সংগ্রহশালা বানানোর নামে বেলেঘাটার হায়দরি মঞ্জিলের (বর্তমান নাম গান্ধী ভবন) ইতিহাসকেই নষ্ট করেছে গত রাজ্য সরকার, মোহনদাস কর্মচন্দ গান্ধীর জন্মদিনে এমনই অভিযোগ তুলে সরব হল পূর্ব কলকাতা গান্ধী স্মারক সমিতি।
গান্ধী ভবনে শুক্রবার ‘শান্তি, মানবতা, ভ্রাতৃত্ব ছাড়া স্বাধীনতার পূর্ণতা নেই’, এই বিষয়ে আলোচনাসভার আয়োজন করেছিল সমিতি। সেখানেই সমিতির তরফে সম্পাদক পাপড়ি সরকার অভিযোগ করেছেন, “আগের রাজ্য সরকার ঐতিহ্যবাহী এই বাড়িটিকে জাদুঘর বানানোর নামে কোটি কোটি টাকা নষ্ট করেছে এবং বাড়ির ইতিহাসটাকেই শেষ করেছে। বাড়িটি ভেঙে পড়েছে। বাড়িটির অবস্থা দেখে যাওয়ার জন্য আমরা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকেও ই-মেল করব।”
সভায় যোগ দিয়েছিলেন বিজেপি বিধায়ক রিতেশ তিওয়ারি, সিপিএমের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সুজন চক্রবর্তী, প্রদেশ কংগ্রেস নেতা দেবপ্রসাদ রায়, অমিতাভ চক্রবর্তী। সভা থেকে সুজন বলেছেন, “স্বাধীনতা উত্তর ভারতে সাম্প্রয়দায়িক শক্তির হাতে প্রথম খুন হন গান্ধী। আমরা এই শক্তির বিরুদ্ধেই লড়ছি।” পাশাপাশি, বিজেপি বিধায়ক রিতেশের মন্তব্য, “গান্ধী নিজে খাদি পরেছেন, তার পরে সবাইকে খাদি পরতে বলেছেন। গান্ধীবাদী হতে গেলে, প্রথমে নিজেকে বদলাতে হবে।” কংগ্রেস নেতৃত্ব অবশ্য কোনও বিতর্কের মধ্যে ঢুকতে চাননি। প্রাক্তন সাংসদ দেবপ্রসাদ বলেছেন, “যে সমালোচকেরা বলেন, ব্রিটিশ সরকার আমাদের হাতে এমনিই স্বাধীনতা তুলে দিয়েছে, তাঁরা গান্ধীজির কৃচ্ছ্রসাধনের ইতিহাসটা এক বার জেনে নেবেন!” অমিতাভ তাঁর বক্তব্যে গান্ধীর বহুত্ববাদের আদর্শকেই তুলে ধরেছেন।