নিজেদের চাঁদা ও শ্রমের বিনিময়ে গড়ে ওঠা রথ নিয়ে উৎসবে মাতলেন বাগনানের খানজাদাপুর গ্রামের বাসিন্দারা। বৃহস্পতিবার বেলা দেড়টায় ১৭১ বছরের এই রথযাত্রার উদ্বোধন হয়। রথের রশি টানেন গ্রামবাসীরা। তাঁদের সঙ্গে হাত লাগান বাগনান-২-এর বিডিও নির্মাল্য ঘোষ, আমতা এবং পাঁশকুড়া পূর্বের দুই বিজেপি বিধায়ক—অমিত সামন্ত এবং সুব্রত মাইতি-সহআরও অনেকে।
সুপ্রাচীন এই রথের যাত্রাপথ খুব একটা মসৃণ ছিল না। এই রথ চালু করেন স্থানীয় বাসিন্দা বনমালী মাইতি। শুরু থেকেই রথকে ঘিরে মেলা বসত। সেখানে বিক্রি হত কৃষিকাজে ব্যবহৃত নানা জিনিস। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, যেহেতু এলাকাটি কৃষিপ্রধান তাই মেলা জমে যায়।
কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে আর রথযাত্রা করতে পারেননি মাইতি পরিবার। তবে রথের দিনে মাঠে জগন্নাথ, বলরাম ও সুভদ্রার মূর্তি পুজো করে ঘোরানো হত। মেলাও হত এবং ক্রমশ তার মাপ বাড়ছিল।
১৯৭৯ সালে মাইতি পরিবারের হাত থেকে গ্রামবাসীরা রথের দায়িত্ব নেন। কিন্তু মাইতি পরিবারের রথ ভেঙে জীর্ণ হয়ে যাওয়ায় তা আর বের করা হয়নি। গ্রামবাসীরাও রথের দিনে শুধু তিন মূর্তির পরিক্রমা ও মেলার আয়োজন করাতেন। ১৯৯৮ সালে গ্রামবাসীরা একটি ছোট রথ বানান। সেই থেকে ফের শুরু হয় রথযাত্রা। এই রথও জীর্ণ হয়ে পড়ায় গত বছর নতুন করে বানানো হয় রথ। তার উচ্চতাও যেমন বেশি (প্রায় পঁচিশ ফুট) তেমনই ঝলমলে।
এর জন্য গ্রামবাসীরা যে যেমন পেরেছেন টাকা ও শ্রম দিয়ে সহায়তা করেছেন। এই গ্রামে বাসিন্দা পেশায় ছুতোর টোটোন মণ্ডল মাসের পর মাস কাজ করে রথটি তৈরি করেছেন। গত বছর থেকে নবনির্মিত রথটি নিয়ে রথযাত্রা করছেন গ্রামবাসীরা।
রথের মেলার মাঠটি ছবির মতো সুন্দর। দেবদারু-সহ বিভিন্ন ধরনের গাছ দিয়ে মাঠটি ঘেরা। বসেছে অসংখ্য খাবার ও খেলনার দোকান। তার মাঝে দাঁড়িয়ে থাকা রঙিন রথ ওই পরিবেশকে করে তুলেছে মনোরম। ভিড় সামলাতে ব্যস্ত এলাকারবাসী পূর্ণেন্দু গুছাইত, গৌতম সামন্ত, অমিত মাইতি, রতন রায়েরা। পূর্ণেন্দু বলেন, ‘‘এই রথ আমাদের নিজেদের রথ। বহু মানুষ দূরদূরান্ত থেকেরথ দেখতে আসেন। এতেইআমাদের আনন্দ।’’