E-Paper
এই প্রতিবেদনটি প্রথমে আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণে প্রকাশিত হয়েছে

মুখ্যমন্ত্রী আসার আগে সংস্কার বেহাল রাস্তার

গণপিটুনি, পুলিশকে মারধর, সরকারি সম্পত্তি নষ্টের ঘটনায় বৃহস্পতিবার রাতে আরও পাঁচ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১১ জুলাই ২০২৬ ০৬:৪৮
শুভেন্দু অধিকারী।

শুভেন্দু অধিকারী। — ফাইল চিত্র।

প্রায় এক সপ্তাহের মধ্যেই ফের দক্ষিণ ২৪ পরগনায় যাচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী। প্রশাসন সূত্রের খবর, আজ, শনিবার তিনি ধর্ষণ ও খুন হওয়া বালিকার বাড়িতে যেতে পারেন। যেতে পারেন গণপিটুনিতে নিহত যুবকের বাড়িতেও। ওই তল্লাটে একটি পুলিশ ফাঁড়িরও উদ্বোধন করবেন মুখ্যমন্ত্রী। দক্ষিণ ২৪ পরগনায় বালিকার ধর্ষণ-খুনের ঘটনার পরে এলাকায় গিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সে দিন অবশ্য জেলা পুলিশের সদর দফতরে নির্যাতিতার পরিবারের সঙ্গে দেখা করেন তিনি। পুলিশকর্তাদের সঙ্গেও বৈঠক করেন। সপ্তাহখানেকের মধ্যে ফের আসবেন বলেও আশ্বাস দিয়েছিলেন তিনি।

এরই মধ্যে ঘটনার পরে গণপিটুনি, পুলিশকে মারধর, সরকারি সম্পত্তি নষ্টের ঘটনায় বৃহস্পতিবার রাতে আরও পাঁচ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এ নিয়ে পরপর তিন রাত অভিযান চালিয়ে মোট ৩৩ জনকে গ্রেফতার করা হল। এই ঘটনায় ২০০ জনের বিরুদ্ধে মামলা করা হবে বলে মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছিলেন। পুলিশি অভিযান ঘিরে আতঙ্কিত এলাকার মানুষজন। বাসিন্দাদের একাংশ জানান, ইতিমধ্যে বহু লোকজন, বিশেষ করে পুরুষেরা এলাকাছাড়া। বাজার এলাকা এ দিনও কার্যত সুনসান ছিল। পাইকারি হাটেও বিকিকিনি কম হয়েছে বলেই জানান ব্যবসায়ীরা।

এ দিকে, মুখ্যমন্ত্রী আসার আগে ব্যাপক তৎপরতা শুরু হয়েছে এলাকা জুড়ে। দিন দুয়েক আগেই প্রশাসনের আধিকারিকেরা এসে এলাকার পরিস্থিতি খতিয়ে দেখেছেন। ওই জায়গায় পৌঁছনোর প্রধান রাস্তা দীর্ঘদিন ধরেই বেহাল। বর্ষায় অবস্থা আরও খারাপ হয়েছে। দিন দুয়েক ধরেই সেই রাস্তায় ইট ফেলে মেরামতির কাজ চলছে। শুক্রবারও দিনভর কাজ হয়েছে। ওই নির্যাতিতা বালিকার বাড়িতে যাওয়ার রাস্তায় অনেকটা জায়গা জল-কাদায় ভরা। সেখানে এ দিন ইট ফেলে পাকা চাতাল বানিয়ে দেওয়া হয়। গণপিটুনিতে নিহত ইন্দ্রজিৎ মণ্ডলের বাড়ি ভাঙচুর করেছিল বিক্ষোভকারীরা। সেই বাড়িও রাতারাতি সংস্কার করে দেওয়া হচ্ছে। ইন্দ্রজিতের বৃদ্ধ বাবা-মাকে সাহায্য করছে প্রশাসন। এ দিন এলাকার বিডিও, জয়েন্ট বিডিও–সহ প্রশাসনের একাধিক আধিকারিক এলাকায় থেকে সব কাজের তদারকি করেছেন।

ঘটনার রাতে স্থানীয়দের ক্ষোভ গিয়ে পড়েছিল স্থানীয় পুলিশ ফাঁড়িতে। ফাঁড়ি ভাঙচুরও করা হয়। অভিযোগ, ফাঁড়িতে পর্যাপ্ত পুলিশ থাকত না। চাইলেও অভিযোগ দায়ের করা যেত না। সামান্য অভিযোগ জানাতেও প্রায় ১০ কিলোমিটার দূরের থানায় ছুটতে হত। মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতে ফাঁড়িটি যাতে আরও কার্যকর হয়, সেই আবেদনও জানিয়েছিল নির্যাতিতার পরিবার। তার পরেই নতুন একটি ফাঁড়ি তৈরির সিদ্ধান্ত হয়। প্রাথমিক ভাবে স্থানীয় একটি অনুষ্ঠান বাড়ি ভাড়া নিয়ে ফাঁড়ি তৈরি হচ্ছে। প্রশাসনের আশ্বাস, পর্যাপ্ত পুলিশ থাকবে এবং প্রয়োজনে লিখিত অভিযোগও দায়ের করা যাবে। পাশাপাশি, এলাকায় প্রচুর সিসি ক্যামেরাও বসানো হচ্ছে। এ দিন আইজি (প্রেসিডেন্সি রেঞ্জ) কঙ্করপ্রসাদ বারুই-সহ একাধিক উচ্চপদস্থ কর্তা ফাঁড়ি তৈরির কাজ খতিয়ে দেখেন। ইন্দ্রজিতের বাড়িতেও যান তাঁরা।

ধর্ষণ-খুন কাণ্ডে এখনও বহু ধন্দের মধ্যেই অমীমাংসিত রয়েছে রাজা-রহস্যও। ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিয়োয় দেখা গিয়েছিল, ধৃত প্রভাস (এনকাউন্টারে নিহত) ও আনন্দ ঘটনার জন্য রাজা নামে এক জনকে দায়ী করছে। পুলিশ ইতিমধ্যেই চার জনকে গ্রেফতার করলেও রাজা কে, সেই উত্তর মেলেনি। এর মধ্যেই সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে, মুখ্যমন্ত্রীর নির্দোষ ঘোষণা করা ইন্দ্রজিতেরই ডাক নাম রাজা। সে ঘটনায় জড়িত বলেই দাবি করা হয়। তবে ইন্দ্রজিতের বাবা, মা, বৌদিরা এ দিন জানান, ইন্দ্রজিতের ডাক নাম রাজা নয়। তার মৃত্যুতে দোষীদের শাস্তির দাবিও জানান তাঁরা।

এই প্রতিবেদনটি প্রথমে আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণে প্রকাশিত হয়েছে
Road safety chief minister

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy