নেপালের বিপর্যয়ে নিখোঁজ পশ্চিবঙ্গের আর কারও খোঁজ নতুন করে মেলেনি। তাঁদের কারও পরিজন নেপালে পৌঁছেছেন, কেউ ডিএনএ পরীক্ষার আর্জি জানাচ্ছেন।
চন্দননগরের হরিদ্রাডাঙার শিপ্রা রায় পাটারির খোঁজে বুধবার বিকেলে কাঠমান্ডু পৌঁছেছেন তাঁর দুই ছেলে নিলয় ও অনীক। শিপ্রার দেওর বাবলু পাটারি বলেন, ‘‘বৌদির কোনও খবর প্রশাসনের থেকে মেলেনি।’’ ভ্রমণ সংস্থার টুর ম্যানেজার, তারকেশ্বরের জয়ন্ত সান্যালের মা বন্দনা সান্যালেরও আক্ষেপ, ‘‘ছেলেটা কোথায় গেল, কেউ বলতে পারছে না!’’
বসিরহাটের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক দম্পতি স্বপন মণ্ডল ও মৌ মণ্ডলের ছেলে উষ্ণীষ বুধবার কাঠমান্ডু গিয়েছেন। তাঁদের প্রতিবেশী সায়নী মণ্ডল বলেন, ‘‘রোজ ওঁদের ফোন করি, কিন্তু ফোন বন্ধ পাই।’’ গিয়েছেন বর্ধমানের দেওয়ানদিঘির সন্দীপকুমার গড়াইয়ের খোঁজে পরিবারের চার সদস্য। বুধবার তাঁরাও কাঠমান্ডুতেই রয়েছেন বলে জানান। তবে কোনও খবর পাননি। দুর্গাপুরের পাঁচ পর্যটকেরও খোঁজ নেই। ডায়মন্ড হারবার মহকুমার দুই নিখোঁজ শিক্ষিকা কেয়া প্রামাণিক এবং মিতালি মণ্ডলের পরিজন প্রশাসনের দিকে তাকিয়ে।
খড়্গপুর শহরের অবসরপ্রাপ্ত রেলকর্মী স্বপনকুমার সিংহের পরিজন দূতাবাস, ভ্রমণ সংস্থা থেকে প্রশাসনের কাছে গিয়েও কোনও খবর পাননি। বুধবার তাঁরা তাই মহকুমাশাসকের মাধ্যমে ডিএনএ-র নমুনা দেওয়ার আবেদন জানিয়েছেন পশ্চিম মেদিনীপুরের জেলাশাসককে। স্বপনের দাদা মিলনকুমার সিংহ বলেন, “ভাই ফিরবে বলে আশা রাখছি। কিন্তু বাস্তব হয়তো অন্য রকম। তাই ডিএনএ পরীক্ষার নমুনা দিতে নিজেদের তাগিদে ছুটছি। ডিএনএ মিলিয়ে যদি কিছু পাওয়া যায়!” জেলাশাসক বিজিন কৃষ্ণ বলেন, “আবেদন পেয়েছি। রাজ্যের সঙ্গে কথা বলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা করছি।”
বাঁকুড়ার ইঁদপুরের অশোক পাল নেপালের রাসুয়ায় বিদ্যুৎ প্রকল্পে কর্মরত ছিলেন। বুধবার সে সংস্থার তরফে পরিবারকে জানানো হয়েছে, বিপর্যয়ের দিন অশোকের মোবাইলের শেষ ‘টাওয়ার লোকেশন’ মিলেছে ত্রিশূলী এলাকায়। অশোকের বাবা মুক্তারাম বলেন, ‘‘সংস্থার তরফে বলেছে, উদ্ধারের কাজ চলছে। জানি না, কী খবর আসবে!’’