ভূতনি: কোমর সমান জল। ত্রাণের নৌকা পৌঁছতেই জলে নেমে ত্রাণ সংগ্রহে ব্যস্ত সবাই। বৃহস্পতিবারও ত্রাণ নিয়ে হাহাকারের ছবি দেখা গিয়েছে মালদহের ভূতনির উত্তর চণ্ডীপুরে। বিপদের ঝুঁকি নিয়ে টিনের ডোঙা চালিয়ে ত্রাণ নিতে আসার পথে স্রোতের মুখে অসহায় হয়ে পড়েছিল বছর সাতেকের এক বালক। এলাকাবাসী কোনও মতে তাঁকে উদ্ধার করেন। যদিও এই আবহে ভূতনি নিয়ে রাজ্যের পঞ্চায়েতমন্ত্রী দিলীপ ঘোষের মন্তব্যে বেধেছে বিতর্ক। এ দিন বাঁকুড়ায় তিনি বলেন, ‘‘গঙ্গার মাঝে বসতি গড়লে, নদী খেপে উঠলে সমস্যা হবেই।’’
গঙ্গার জলস্তর এ দিন কিছুটা কমে ২৫.৬৫ মিটার হলেও চরম বিপদসীমার উপরেই ছিল। ভূতনির উত্তর ও দক্ষিণ চণ্ডীপুর এবং হীরানন্দপুরের বিস্তীর্ণ এলাকা এখনও প্লাবিত এবং ত্রাণ নিয়েও হাহাকার। উত্তর চণ্ডীপুরে কোমর-জলে নেমে ত্রাণ সংগ্রহ করতে দেখা যায় বহু মানুষকে।
উত্তর চণ্ডীপুর বিপি হাই স্কুলের সরকারি ত্রাণশিবিরে তিন ছেলেমেয়েকে নিয়ে বাস করা ন’মাসের অন্তঃসত্ত্বা দুলালি খাতুন বলেন, ‘‘শিবিরে শুধু দুপুরে রান্না করা খাবার দিচ্ছে। বিদ্যুৎ নেই। খাবার ভেপসে যাচ্ছে।’’ শিবিরে শিশুদেরও ঠিক মতো খাবার মিলছে না বলে অভিযোগ। ফতেমা খাতুন বলেন, ‘‘ছেলের বয়স দেড় বছর। শিবিরে দুধটুকুও দিতে পারছি না।’’ পর্যাপ্ত শৌচাগার না থাকার অভিযোগও রয়েছে। ত্রাণশিবিরে থাকা পক্ষাঘাতগ্রস্ত পঞ্চাশোর্ধ্ব আব্বাস আলির ক্ষোভ, ‘‘হুড়োহুড়ি করে ত্রাণ নেওয়ার ক্ষমতা নেই। এক বেলা রান্না করা যে খাবার পাচ্ছি, তা দিয়েই দুবেলা চালাচ্ছি।’’
দিলীপ ঘোষের ভূতনি নিয়ে মন্তব্যের প্রেক্ষিতে কংগ্রেস সাংসদ ইশা খান চৌধুরী বলেন, ‘‘ভূতনিবাসী বিপদে রয়েছেন। দিলীপবাবুর মতো মন্ত্রীর সংবেদনশীল মন্তব্য করা উচিত।’’ সিটুর জেলা সম্পাদক দেবজ্যোতি সিংহ বলেন, ‘‘দিলীপবাবুদের উচিত, ভূতনিতে এসে পরিস্থিতি দেখে মন্তব্য করা।’’ বিজেপির উত্তর মালদহের সাংসদ খগেন মুর্মু বলেন, ‘‘বাম আর তৃণমূল আমলে ভূতনিবাসী বন্যা দেখেছেন। এ বারের মতো ত্রাণ বা সরকারি ব্যবস্থা কখনও দেখেননি।’’