স্কুল সার্ভিস কমিশনের সিবিআইয়ের চারটি মামলায় এক রাজসাক্ষীর গোপন জবানবন্দি গ্রহণ করল আদালত। সূত্রের খবর, বৃহস্পতিবার আলিপুর সিবিআই বিশেষ আদালতে প্রায় সাড়ে চার ঘণ্টা ধরে ওই গোপন জবানবন্দি নেওয়া হয়েছে। আদালত ওই রাজসাক্ষীকে মান্যতাও দিয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গিয়েছে।
এসএসসির গ্রুপ সি, গ্রুপ ডি, নবম-দশম এবং একাদশ-দ্বাদশে নিয়োগ দুর্নীতি নিয়ে সিবিআইয়ের তদন্তে চারটি মামলা রয়েছে। ওই চারটি মামলার এই রাজসাক্ষী শিক্ষা দফতরেরই এক আধিকারিক। তদন্তকারীদের সূত্রে দাবি, ওই মামলায় অভিযুক্ত প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়, এসএসসির প্রাক্তন উপদেষ্টা শান্তিপ্রসাদ সিংহ, প্রাক্তন চেয়ারম্যান সুবীরেশ ভট্টাচার্যের তিনি অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ ছিলেন। বেআইনি ভাবে টাকার বিনিময়ে বাঁকা পথে অযোগ্য প্রার্থীদের নিয়োগ প্রক্রিয়ায় ওই রাজসাক্ষী জড়িত ছিলেন বলে সিবিআই সূত্রের দাবি। তবে কোনও ভাবেই সরাসরি বেআইনি নিয়োগ এবং ওই নিয়োগ থেকে আর্থিক ভাবে লাভবান তিনি হননি বলেও তদন্তকারীদের সূত্রে জানা গিয়েছে। প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের নির্দেশে বেআইনি নিয়োগের দেখাশোনা করতেন ওই আধিকারিক। এসএসসির চারটি মামলাতেই তাঁকে অভিযুক্ত দায়ের করে চার্জশিট পেশ করেছিল সিবিআই। এখন তিনি জামিনে রয়েছেন।
সম্প্রতি সিবিআইয়ের তরফে ওই আধিকারিক রাজসাক্ষী হিসেবে আদালতে গোপন জবানবন্দি দিতে ইচ্ছুক বলে আদালতে আবেদন করা হয়েছিল। পাশাপাশি বেআইনি নিয়োগ প্রক্রিয়ায় ওই রাজসাক্ষীর ভূমিকার নথিও সিবিআইয়ের তরফে আদালতে পেশ করা হয়। বিচারক সমস্ত নথি খতিয়ে দেখে ওই আধিকারিককে রাজসাক্ষী হিসেবে গোপন জবানবন্দি দেওয়ার যোগ্য হিসেবে অনুমোদন দেন বলেই আদালত সূত্রের খবর।
এর পরেই বৃহস্পতিবার সকাল থেকে চারটি মামলায় কয়েক দফায় সিবিআই বিশেষ আদালতে ওই আধিকারিকের গোপন জবানবন্দি নেওয়া হয় বলে সূত্রের খবর।
সিবিআইয়ের দাবি, ওই আধিকারিক সুবীরেশ ভট্টাচার্যের নির্দেশ মেনে কাজ করতেন। অযোগ্যদের কাছ থেকে টাকা নিয়ে বাঁকা পথে নিয়োগ প্রক্রিয়ার খুঁটিনাটির তিনি অন্যতম প্রত্যক্ষদর্শী বলেও দাবি। তবে বেআইনি নিয়োগ প্রক্রিয়ায় ওই ব্যক্তির নিজের স্বার্থ জড়িয়ে ছিল না বলে বিষয়টি ব্যাখ্যা করছে সিবিআই। সিবিআইয়ের কর্তাদের কথায়, “মামলার বিচার প্রক্রিয়ায় ওই আধিকারিকের সাক্ষ্য গুরুত্বপূর্ণ। এবং আদালতে তাঁর বয়ান পর্যবেক্ষণ করে ওই রাজসাক্ষীকে মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।”
আইনজীবীদের একাংশের মতে, ঘনিষ্ঠ আধিকারিক রাজসাক্ষী হওয়ায় বিচার প্রক্রিয়ায় পার্থ, প্রাক্তন উপদেষ্টা শান্তিপ্রসাদ সিংহ এবং প্রাক্তন চেয়ারম্যান সুবীরেশ ভট্টাচার্য বিপাকে পড়তে পারেন।