E-Paper
এই প্রতিবেদনটি প্রথমে আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণে প্রকাশিত হয়েছে

শুভেন্দুর গতিতে পেরে উঠি না, মন্তব্য শাহের

উত্তরবঙ্গে কর্মসূচি সেরে কলকাতায় এসেছিলেন শাহ। রাজ্য সরকারের অতিথি নিবাস ‘সৌজন্যে’র প্রেক্ষাগৃহে মুখ্যমন্ত্রীর নেতৃত্বে প্রশাসনিক কর্তাদের সঙ্গে তিনি বৈঠক সেরেছেন আইনশৃঙ্খলা নিয়ে।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২০ জুলাই ২০২৬ ০৭:৫১
কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের উপস্থিতিতে রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও সীমান্তবর্তী এলাকা নিয়ে বিশেষ বৈঠকে

কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের উপস্থিতিতে রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও সীমান্তবর্তী এলাকা নিয়ে বিশেষ বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী, মুখ্যসচিব ও অন্যান্য আধিকারিকেরা। ‘সৌজন্যে’র সভাঘরে। ছবি: সংগৃহীত।

মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার আগে থেকেই শুভেন্দু অধিকারীর মাথায় তাঁর হাত। এ বারের বিধানসভা নির্বাচনের আগেও তৎকালীন বিরোধী দলনেতার উপরে বাড়তি ভরসা রেখেছেন, রাজ্যে বিজেপির সরকার গঠনের পরেও সেই ধারা বজায় আছে। এ বার পশ্চিমবঙ্গে ‘আমূল’ সংস্থার কারখানার ভার্চুয়াল শিলান্যাসের অনুষ্ঠানে এসে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর কাজের গতির প্রশংসা শোনা গেল কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর মুখে। নিউ টাউন কনভেনশন সেন্টারে রবিবার অমিত শাহ বললেন, ‘‘শুভেন্দু’জি এত দ্রুত কাজ করছেন যে, তাঁর সঙ্গে পাল্লা দিতে আমিও পেরে উঠি না! তাঁর যে গতি দেখছি, বাংলার ঘুরে দাঁড়াতে সময় লাগবে না। বিজেপির ডবল ইঞ্জিন সরকার বাংলাকে ‍যে পর্যায়ে নিয়ে যাবে, কয়েক মাস পর থেকেই রাজ‍্যের মানুষ বুঝতে পারবেন।’’

উত্তরবঙ্গে কর্মসূচি সেরে কলকাতায় এসেছিলেন শাহ। রাজ্য সরকারের অতিথি নিবাস ‘সৌজন্যে’র প্রেক্ষাগৃহে মুখ্যমন্ত্রীর নেতৃত্বে প্রশাসনিক কর্তাদের সঙ্গে তিনি বৈঠক সেরেছেন আইনশৃঙ্খলা নিয়ে। তার পরে জাতীয় গ্রন্থাগারে একটি অনুষ্ঠান সেরে শাহ গিয়েছিলেন নিউ টাউনের কনভেনশন সেন্টারে। রাজ্য সরকারের কাজের প্রশংসার পাশাপাশি সেখানে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, ‘‘এর আগে আমি তিন বার এই সভাকক্ষে এসেছিলাম। তখন রাজ‍্যে আসার জন‍্য লড়াই চলছিল। কিন্তু এ বার আমি ধন্যবাদ জানাতে এসেছি।’’

নির্বাচনের আগে বিজেপির গুচ্ছ প্রতিশ্রুতির মধ্যে অন্যতম ছিল পশ্চিমবঙ্গের সীমান্তকে ‘নিশ্ছিদ্র’ করা। শাহই বলেছিলেন, বিজেপির সরকার এলে সীমান্ত পেরিয়ে মানুষ তো পরের কথা, পাখিও গলতে পারবে না। ক্ষমতায় আসার পরে সীমান্তে কাঁটাতার দেওয়ার জন্য বিএসএফ-কে জমি হস্তান্তরের কাজ রাজ্য ইতিমধ্যে শুরু করে দিয়েছে। এই আবহেই এ দিন ‘সৌজন্য’ প্রেক্ষাগৃহে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর উপস্থিতিতে রাজ্য প্রশাসন ও পুলিশের কর্তাদের সঙ্গে বিশেষ নিরাপত্তা বৈঠক করেছেন শাহ। সূত্রের খবর, সেই বৈঠকে উঠে এসেছে দক্ষিণবঙ্গে সীমান্ত সুরক্ষার কথা। বিএসএফের সঙ্গে সমন্বয়ের ভিত্তিতে কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। স্পর্শকাতর এবং সংবেদনশীল সীমান্ত এলাকা থেকে সরকারি জমির ‘দখলদারি’ অবিলম্বে সরানোর কথা বলেছেন শাহ। গ্রামীণ এলাকায় পুলিশের নিবিড় জনসংযোগ তৈরিতে বিশেষ কর্মসূচি নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। প্রশাসনিক সূত্রের মতে, নারী নিরাপত্তায় জোর দেওয়া হবে। পাশাপাশি, নাশকতামূলক ঘটনা ও ‘দেশ-বিরোধী কার্যকলাপ’ ঠেকাতে এনআইএ-র ধাঁচে রাজ্য তদন্তকারী সংস্থা (এসআইএ) বানানোর প্রস্তাব দিয়েছেন শাহ। পুলিশের আধুনিকীকরণ, সাইবার অপরাধ রুখতে অত্যাধুনিক ব্যবস্থার পরামর্শও দিয়েছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।\

অমিত শাহ চলে যাওয়ার পরে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ও দলের রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের উপস্থিতিতে বিজেপির কোর কমিটির বৈঠক।

অমিত শাহ চলে যাওয়ার পরে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ও দলের রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের উপস্থিতিতে বিজেপির কোর কমিটির বৈঠক। —নিজস্ব চিত্র।

রাজ্য সফরে এসে বিজেপির সংগঠনের খোঁজও নিয়েছেন শাহ। তিনি নিজে উপস্থিত থাকতে না-পারলেও শাহ শহর ছাড়তেই তড়িঘড়ি সাংগঠনিক বৈঠকে বসেছিলেন রাজ্য বিজেপির শীর্ষ নেতারা। সূত্রের খবর, বৈঠকে নেতাদের আচরণ নিয়ে কড়া বার্তা দেওয়া হয়েছে। বিধায়ক থেকে নিচু তলায় নেতাদের ব্যবহারে ‘সংযত’ হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। কোনও রকম অনৈতিক কাজকর্মের সঙ্গে যাতে শাসক দলের কোনও স্তরের নেতারা যুক্ত হয়ে না পড়েন, সেই বিষয়টিও দেখতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি, সরকারের ‘ইতিবাচক’ কাজকর্ম আরও বেশি করে প্রচার করতে বলা হয়েছে।

এই প্রতিবেদনটি প্রথমে আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণে প্রকাশিত হয়েছে
NIA SIA

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy