার জবাব দিতে পারে। আইনজীবী রউফ রহিম বলেন, বকেয়া ডিএ মেটানোর কাজে নজরদারির জন্য সুপ্রিম কোর্ট যে অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি ইন্দু মলহোত্রর কমিটি তৈরি করেছে, সেখানে সব কর্মী সংগঠনকে ডাকা হচ্ছে না। তা হলে সবাই সেখানে অভিযোগ জানাতে পারেন। বিচারপতি সঞ্জয় কারোল বলেন, সে ক্ষেত্রে রাজ্য সরকার ও কর্মী সংগঠনগুলির হয়ে কারা ইন্দু মলহোত্র কমিটির কাছে যাবেন, তা আদালতকে লিখিত ভাবে জানানো হোক। বুধবার দুপুরে এই মামলার ফের শুনানি হবে।