E-Paper
এই প্রতিবেদনটি প্রথমে আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণে প্রকাশিত হয়েছে

হাওড়ায় বিক্ষুব্ধ তৃণমূল নেতাদের প্রার্থী করতে উদ্যোগী বিজেপি

হাওড়া জেলা বিজেপি সূত্রের খবর, হাওড়া পুরসভার ৬৮টি ওয়ার্ডে প্রার্থী হওয়ার জন্য শুধুমাত্র হাওড়া জেলাতেই সতেরোশোরও বেশি আবেদন জমা পড়েছে।

দেবাশিস দাশ

শেষ আপডেট: ০৩ নভেম্বর ২০২৬ ০৮:৪৩
হাওড়া পুরসভা।

হাওড়া পুরসভা। — ফাইল চিত্র।

হাওড়ায় আসন্ন পুর নির্বাচনে সমস্ত ওয়ার্ডে গ্রহণযোগ্য প্রার্থী না পাওয়ায় এ বার বিক্ষুব্ধ তৃণমূল নেতা-নেত্রীদেরই প্রার্থী করার বিষয়ে চিন্তাভাবনা শুরু করেছেন হাওড়া জেলা
বিজেপি নেতৃত্ব। তাঁরা জানাচ্ছেন, ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের পর থেকে হাওড়ার যে সমস্ত তৃণমূল নেতা দলের উপরে বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন এবং তৃণমূলের থেকে দূরত্ব তৈরি করে তলে তলে বিজেপির সঙ্গে যোগাযোগ বাড়াতে শুরু করেন, তাঁদের একাংশকে এ বার পুর নির্বাচনে বিজেপির প্রার্থী করার কথা ভাবা হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট এলাকায় প্রার্থীদের ভাবমূর্তির বিষয়টিকে গুরুত্ব দেওয়া হবে। যাঁদের ভাবমূর্তি স্বচ্ছ নয়, তাঁদের প্রার্থী করা হবে না। একই সঙ্গে হাওড়ার যে সমস্ত ওয়ার্ডে মুসলিমদের সংখ্যা বেশি, সেখানে ওই সম্প্রদায় থেকেই প্রার্থী করার চিন্তাভাবনা করছে দল।

হাওড়া জেলা বিজেপি সূত্রের খবর, হাওড়া পুরসভার ৬৮টি ওয়ার্ডে প্রার্থী হওয়ার জন্য শুধুমাত্র হাওড়া জেলাতেই সতেরোশোরও বেশি আবেদন জমা পড়েছে। কিন্তু দল সিদ্ধান্ত নিয়েছে, প্রার্থী বাছাইয়ের জন্য গঠিত কমিটি মণ্ডল সভাপতিদের সঙ্গে কথা বলার পরে তাঁদেরই প্রার্থী করবে, এলাকায় যাঁদের যথেষ্ট পরিচিতি এবং গ্রহণযোগ্যতা আছে। সে ক্ষেত্রে বিজেপির পুরনো নেতা-কর্মী তো বটেই, যাঁরা দলকে ক্ষমতায় আসতে সাহায্য করেছেন, এমন বিক্ষুব্ধ তৃণমূল নেতাদেরও প্রার্থী করা হতে পারে। যেমন, হাওড়া পুরসভায় তৃণমূলের প্রাক্তন মেয়র পারিষদ নাসরিন খাতুনকে প্রার্থী করার পরিকল্পনা করছেন জেলা নেতৃত্ব। ইতিমধ্যে জেলা নেতৃত্বের বাড়িতে গিয়ে নাসরিনের স্বামী গুড্ডু খান কথাও বলে এসেছেন বলে সূত্রের খবর। এই প্রসঙ্গে হাওড়া জেলায় বিজেপির এক শীর্ষ নেতা বলেন, ‘‘২০১৮ সালে তৃণমূলের বোর্ড ভেঙে যাওয়ার পর থেকেই নাসরিন খাতুন আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন। বিজেপি-কে ক্ষমতায় আসতে অনেক সাহায্য করেছেন। ওঁকে কোনও সংখ্যালঘু-অধ্যুষিত ওয়ার্ড থেকে দাঁড় করানোর পরিকল্পনা রয়েছে।’’

তবে, বিক্ষুব্ধ তৃণমূল নেতা-কর্মীদের প্রার্থী করা নিয়ে দলের প্রার্থী বাছাই কমিটি সিদ্ধান্ত নিলেই হবে না। তাতে রাজ্য নেতৃত্ব সিলমোহর দিলে তবেই বিষয়টি মান্যতা পাবে বলে দাবি জেলা বিজেপি নেতৃত্বের। তাঁরা জানিয়েছেন, শুধু রাজনীতি করা লোকজনই নন, অরাজনৈতিক ব্যক্তিদেরও প্রার্থী করার বিষয়ে শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে কথা বলবেন বিজেপি বিধায়কেরা। ইতিমধ্যেই উত্তর হাওড়ার বিধায়ক তথা রাজ্যের মন্ত্রী উমেশ রাই, বালির বিধায়ক সঞ্জয় সিংহ এবং শিবপুরের বিধায়ক রুদ্রনীল ঘোষ নিজেদের পছন্দের লোকেদের নাম পাঠিয়েছেন প্রার্থী করার জন্য। প্রার্থী বাছাইয়ের ক্ষেত্রে বিধায়কদের পছন্দকে আগে মান্যতা দেওয়ার বিষয়টিও খতিয়ে দেখছেন মণ্ডল সভাপতি-সহ জেলা নেতৃত্ব।

বিক্ষুব্ধ তৃণমূল নেতা-কর্মীদের প্রার্থী করা ছাড়াও বিজেপির জেলা নেতৃত্ব চাইছেন, ২৪, ৫৯, ৬০ ও ৬৮-র মতো ওয়ার্ডে, যেখানে সংখ্যালঘুদের বসবাস বেশি, সেখানে সংখ্যালঘু কাউকে প্রার্থী করা হোক। যেমন, শিবপুরের কাজিপাড়া, দক্ষিণ হাওড়া ও বাঁকড়ার কিছু এলাকায় মুসলিমদের বসবাস বেশি। তাই সেখানে মুসলিমদের মন পেতে বিজেপির তরফে মুসলিম প্রার্থী দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। এই প্রসঙ্গে বিজেপির হাওড়া জেলা সদর সভাপতি গৌরাঙ্গ ভট্টাচার্য বলেন, ‘‘সংখ্যালঘু-অধ্যুষিত এলাকায় সংখ্যালঘু কাউকে প্রার্থী করার বিষয়ে ভাবনাচিন্তা চলছে। তবে, প্রার্থী আমরা বাছাই করে দেব। তার পরে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন রাজ্য নেতৃত্ব।’’ অন্য দিকে, হাওড়ার মেয়র পদ প্রার্থী হিসেবে সেখানকার এক জন অরাজনৈতিক বিশিষ্ট ব্যক্তিকে প্রার্থী করা যায় কিনা, তা নিয়েও বিজেপির অন্দরে জোর চর্চা শুরু হয়েছে।

এই প্রতিবেদনটি প্রথমে আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণে প্রকাশিত হয়েছে
Howrah Municipal Corporation BJP TMC Howrah

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy