আসল তৃণমূল কে? দলের জোড়াফুল প্রতীকই বা কার দখলে থাকবে? তা নিয়ে ফয়সালা করতে আগামী ১২ সেপ্টেম্বর, শনিবার দুই শিবিরকেই ডেকে পাঠাল নির্বাচন কমিশন। দিল্লিতে ইন্ডিয়া ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ ডেমোক্রেসি অ্যান্ড ইলেকশন ম্যানেজমেন্ট (আইআইআইডিইএম)-এ বৈঠক হবে। দুই শিবিরের পাঁচ জন করে প্রতিনিধিকে সেখানে হাজির থাকতে বলা হয়েছে।
নির্বাচন কমিশনের তরফে বুধবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে চিঠি দেওয়া হয়েছে। ঋতব্রতের শিবিরের পাঁচ সদস্যের প্রতিনিধিদলকে বৈঠকের জন্য ডাকা হয়েছে শনিবার বেলা ১১টায়। মমতার শিবিরকে সময় দেওয়া হয়েছে ঠিক এক ঘণ্টা পর, বেলা ১২টায়। চিঠিতে বলা হয়েছে, দুই শিবিরকেই তাদের প্রতিনিধিদলের সদস্যদের নাম এবং গাড়ির বিস্তারিত তথ্য ইমেলের মাধ্যমে কমিশনকে জানাতে হবে।
২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের ভরাডুবির পরেই দলের অন্দরে ভাঙন স্পষ্ট হয়ে গিয়েছিল। কালীঘাটের সঙ্গে দূরত্ব রচনা করে অনেকেই ঋতব্রতের নেতৃত্বে পৃথক শিবিরে যোগ দেন। মমতা এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্ব অস্বীকার করেন তাঁরা। বিধানসভাতেও তৃণমূলের সংখ্যাগরিষ্ঠ জয়ী বিধায়ক ঋতব্রতের সঙ্গে হাত মিলিয়েছেন। বিরোধী দলনেতা হয়েছেন ঋতব্রত স্বয়ং। তাঁরা দাবি করছেন, তাঁরাই আসল তৃণমূল, কারণ সংখ্যাগরিষ্ঠের সমর্থন তাঁদের কাছে রয়েছে। তবে কালীঘাট শিবিরও দলের নিয়ন্ত্রণ কিংবা প্রতীক ছাড়তে নারাজ। তাঁদের বক্তব্য, দল তৈরি করেছেন মমতা। তাঁর নামকে সামনে রেখেই প্রার্থীরা ভোটে লড়েছেন এবং জয়ী হয়েছেন। তাই তাঁকে অস্বীকার করা বেআইনি। এই সংক্রান্ত সমস্যার সমাধান চেয়ে দুই শিবিরই নির্বাচন কমিশনকে চিঠি দিয়েছিল।
দুই শিবিরের কাছে প্রথমে ব্যাখ্যা চেয়েছিল কমিশন। কালীঘাটপন্থীরা ব্যাখ্যা দেন। সময় চেয়েছিলেন ঋতব্রতেরা। তার মধ্যেই রাজ্যে জোড়া উপনির্বাচনের দিন ঘোষণা হয়ে যায়। পূর্ব মেদিনীপুরের নন্দীগ্রাম ও মুর্শিদাবাদের রেজিনগরে উপনির্বাচন হবে আগামী ৬ অক্টোবর। তার ভোটগণনা রয়েছে ৯ অক্টোবর। মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষ তারিখ ১৬ সেপ্টেম্বর। তৃণমূলের দুই শিবিরই উপনির্বাচনে প্রার্থী দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। কিন্তু একই দলের নামে, একই প্রতীকে দু’জন প্রার্থীর ভোটে লড়া সম্ভব নয়। তাই দিল্লিতে এই সমস্যা নিয়ে আলোচনার জন্যই দুই শিবিরকে বৈঠকে ডাকল কমিশন। এ প্রসঙ্গে কালীঘাটপন্থী সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ব্যাখ্যা, উপনির্বাচনের জন্য আদর্শ আচরণবিধি জারি হয়ে গিয়েছে। এখন প্রার্থী ঘোষণা করে প্রচার শুরু করতে আর বাধা নেই। মমতার হাতে প্রতীক দেওয়ার অধিকার ছিল। কমিশন এত দিন কোনও নির্দেশ না দেওয়ায় এখন আর তা সম্ভব নয়।