চোরবাগানের ঘটনায় আহতদের কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল থেকে বেসরকারি হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা নিয়ে প্রশ্ন তোলা জুনিয়র চিকিৎসকদের চিহ্নিত করার নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। কর্তব্যরত অবস্থায় যদি তাঁরা সংবাদমাধ্যমের সামনে এসে ওই বক্তব্য রেখে থাকেন, তা হলে কড়া ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়টিও স্পষ্ট করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর কথায়, ‘‘ডিউটি ছেড়ে এসে নেতার মতো বক্তব্য দিয়েছেন। স্বাস্থ্যমন্ত্রী, স্বাস্থ্যসচিবকে বলেছি, ছবি দেখে চিহ্নিত করতে। ওই সময়ে ডিউটি ছিল কিনা, দেখতে হবে। মুখ্যমন্ত্রীর দফতরে রিপোর্ট দিতে বলেছি।’’
মুখ্যমন্ত্রীর এই নির্দেশের পরে প্রতিবাদ জানিয়েছে একাধিক চিকিৎসক সংগঠন। তাদের দাবি, এটা প্রতিহিংসামূলক আচরণ। যদিও মঙ্গলবার রাতে স্বাস্থ্য ভবনে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট বলেন, ‘‘প্রতিহিংসা নয়। যদি ডিউটি চলাকালীন বক্তব্য দিয়ে থাকেন, তা সার্ভিস রুলের পরিপন্থী। এটা জরুরি পরিষেবা। এতে মানবিকতা ও দায়বদ্ধতা, দুই-ই রয়েছে।’’ গত ১৭ অক্টোবর চোরবাগানের ঘটনায় আহতদের কলকাতা মেডিক্যাল থেকে বাইপাসের বেসরকারি হাসপাতালে পাঠানো হয়েছিল। কেন সেখানে রোগীদের পাঠানো হল, প্রয়োজনে কেন এসএসকেএমে নেওয়া হল না, তা নিয়ে এবং সরকারি হাসপাতালের পরিকাঠামো সম্পর্কে ওই রাতেই প্রশ্ন তুলেছিলেন জুনিয়র চিকিৎসকদের একাংশ। জরুরি বিভাগের উল্টো দিকে সাংবাদিক বৈঠক করেন তিন জন জুনিয়র চিকিৎসক। সঙ্গে আরও ১২-১৩ জন ছিলেন। এঁরা সকলেই ইন্টার্ন এবং মেডিক্যাল কলেজ ডেমোক্র্যাটিক স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের সদস্য।
সার্ভিস ডক্টর্স ফোরামের সাধারণ সম্পাদক, চিকিৎসক সজল বিশ্বাস বলেন, ‘‘চিকিৎসা ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা, পরিকাঠামোর অপ্রতুলতা, প্রশাসনিক অচলায়তন বা চিকিৎসকের অনুমতি ছাড়াই রোগীকে বাইরে নিয়ে যাওয়া হলে তার বিরুদ্ধে চিকিৎসকদের সরব হওয়া উচিত। ওই চিকিৎসকদের কারও উপরে শাস্তির খাঁড়া নামলে সাধারণ মানুষও সরব হবেন।’’ মুখ্যমন্ত্রীর হুঁশিয়ারির বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে মেডিক্যাল সার্ভিস সেন্টার দাবি করেছে, রোগীদের বেসরকারি হাসপাতালে পাঠানোর ফলে এশিয়ার প্রাচীন ওই সরকারি হাসপাতালের চিকিৎসকদের মর্যাদা ক্ষুণ্ণ হয়েছে। সংগঠনের সম্পাদক, চিকিৎসক বিপ্লব চন্দ্রের কথায়, ‘‘সরকারি থেকে বেসরকারিতে রোগী পাঠানো নজিরবিহীন ঘটনা। সেখানে প্রশ্ন তুলে চিকিৎসককে শাস্তির মুখে ফেলার অর্থ, বাক্-স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ।’’
রোগীদের পরিজনেরাই বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যেতে বলেছিলেন বলে দাবি স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায়ের। তাঁর কথায়, ‘‘সরকারি থেকে বেসরকারিতে রেফার করা হয়েছে, এই দাবি ঠিক নয়। আহতদের পরিজনেরা যেমন চেয়েছিলেন, তেমন ব্যবস্থা করা হয়েছে। স্থানান্তর ও রেফার এক নয়।"