বিজেপি সরকারের সদ্য চালু হওয়া ‘কন্যারত্ন’ প্রকল্পে ছাত্রীদের মাথাপিছু বার্ষিক আর্থিক সহায়তা আগের থেকে দ্বিগুণ করার সিদ্ধান্ত নিল রাজ্য সরকার। একই সঙ্গে উচ্চশিক্ষায় ৫০ হাজার টাকা আর্থিক সহায়তা এবং জাতীয় স্তরে বা বিদেশে ডাক্তারি-সহ উচ্চতর শিক্ষার ক্ষেত্রে স্বামী বিবেকানন্দের নামে ১০০ কোটি টাকার একটি তহবিল তৈরির কথা ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। শুক্রবার ‘কন্যারত্ন দিবস’ সংক্রান্ত অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী জানান, কেন্দ্রের ‘বেটি বাঁচাও, বেটি পড়াও’ এবং ‘পালনা’ কর্মসূচির সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে পশ্চিমবঙ্গ। ছাত্রীদের জরুরি সহায়তা হিসাবে হেল্পলাইন পরিষেবা নম্বরও (১৮১) চালু করেছে নবান্ন।
প্রশাসনের অন্দরমহল জানাচ্ছে, বিগত সরকারের আমলে ‘কন্যাশ্রী’ প্রকল্পে বার্ষিক মাথাপিছু এক হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা পেত স্কুলের ছাত্রীরা। বিজেপি সরকারের ‘কন্যারত্ন’ প্রকল্পে বার্ষিক মাথাপিছু আর্থিক সহায়তার সেই পরিমাণ বেড়ে হচ্ছে দু’হাজার টাকা। আগামী শিক্ষাবর্ষ (২০২৭) থেকে এই সুবিধা কার্যকর হবে। কলেজ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীদের কারও অর্থাভাবে উচ্চশিক্ষা মাঝপথে বন্ধ যাতে না হয়, তা নিশ্চিত করতে এককালীন ৫০ হাজার টাকার আর্থিক সহায়তাও এ দিন ঘোষণাকরা হয়েছে।
৬০ শতাংশের বেশি নম্বর পেয়ে যাঁরা পাশ করবেন, তাঁদের জন্য ‘স্বামী বিবেকানন্দ মেরিট স্কলারশিপ’ প্রকল্পে আর্থিক সুবিধাও দেবে রাজ্য। মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণা, ‘স্বামী বিবেকানন্দ তহবিলের’ আওতায় ১০০ কোটি টাকা ধরা থাকবে। তা দিয়ে জাতীয় বা বিদেশে উচ্চতর শিক্ষার প্রশ্নে সহায়তা দেওয়া হবে।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘‘আমাদের সরকার বিদ্যাসাগর মহোদয়ের ভাবনায় নারী শিক্ষার প্রসার, নারীর ক্ষমতায়ন এবং নারী সুরক্ষায় অঙ্গীকারবদ্ধ।’’ তাঁর সংযোজন, ‘‘আমাদের বাজেটে কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে মহিলাদের অগ্রাধিকার দেওয়া, নারী শিক্ষা, মহিলা কলেজ, বিদ্যালয় সংখ্যা বৃদ্ধি, উচ্চশিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করতে অর্থনৈতিক সুরক্ষার ঘোষণা ছিল। আমরা চাই, ছাত্রীরা, কন্যারা শিক্ষা এবং সমাজকে আরোও বেশি শক্তপোক্ত, মজবুত করার ক্ষেত্রে অগ্রণী ভূমিকা নিন। দেশপ্রেম, রাষ্ট্রবাদ, জাতীয়তাবাদ তার জাগরণের ক্ষেত্রে আমাদের কন্যারা আগামী দিনে মা মাতঙ্গিনী হাজরার ভূমিকাগ্রহণ করুন।’’
বিগত সরকারের কর্মসূচি এ বছর চালু রেখেছে বিজেপি সরকার। তাতে এ বার আর্থিক সুবিধা পাচ্ছেন ২০ লক্ষের বেশি পড়ুয়া। স্কুলগুলি যাচাই করে যে তথ্য দিয়েছে, তার ভিত্তিতে এ দিনই ১০.৭৭ লক্ষ পড়ুয়ার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠানো হয়েছে। তাদের মধ্যে ৯. ৪৮ লক্ষ পেয়েছেন এক হাজার টাকা করে এবং ১.২৯ লক্ষ পেয়েছেন একাকালীন ২৫ হাজার টাকা করে। বাকিদের যাচাই-নথি জমা পড়লে যোগ্যদের বরাদ্দ পাঠাবে রাজ্য। সব মিলিয়ে এর মোট পরিমাণ প্রায় ৪১৮ কোটি টাকা।
শুভেন্দু বলেন, ‘‘বেটি বাঁচাও, বেটি পড়াও প্রকল্প সব রাজ্যে চালু থাকলেও, পশ্চিমবঙ্গ এতদিন তাতে যুক্ত ছিল না। নতুন ব্যবস্থার মধ্য দিয়ে আমরা আমাদের কন্যাদের সব প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত করলাম,তাদের পাশে থাকার অঙ্গীকার করলাম।’’