E-Paper
এই প্রতিবেদনটি প্রথমে আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণে প্রকাশিত হয়েছে

তোলাবাজিতে অখুশি স্বপন

অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘‘এই মুহূর্তে ধার রয়েছে ৮ লাখ কোটি টাকা। সরকারের প্রধান আয় মদের উপর শুল্ক থেকে। শক্তিশালী আর্থিক কাঠামো তৈরি করতে হলে অন্যান্য ক্ষেত্র থেকেও কর আদায় বাড়াতে হবে।’’

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২৪ অগস্ট ২০২৬ ০৯:০২
অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত।

অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত। — ফাইল চিত্র।

আরও এক প্রজন্মের যুবসমাজকে যাতে রাজ্য ছেড়ে সুযোগের সন্ধানে বাইরে যেতে না হয়, তা নিশ্চিত করতে বাংলাকে দশকের পর দশক ধরে চলা নেতিবাচক মনোভাব ঝেড়ে ফেলে গুরুত্বপূর্ণ বিনিয়োগ টানতে হবে এবং রাজ্যের শিক্ষাব্যবস্থাকে নতুন করে গড়তে হবে। আজ দিল্লির এক সম্মেলনে দেওয়া বক্তৃতায় এ কথা জানিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত। পাশাপাশি এ কথাও জানিয়েছেন, এখনও রাজ্যে তোলাবাজি চলছে, যাতে তিনি খুশি নন।

নয়াদিল্লির চিত্তরঞ্জন ভবনের ওই অনুষ্ঠানে রাজ্যের অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘‘পশ্চিমবঙ্গ প্রায় পাঁচ দশক ধরে স্থায়ী হতাশার মেজাজে ঢুকে রয়েছে। দেশের অর্থনৈতিক বৃদ্ধির ভাষ্যে এ রাজ্যের যেন কোনও প্রাসঙ্গিকতাই আর নেই। আজ প্রশ্ন উঠছে, পশ্চিমবঙ্গ কি এখনও প্রাসঙ্গিক? দেশের বাকি অংশের থেকে আমরা অনেকটাই পিছিয়ে পড়েছি নানা ক্ষেত্রে।’’ তাঁর বক্তব্য, কলকাতায় বিশেষ করে এই হতাশার ছবি ফুটে উঠছে। শহরের একাংশ ক্রমশ অবসরপ্রাপ্তদের ঠিকানা হয়ে উঠেছে, শিল্প বা শিক্ষাকেন্দ্র না হয়ে। অর্থমন্ত্রীর কথায়, ‘‘জঙ্গি শ্রমিক ইউনিয়ন বিনিয়োগকারীদের কাছে রাজ্যের ভাবমূর্তি ভঙ্গুর করেছে। তোলাবাজি এখনও চলছে এবং আমি এতে খুশি নই। এটা রাজ্যের ডিএনএ হতে পারে না।’’ তাঁর মতে, বিনিয়োগের ক্ষেত্রে জমি পাওয়া আরও এক অন্তরায়। তিনি বলেন, ‘‘কৃষিজমি এতটাই ভাগ করে টুকরো টুকরো করে দেওয়া হয়েছে যে, কোনও প্লট আর নেই। সব রুমালের মতো ছোট ছোট হয়ে গিয়েছে!’’

বাঙালি উদ্যোগপতিদের হাতে পুঁজির অভাবের দিকটিকেও আজ তাঁর বক্তৃতায় তুলে ধরেছেন স্বপনবাবু। বলেছেন, ‘‘দুর্ভাগ্যজনক ভাবে বাঙালিদের হাতে পুঁজি নেই। যদিও বাংলার অন্যান্য সম্প্রদায়ের ব্যাবসায়ীদের হাতে বিনিয়োগের মতো সম্পদ রয়েছে। তবে শুধু মাত্র বিনিয়োগ টানাটাই এই মুহূর্তে চ্যালেঞ্জ নয়। বাঙালি উদ্যোগপতিদের মানসিকতার পরিবর্তনও জরুরি। স্থানীয় ছোট ও মাঝারি উদ্যোগকে বড় পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার মানসিকতা তৈরি করতে হবে। এই মানসিক পরিবর্তন আনাটাও একটা বড় চ্যালেঞ্জ।’’ পশ্চিমবঙ্গের ভাঁড়ারের করুণ অবস্থার কথা তুলে ধরে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘‘এই মুহূর্তে ধার রয়েছে ৮ লাখ কোটি টাকা। সরকারের প্রধান আয় মদের উপর শুল্ক থেকে। শক্তিশালী আর্থিক কাঠামো তৈরি করতে হলে অন্যান্য ক্ষেত্র থেকেও কর আদায় বাড়াতে হবে।’’

এই প্রতিবেদনটি প্রথমে আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণে প্রকাশিত হয়েছে
Swapan Dasgupta Finance Minister

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy