E-Paper
এই প্রতিবেদনটি প্রথমে আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণে প্রকাশিত হয়েছে

এসআইআর তথ্য নিয়ে কমিশনের দিকে আঙুল

বিহার ও পশ্চিমবঙ্গের এসআইআর নিয়ে মামলায় অন্যতম আইনজীবী কপিল সিব্বল অভিযোগ করেন, এখনও পর্যন্ত ট্রাইবুনালের ফয়সালা থেকে দেখা যাচ্ছে, ৯১ শতাংশ ক্ষেত্রে নাম বাদ দেওয়া ভুল হয়েছিল।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২৭ অগস্ট ২০২৬ ০৮:৫১

—প্রতীকী চিত্র।

পশ্চিমবঙ্গের এসআইআর ট্রাইবুনালে যত আবেদন জমা পড়েছে, তার মাত্র ২ শতাংশ মতো আবেদনের নিষ্পত্তি হয়েছে। তার মধ্যে ট্রাইবুনাল ৯১ শতাংশের বেশি ক্ষেত্রেই বিচারাধীন ব্যক্তির নাম ভোটার তালিকায় যোগ করার নির্দেশ দিয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের শুনানি ও তথ্যের অধিকার আইনে নির্বাচন কমিশনের দেওয়া পরিসংখ্যানে এই তথ্য উঠে আসায় এসআইআর নিয়ে মামলাকারী ও আইনজীবীরা সাংবাদিক সম্মেলন করে বুধবার অভিযোগ তুললেন, নির্বাচন কমিশন কেন্দ্রীয় সরকারের কথা মতো পশ্চিমবঙ্গে ভোটার তালিকা থেকে নাম দিয়েছে। সুপ্রিম কোর্টে মামলাকারী কংগ্রেস নেতা অধীররঞ্জন চৌধুরীর দাবি, নির্বাচন কমিশন কেন্দ্রীয় সরকারের কথাতেই পশ্চিমবঙ্গে আরও নাম বাদদিতে তৎপর।

বিহার ও পশ্চিমবঙ্গের এসআইআর নিয়ে মামলায় অন্যতম আইনজীবী কপিল সিব্বল অভিযোগ করেন, এখনও পর্যন্ত ট্রাইবুনালের ফয়সালা থেকে দেখা যাচ্ছে, ৯১ শতাংশ ক্ষেত্রে নাম বাদ দেওয়া ভুল হয়েছিল। তাঁর প্রশ্ন, ‘‘কারা বিএলও-দের এই সব নাম বাদ দিতে নির্দেশ দিয়েছিল? কোথা থেকে এই নির্দেশ এসেছিল? যন্তর মন্তরে ছররা বন্দুক, লাঠি, কাঁদানে গ্যাস চালানোর ঘটনায় আমরা অমিত শাহকে প্রশ্ন করছি, কে এই নির্দেশ দিয়েছিল? একই ভাবে ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদের ঘটনাতেও প্রশ্ন উঠছে, কে নাম কাটার নির্দেশ দিয়েছিলেন? এ ক্ষেত্রেও তদন্তের জন্য এসআইটি গঠনকরা উচিত।’’

কপিল সরাসরি মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের নাম করে বলেছেন, ‘‘আমার অভিযোগ, জ্ঞানেশ কুমার অসাধু উদ্দেশ্য নিয়ে ভোটারদের নাম কেটে বিজেপিকে সাহায্য করেছেন।’’ সিব্বলের যুক্তি, পশ্চিমবঙ্গে যে সব জায়গায় তৃণমূল, অন্য বিরোধীদের শক্ত ঘাঁটি ছিল, সেখানেই বিপুল নাম কাটা হয়েছে। নির্বাচন কমিশন যদি কেন্দ্রের নির্দেশ মতো চলে, সুপ্রিম কোর্ট যদি দেখেও না দেখে, তা হলে গণতন্ত্রের বিপদ। কমিশনের নীতি ছিল, এক জন অযোগ্যও যাতে ভোট দিতে না পারেন। সিব্বলের মতে, নীতি হওয়া উচিত ছিল, সমস্ত যোগ্য ভোটার যাতে ভোট দিতে পারেন।

কংগ্রেস সাংসদ ইশা খান চৌধুরীকে নির্বাচন কমিশনই জানিয়েছে, ট্রাইবুনালে প্রায় ৩৮ লক্ষ ১০ হাজার আবেদন জমা পড়েছে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী আগেই জানিয়েছিলেন, বিচারাধীন ভোটারদের থেকে বাদ যাওয়া ২৭ লক্ষের মধ্যে মাত্র ৭ লক্ষ ট্রাইবুনালে আবেদন করেছেন। তার ভিত্তিতে কংগ্রেস নেতা প্রসেনজিৎ বসুর আইনজীবী গোপাল শঙ্করনারায়ণন মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্টে বলেছিলেন, এর অর্থ নির্বাচন কমিশন প্রায় ৩১ লক্ষ নাম বাদ দেওয়ার আবেদন করেছে। অধীর বলেন, ‘‘ট্রাইবুনালে ৯৮ শতাংশ আবেদনের ফয়সালা হয়নি। সেই কাজের গতি না বাড়িয়ে নির্বাচন কমিশন আরও নাম বাদ দেওয়ার দরখাস্ত করেছে।রক্ষকই ভক্ষক।’’


এই প্রতিবেদনটি প্রথমে আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণে প্রকাশিত হয়েছে
SIR Election Commission

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy