দখলদারির অভিযোগ থাকলেই কোনও মানুষকে রাতারাতি পথে বসিয়ে দেওয়া যায় না। রাজ্যে যত্রতত্র বুলডোজ়ার চালিয়ে উচ্ছেদ বিরোধী মামলায় বৃহস্পতিবার এমনই পর্যবেক্ষণ কলকাতা হাই কোর্টের বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের। এ দিন মামলার শুনানিতে রাজ্যের উদ্দেশে বিচারপতির বক্তব্য, “কী হচ্ছে এ সব? জেসিবি ব্যবহার করা হয়েছে!…” তাঁর পর্যবেক্ষণ, সংশ্লিষ্ট দোকানদারেরা যদি বেআইনি দখলদারও হন, তা হলেও আইনানুগ প্রক্রিয়ায় সরাতে হবে। কারও জীবিকা গুঁড়িয়ে দেওয়া যায় না। কোনও বেসরকারি ব্যক্তি বা সংগঠন যে আইন হাতে তুলে নিতে পারে না, সে কথাও জানান বিচারপতি।
প্রসঙ্গত, রাজ্যে পালাবদলের পর বহু জায়গায় দখলদার হটাতে তড়িঘড়ি বুলডোজ়ার বা পে লোডার (যার চলতি নাম জেসিবি) চালিয়ে দোকান, বাড়ি ভাঙা হয়েছে। বহু ক্ষেত্রে বিভিন্ন বেসরকারি ব্যক্তি বা সংগঠনও এই কাজ করেছে বলে অভিযোগ। তেমন কিছু ঘটনা নিয়েই এ দিন মূলত শুনানি হয়েছে। এ দিন বিচারপতি জানান, কেউ আইন হাতে নিতে পারে না। জমি-দোকান নিয়ে বিরোধ থাকলে প্রশাসন ও আইনের পথে সমাধান করতে হবে। বিভিন্ন ঘটনায় পুলিশের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। এমন পরিস্থিতি যে কাম্য নয়, তা জানিয়েছে হাই কোর্টও।
এ দিন রাজ্যের অতিরিক্ত অ্যাডভোকেট জেনারেল বিল্বদল ভট্টাচার্য আদালতে জানান যে, এমন বিভিন্ন ঘটনায় প্রশাসন আবেদনকারীদের জায়গা ফিরিয়ে দিয়েছে। কোর্টের অবশ্য পর্যবেক্ষণ, এ সব ক্ষেত্রে আদালতের হস্তক্ষেপের প্রয়োজনই ছিল না।