পশ্চিমবঙ্গে গত কয়েক বছর ধরে বহু রকমের চর্চা হয়েছে ‘বাম-রাম’ তত্ত্ব নিয়ে। বামের ভোট রামে গিয়েই বিজেপির বাড়বাড়ন্তে সহায়ক হয়েছে বলে দাবি করেছে তৃণমূল কংগ্রেস। বামেরা আবার পাল্টা বলে এসেছে, এই রাজ্যে বিজেপিকে হাত ধরে পথ চিনিয়েছে তৃণমূলই! এ বার পালাবদলের পরে ছবি একেবারে অন্য রকম। প্রথম বার ক্ষমতায় আসার পরে মতাদর্শ গত ভাবে বিজেপি এবং সঙ্ঘ পরিবার নিশানা করছে বামেদেরই। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় ঘিরে বিবাদ তার অন্যতম উদাহরণ। অন্য দিকে ক্ষমতা হারানো তৃণমূল নানা শিবিরে বিভক্ত। এই পরিস্থিতিতে বিজেপি মোকাবিলার কৌশল স্থির করতে রাজ্য কমিটির বর্ধিত অধিবেশনে যাচ্ছে সিপিএম।
সিপিএমের রাজ্য কমিটির বর্ধিত অধিবেশনের প্রস্তুতি। কল্যাণীর ঋত্বিক সদনে। — নিজস্ব চিত্র।
কল্যাণীর ঋত্বিক সদনে আজ, শনিবার থেকে শুরু হচ্ছে দু’দিনের ওই বর্ধিত অধিবেশন। যার শেষে রবিবার রয়েছে সমাবেশ। সিপিএমের রাজ্য কমিটির পাশাপাশি সব জেলা সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য এবং গণসংগঠনগুলির রাজ্য নেতৃত্বের এই অধিবেশনে অংশগ্রহণ করার কথা। সূত্রের খবর, সব মিলিয়ে ৩২০-র বেশি প্রতিনিধি অধিবেশনে থাকবেন। ওই অধিবেশনে যোগ দেওয়ার জন্য কলকাতায় পৌঁছে শুক্রবার সিপিএমের সাধারণ সম্পাদক এম এ বেবি বলেছেন, ‘‘বাংলায় প্রথম বারের জন্য বিজেপি সরকার করেছে। তার পরে কলেজের পরিচালন সমিতির মাথায় বিজেপি নিজেদের লোক বসিয়েছে। শিক্ষা ক্ষেত্রকে তারা কব্জা করতে চাইছে। জেএনইউ, যাদবপুরে তারা হামলা করেছে। আমাদের সব অংশের মানুষের কাছে এই বিপদের বার্তা নিয়ে যেতে হবে।’’ তাঁর সংযোজন, ‘‘এই রাজ্য প্রগতিশীল আন্দোলনের ভূমি। আমরা নিজেদের শক্তি বৃদ্ধি করার প্রক্রিয়ায় আছি, আরও মানুষের সমর্থন পাওয়ার চেষ্টা করছি। শ্রমজীবী মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করতে হবে। নতুন প্রজন্মকে সঙ্গে নিয়ে এই রাজ্যের নেতৃত্ব এগোচ্ছেন।’’
সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিমও বলেছেন, দুর্নীতি, দুষ্কৃতী-রাজ, সাম্প্রদায়িকতা ও জাত-পাত (ইংরেজিতে চারটি ‘সি’)— এই চার বিষয়ের বিরুদ্ধে নাগরিক ঐক্য গড়ে তোলার লক্ষ্যে তাঁরা এগোতে চান। আলিমুদ্দিন স্ট্রিটে এ দিন সেলিমের বক্তব্য, ‘‘ভোটের আগে সকলের জন্য ‘অন্নপূর্ণা’ যোজনা দেবে দেবে বলেছিল বিজেপি। এখন কত জনকে বাদ দেওয়া যায়, তার হিসেব করছে রাজ্য সরকার। জনবিন্যাসের পরিবর্তন ঘটাতে চাইছে। ফ্যাসিবাদীরা বৈচিত্রকে ভয় পায়। ঐক্যবদ্ধ হয়ে তাদের আক্রমণ রুখতে হবে।’’