বৃষ্টি থেকে এখনই রেহাই মিলবে না। এমনই পূর্বাভাস দিচ্ছে আলিপুর আবহাওয়া দফতর। বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট নিম্নচাপের জেরে সোম এবং মঙ্গলবার কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গের প্রায় সব জেলাতেই মাঝারি থেকে ভারী বর্ষণ হয়েছে। বুধবার থেকে বৃষ্টির তীব্রতা কমলেও পুরোপুরি রেহাই মেলার কোনও সম্ভাবনা নেই। কলকাতাতেও বুধবার সকাল থেকে আকাশের মুখভার। আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, কলকাতায় হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি হবে।
আবহাওয়া দফতরের বুলেটিন অনুযায়ী, বুধবার কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গের সব জেলাতেই বৃষ্টির হলুদ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। সঙ্গে ৩০-৪০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়াও চলবে। তবে অতিভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস নেই। মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টি হতে পারে কিছু জেলায়। বৃহস্পতিবার থেকে পরিস্থিতির আর একটু উন্নতি হবে। তবে আগামী ৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দক্ষিণের জেলাগুলিতে বিক্ষিপ্ত ভাবে বৃষ্টি হবে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। তবে বুধবার দক্ষিণের তিন জেলায় ভারী বর্ষণের সতর্কতা দেওয়া হয়েছে।
আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, বুধবার পুরুলিয়া, পশ্চিম বর্ধমান এবং বীরভূমে ৭০-১১০ মিলিমিটার বৃষ্টি হতে পারে। তবে কলকাতা-সহ বাকি জেলাগুলিতে বিক্ষিপ্ত বৃষ্টি সঙ্গে কোথাও কোথাও ঝোড়ো হাওয়াও চলবে। অন্য দিকে, উত্তরবঙ্গের সব জেলায় আগামী কয়েক দিন ভারী বৃষ্টির সতর্কতা জারি করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার জলপাইগুড়ি এবং আলিপুরদুয়ারে অতিভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। জলপাইগুড়ি, কোচবিহার এবং আলিপুরদুয়ারে আগামী তিন দিন ভারী বৃষ্টি হবে। তার পরে পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হবে।
রাতভর টানা বৃষ্টির জেরে জলমগ্ন বীরভূমের বোলপুর শহরের একাধিক ওয়ার্ড। শহরের বিভিন্ন রাস্তাঘাট ও নিচু এলাকায় জমেছে জল। পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়েছে বোলপুরের গীতাঞ্জলি প্রেক্ষাগৃহে। প্রেক্ষাগৃহ চত্বরে প্রায় একহাঁটু জল জমে যাওয়ায় সমস্যায় পড়েছেন সাধারণ মানুষ ও স্থানীয় বাসিন্দারা।
শহরের বেশ কিছু ওয়ার্ডে একই ছবি দেখা যাচ্ছে। কোথাও রাস্তায় জল জমে যাতায়ায় সমস্যা তৈরি হয়েছে, আবার কোথাও জল ঢুকে পড়েছে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও বাড়ির চত্বরে। রাতভর বৃষ্টির পর বোলপুর শহরের জল নিকাশি ব্যবস্থা নিয়ে ফের প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। জল বইছে দুবরাজপুর ব্লকের বালিজুড়ি গ্রাম পঞ্চায়েতের মেজে ও বেলসাড়া গ্রামের মাঝে থাকা শাল নদীর ভাসা ব্রিজের(কজওয়ে)উপর দিয়ে। পারাপার পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। অসুবিধায় পড়েছেন মানুষজন।