পুরসভায় নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় জামিনের আবেদন খারিজ করেছিল কলকাতা হাই কোর্ট। উচ্চ আদালতের ওই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টে গেলেন রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী সুজিত বসু। দ্রুত শুনানির আবেদন করেন তিনি। তবে পুজোর আগে তাঁর মামলার শুনানি হচ্ছে না। দুর্গাপুজোর পরে সুপ্রিম কোর্ট খুললে মামলার শুনানি হবে।
পুরসভার নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় সুজিতকে গ্রেফতার করেছিল ইডি। গ্রেফতারিকে চ্যালেঞ্জ করে জামিন চেয়ে তিনি হাই কোর্টে মামলা করেন। গত ১৩ অক্টোবর তাঁর আবেদন খারিজ করে দেয় হাই কোর্ট। বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষ রায় ঘোষণা করে জানান, তদন্তের বর্তমান অবস্থায় জামিন দেওয়া যাবে না প্রাক্তন মন্ত্রীকে।
গত ১১ মে সুজিতকে গ্রেফতার করেছিল কেন্দ্রীয় সংস্থা। পুরনিয়োগ দুর্নীতি মামলায় তদন্তে দক্ষিণ দমদম পুরসভায় বেআইনি ভাবে চাকরিপ্রাপকদের নাম সুপারিশ করার অভিযোগ রয়েছে সুজিতের বিরুদ্ধে। প্রাক্তন মন্ত্রীর জামিনের আর্জিটি প্রথমে বিচারাধীন ছিল বিচারপতি শুভ্রা ঘোষের এজলাসে। গত ১৭ অগস্ট সুজিতের আবেদনের শুনানি শেষে রায়দান স্থগিত রাখেন তিনি। বিচারপতি শুভ্রা ঘোষ মামলা থেকে অব্যাহতি নিলে সুজিতের জামিন মামলাটি যায় বিচারপতি ঘোষের কাছে। তিনি জামিনের আর্জি খারিজ করে দেন।
আরও পড়ুন:
ইডি সূত্রের দাবি, দক্ষিণ দমদম পুরসভায় বেআইনি ভাবে চাকরিপ্রাপকদের তালিকায় কমবেশি ১৫০ জন চাকরিপ্রার্থীর নাম ছিল। দুর্নীতির মাধ্যমে উপার্জিত টাকা রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রীর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে গিয়েছে বলে মনে করছে ইডি। যদিও এর আগে মামলার শুনানিতে সুজিতের আইনজীবী অভিষেক মনু সিঙ্ঘভি সওয়াল করেছিলেন, তাঁর মক্কেলকে ‘অনৈতিক ভাবে’ জেলে আটকে রাখা হয়েছে। সিঙ্ঘভির সওয়াল ছিল, “পুরনিয়োগ দুর্নীতির তদন্ত শেষ হয়ে গিয়েছে। তার পরেও জেলে আটকে রাখার বিষয়টি অনৈতিক। ইডি এই গ্রেফতারি ‘জাস্টিফাই’ (যুক্তিসঙ্গত বলে দাবি) করতে পারে না।”