বৃষ্টিতে দেওয়াল ধসে প্রাণ গেল বাঁকুড়ার তিন জনের। জল ছাড়া বেড়েছে বিভিন্ন জলাধার থেকে। জল জমেছে বহু এলাকায়। জল ঢোকার আশঙ্কা থাকায় সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়াও শুরু হয়েছে।
প্রবল বৃষ্টিতে বাঁকুড়ার সিমলাপালের কুশতোড়া গ্রামে কাঁচাবাড়ির দেওয়াল চাপা পড়ে এক দম্পতির মৃত্যু হয়। বুধবার সকালে পুলিশ মাটির স্তূপ সরিয়ে পালকু বাস্কে (৩৪) ও তাঁর স্ত্রী সোমা বাস্কেকে (২৮) উদ্ধার করে। দম্পতি মারা যাওয়ায় দেহ দু’টি ময়না তদন্তের জন্য বাঁকুড়া মেডিক্যালে পাঠানো হয়েছে। মঙ্গলবার রাতে মাটির দেওয়াল ধসে বাঁকুড়ারই সোনামুখীতে মৃত্যু হয় বেলি রুইদাসের (৭৬)। বীরভূমের খয়রাশোলে ১০টি মাটিরবাড়ি ভেঙেছে।
ডিভিসি-র মাইথন জলাধার থেকে এ দিন ৫৫ হাজার কিউসেক এবং পাঞ্চেত জলাধার থেকে ৬৫ হাজার কিউসেক হারে জল ছাড়া হয়। দুর্গাপুর ব্যারাজ থেকে রাতে ১ লক্ষ ১০ হাজার ৫২৫ কিউসেক হারে (বিকেলে ১ লক্ষ ১৪ হাজার ৪০০ কিউসেক হারে) জল ছাড়া হয়। বাঁকুড়ার মুকুটমণিপুর জলাধার থেকে ১৫ হাজার কিউসেক হারে জল ছাড়া হয়েছে। সেচ দফতর জানাচ্ছে, ঝাড়খণ্ডে ভারী বৃষ্টির জেরে টটকো নদীতে জলস্তর বাড়ছে। ফলে, পুরুলিয়ার বান্দোয়ানের টটকো জলাধার থেকে রাতে জল ছাড়ার পরিমাণ বাড়তে পারে।
দুর্গাপুর ব্যারাজ, মুকুটমণিপুরে কংসাবতীর জলাধারের ছাড়া জলে মঙ্গলবার নতুন করে ঘাটালের সব নদ-নদীর জলস্তর প্রাথমিক বিপদসীমার কাছাকাছি পৌঁছেছে। ঘাটাল শহরের একাধিক ওয়ার্ড-সহ ব্লকের নিচু এলাকা ফের জলমগ্ন। টানা বৃষ্টিতে আসানসোলের রেলপাড় এলাকার নানা জায়গা ডুবে গিয়েছে। বারাবনির একটি রাস্তায় ধস নেমেছে।
আবহাওয়া দফতরের তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৮টা থেকে বুধবার বিকেল সাড়ে ৫টা পর্যন্ত শুধু বোলপুর শহর এলাকায় ২৯৩.০৭ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। ফলে, কোপাই নদী, অজয় নদের জল বেড়েছে। বোলপুর শহরের বেশ কিছু ওয়ার্ড জলমগ্ন। কয়েকশোমানুষ ঘরবন্দি।
আজ, বৃহস্পতিবার দুপুরে দামোদর হয়ে হুগলি, এবং হাওড়ায় পৌঁছনোর কথা ডিভিসি-র ছাড়া জল। তাতে হুগলির আরামবাগ মহকুমা, হাওড়ার উদয়নারায়ণপুর ও আমতা ২ ব্লকে বন্যা পরিস্থিতির আশঙ্কা রয়েছে। তা নিয়ে সংশ্লিষ্ট এলাকায় মাইকে প্রচার চলে বুধবার। নিচু এলাকার বাসিন্দাদের উঁচু জায়গায় সরার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। সম্ভাব্য বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় এ দিন প্রশাসনিক ভিডিয়ো-বৈঠকের পরে, হুগলির জেলাশাসক খুরশিদ আলি কাদরি জানান, স্বাস্থ্য, বিপর্যয় মোকাবিলা, সেচ-সহ সমস্ত দফতর সতর্ক রয়েছে। আসন্নপ্রসবাদের নিরাপদ জায়গায় সরানো হচ্ছে। বিভিন্ন নদ-নদীর ফেরিঘাট আপাতত দু’দিন বন্ধ থাকবে। বুধবার উদয়নারায়ণপুরে বন্যা মোকাবিলা ব্যবস্থা পরিদর্শন করেন মহকুমাশাসক (উলুবেড়িয়া) মানসকুমার মণ্ডল। কটালের জেরে হাওড়ার উলুবেড়িয়ায় হুগলি নদীর জলও বেড়েছে। উলুবেড়িয়া পুরসভার তরফে নদীর ধারে নিচু এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদ জায়গায় যাওয়ার আবেদন জানিয়ে প্রচার করা হয়। আমতার বিজেপি বিধায়ক অমিত সামন্ত বলেন, ‘‘প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় রেখে চলছি। বন্যা পরিস্থিতি হলে মোকাবিলায় ঘাটতি থাকবে না।’’