কলকাতা ও হাওড়া পুর-নিগমের ওয়ার্ড সংখ্যা বাড়াতে জোড়া সংশোধনী বিল পাশ করার লক্ষ্যে এক দিনের অধিবেশন বসছে বিধানসভায়। সেই সঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেসের সরকারের শেষ লগ্নে গত ফেব্রুয়ারি মাসে হাওড়া পুর-নিগম আইনে যে সংশোধনী আনা হয়েছিল, সেই আইনটিও প্রত্যাহার করে নেওয়া হবে আজ, বুধবার। জোড়া বিল পেশের আগে পুরনো সংশোধনীটি প্রত্যাহারের প্রস্তাব বিধানসভায় পেশ করার কথা রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পালের।
এ বারের বিধানসভায় অন্য বারের চেয়ে অনেক বেশি সংখ্যায় নতুন বিধায়ক জিতে এসেছেন। বিধানসভার স্থায়ী ও হাউজ় কমিটিগুলির চেয়ারপার্সন পদে যাঁরা এসেছেন, তাঁদের অনেকেই এ বারই প্রথম ওই দায়িত্ব পেয়েছেন। সূত্রের খবর, কমিটির চেয়ারম্যানদের জন্য প্রশিক্ষণ শিবির করা যায় কি না, সেই প্রস্তাব বিবেচনা করা হচ্ছে। কমিটির চেয়ারম্যানদের মঙ্গলবার বিধানসভায় বৈঠকে ডেকেছিলেন স্পিকার রথীন্দ্রনাথ বসু। কয়েকটি কমিটির কাজও শুরু হয়ে গিয়েছে। রাজ্যের বিভিন্ন সংশোধনাগারে এইচআইভি আক্রান্তের সন্ধান মেলার যে তথ্য পাওয়া যাচ্ছে, নবগঠিত স্বরাষ্ট্র বিষয়ক স্থায়ী কমিটিতে সেই বিষয়ে দৃষ্টি আকর্যণ করা হয়েছে বলে পরিষদীয় সূত্রের খবর।
সূত্রের খবর, অধিবেশন শুরুর আগে এ দিন বিধানসভার কার্য উপদেষ্টা (বি এ) কমিটির বৈঠকে ক্ষুদিরাম বসুর ‘আত্মবলিদান দিবস’ উপলক্ষে নীরবতা পালন করা হয়েছে। বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় বিধানসভা ভবনে ক্ষুদিরামের তৈলচিত্র বসানোর প্রস্তাব দিয়েছেন, যা বিবেচনার আশ্বাস দিয়েছেন স্পিকার। পাশাপাশিই, দীর্ঘ টানাপড়েন কাটিয়ে প্রাক্তন বিধায়কদের পেনশন বাড়তে চলেছে বলে ইঙ্গিত মিলছে। পরিষদীয় দফতর থেকে এই সংক্রান্ত একটি প্রস্তাব অনুমোদন ও পর্যালোচনার জন্য অর্থ দফতরে পাঠানো হয়েছে। প্রশাসনিক সূত্রের খবর, নতুন এই প্রস্তাবে প্রাক্তন বিধায়কদের ন্যূনতম পেনশন ১২ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ পেনশন ২৫ হাজার টাকা ঠিক করার কথা বলা হয়েছে। পেনশন বা অবসরকালীন ভাতার পুরো হিসেব নির্ভর করবে সংশ্লিষ্ট প্রাক্তন বিধায়ক কত বার নির্বাচনে জিতেছেন, তার উপরে।
প্রাক্তন বিধায়কদের কল্যাণ সমিতি একাধিক বার বিধায়কদের অবসরকালীন ভাতা বাড়ানোর দাবি তুলেছে। এখন এই রাজ্যে পেনশন ও চিকিৎসা ভাতা মিলিয়ে তিন ধাপে সর্বোচ্চ ১৮ হাজার টাকা পান প্রাক্তন বিধায়কেরা। তিন স্তরে মাসিক পেনশনের পরিমাণ ৮, ১০ ও ১২ হাজার টাকা। তার সঙ্গে দেওয়া হয় ৬ হাজার টাকা করে চিকিৎসা ভাতা। অর্থাৎ নতুন প্রস্তাব কার্যকর হলে দুই ধরনের ভাতা মিলিয়ে প্রাক্তন বিধায়কের ন্যূনতম পাওনা হতে পারে ১৮ হাজার এবং সর্বোচ্চ ৩১ হাজার টাকা। অন্যান্য অনেক রাজ্যেই এই ভাতার পরিমাণ মাসে ৪০ থেকে ৫০ হাজার টাকা। প্রাক্তনদের ভাতা বাড়ানোর জন্য স্পিকারকে আর্জি জানিয়েছেন বিরোধী দলনেতা ঋতব্রতও। প্রশাসনিক সূত্রে অবশ্য বলা হচ্ছে, ‘‘বিষয়টি বিবেচনার স্তরে আছে। সিদ্ধান্ত এখনও চূড়ান্ত হয়নি।’’