এক সপ্তাহ হতে চলল। নেপালের বিপর্যয়ে এখনও নিখোঁজ রাজ্যের অনেকে। উদ্বিগ্ন পরিজন পুলিশ-প্রশাসন থেকে ভ্রমণ সংস্থার অফিসে ছুটছেন। অনেকে নেপাল গিয়েছেন। উঠছে ডিএনএ-পরীক্ষার কথা।
মান সরোবর দর্শনে নেপালে গিয়ে নিখোঁজ খড়্গপুরের অবসরপ্রাপ্ত রেলকর্মী স্বপনকুমার সিংহ। তাঁর পরিবার নেপাল দূতাবাস থেকে জারি হওয়া ডিএনএ নমুনা দেওয়ার বিজ্ঞপ্তি সমাজমাধ্যমে পেয়েছে। তবে কী উপায়ে সে নমুনা দেওয়া যাবে, অন্ধকারে তারা। মঙ্গলবার খড়্গপুর টাউন থানায় যোগাযোগ করেন স্বপনের বাড়ির লোক। পরে, দেখা করেন এসডিপিও (খড়্গপুর) সিদ্ধার্থ সিংহ ডাঙ্গির সঙ্গে। এসডিপিও বলেন, “ডিএনএ নমুনা সংগ্রহের বিষয়ে আমাদের কাছে সরকারি ভাবে কোনও বিজ্ঞপ্তি আসেনি।” কলকাতার যে ভ্রমণ সংস্থার মাধ্যমে স্বপন নেপালে গিয়েছিলেন, তাদের তরফে সোমবার রাতে খড়্গপুরের পরিবারটির সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। জানতে চাওয়া হয়, মঙ্গলবার তাঁদের কেউ নেপালে যেতে চান কি না। হুগলির চন্দননগরের প্রাক্তন শিক্ষিকা শিপ্রা রায় পাটারির দুই ছেলে নিলয় ও অনীক পাটারি আজ, বুধবার নেপালে যাচ্ছেন। বড় ছেলে নিলয় আমেরিকা থেকে ফিরেছেন।
শিলিগুড়ির শান্তিনগরের বাসিন্দা সমর মণ্ডলের পরিবারের সদস্যেরা কয়েক দিন ধরেই নেপালে রয়েছেন। সেখানে হাসপাতাল, পুলিশ সর্বত্র যোগাযোগ করেও কোনও তথ্য পাননি। চূড়ান্ত উৎকণ্ঠায় রয়েছেন সমরের বাবা, মা, স্ত্রী ও সন্তানেরা। বর্ধমানের দেওয়ানদিঘির সিমডালের সন্দীপকুমার গড়াইয়ের পরিবারের সদস্যেরাও নেপালে গিয়েছেন। মঙ্গলবার তাঁরা ফোনে জানান, বেশ কয়েকটি হাসপাতালে ঘুরেও খোঁজ পাননি সন্দীপের। পুলিশ এবং নেপালের ভারতীয় দূতাবাসের তরফে তাঁদের ডিএনএ-র নমুনা দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
উত্তরপাড়ার দম্পতি ক্ষিতীশচন্দ্র ও মমতা বিশ্বাসের আত্মীয় সমীর বারুই বলেন, ‘‘নিয়মিত পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছি। যদি কিছু খবর পাই। অনেকে ফিরেও আসছেন।’’ নেপালের রাসুয়ায় বিদ্যুৎ প্রকল্পে কর্মরত বাঁকুড়ার ইঁদপুরের অশোক পালের স্ত্রী জবা বলেন, “কাজের ফাঁকে রোজ ফোন করত। ভিডিয়ো-কলে ছেলের সঙ্গে খুনসুটি করত। সাত দিন সব বন্ধ। আড়াই বছরের ছেলেও বাবাকে দেখতে না পেয়ে ছটফট করছে।” মা লক্ষ্মীরানি জানান, ছেলে ফেরার আশায় রয়েছেন তিনি।
দুই ২৪ পরগনার পর্যটকদের অধিকাংশেরই খোঁজ মেলেনি। বীজপুরের শর্মিষ্ঠা ভৌমিক রায় থেকে ডায়মন্ড হারবারের কেয়া প্রামাণিক এবং মগরাহাটের মৌখালির মিতালি মণ্ডলের পরিবার উৎকণ্ঠায় রয়েছে। বসিরহাটের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক স্বপন ও তাঁর স্ত্রী মৌ মণ্ডলের ছেলে উষ্ণীষ বলেন, ‘‘বুধবার (আজ) কাঠমান্ডু যাব। মা-বাবাকে খুঁজে বার করার আপ্রাণ চেষ্টা করব।’’