জাতীয় স্তরের বেসরকারি শিক্ষা বোর্ড সিআইএসসিই (কাউন্সিল ফর দ্য ইন্ডিয়ান স্কুল সার্টিফিকেট এগজ়ামিনেশন) আয়োজিত সাঁতার প্রতিযোগিতায় নামলেই পদক বাঁধা শ্রীরামপুরের বিরাজ দত্তের! এ বারেও অন্যথা হল না। বেঙ্গালুরু থেকে সে ফিরল জোড়া সোনা এবং জোড়া রুপো গলায় ঝুলিয়ে। সোনা জয়ের পাশাপাশি ওই দুই ইভেন্টে এই
মিটের জাতীয় রেকর্ডও এল এই তরুণের দখলে।
সিআইএসসিই ন্যাশনাল গেমস অ্যান্ড স্পোর্টসে ওই প্রতিযোগিতা হল ২ থেকে ৪ সেপ্টেম্বর বেঙ্গালুরুর বাসাভানাগুড়ি সুইমিং পুলে। অনূর্ধ্ব ১৯ বিভাগে বিরাজ প্রথম হয় ১০০ ও ৫০ মিটার বাটারফ্লাই ইভেন্টে। ১০০ মিটারে সময় করে ৫৯.৯৭ সেকেন্ডে। ৫০ মিটারে ২৬.৮১ সেকেন্ড। উচ্ছ্বসিত বিরাজ বলে, ‘‘দু’টিই জাতীয় রেকর্ড।’’ সে রুপো জিতেছে ৫০ মিটার ফ্রি-স্টাইল এবং ৪x১০০ মিটার মিডলে রিলে ইভেন্টে।
শ্রীরামপুর শহরের চাতরায় মা-ছেলের সংসার। মা ছন্দা দত্ত ছোটখাটa কাজ করেন। ব্যারাকপুরে বেসরকারি স্কুলের একাদশ শ্রেণির ছাত্র বিরাজ জানায়, দু’বছর বয়স থেকে তার সাঁতার শেখা শুরু শ্রীরামপুর সন্তরণ সমিতিতে। দীর্ঘ ১৩ সেখানে প্রশিক্ষণ নিয়েছে। কোচ ছিলেন গৌতম ধারা। দু’বছর ধরে প্রশিক্ষণ নিচ্ছে বালি সুইমিং ক্লাবে কৌশিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে। ভোরে ট্রেন ধরে প্রশিক্ষণ নিতে যায় বিরাজ। আড়াই-পৌনে তিন ঘণ্টার অনুশীলন। বিকেলেও তাই। সপ্তাহে পাঁচ দিন দু’বেলা অনুশীলন। ছেলের সঙ্গে যান ছন্দা। ছেলে প্রতিযোগিতায় গেলেও মা সফরসঙ্গী।
২০২৩ সালে রাজ্য চ্যাম্পিয়নশিপে বয়সভিত্তিক বিভাগে ৫০ মিটার বাটারফ্লাইতে রাজ্য রেকর্ড করে বিরাজ প্রথম হয়। সে বছরে ভুবনেশ্বরে জাতীয় চ্যাম্পিয়নশিপে গ্রুপ ২ ছেলেদের বিভাগে রুপো জয়। সিআইএসসিই প্রতিযোগিতায় বয়সভিত্তিক বিভাগে ’২২ সালে পাঁচ পদক (তিনটি রুপো, দু’টি সোনা) এবং সেরা সাঁতারুর শিরোপা। পরের বছর সে জেতে একটি করে সোনা, রুপো ও ব্রোঞ্জ। ’২৪ সালে ঝুলিতে আসে দু’টি সোনা, একটি করে রুপো ও ব্রোঞ্জ। গত বছর জোড়া সোনা এবং একটি ব্রোঞ্জ। বিরাজের লক্ষ্য সিনিয়র গেমসে সোনা। অলিম্পিকে এবং এশিয়ান গেমসে দেশের প্রতিনিধিত্বের স্বপ্নও চোখে।
বিরাজের প্রশিক্ষক প্রাক্তন জাতীয় সাঁতারু কৌশিক বন্দ্যোপাধ্যায়ও শ্রীরামপুরের বাসিন্দা। তিনি বলেন, ‘‘বিরাজ যে প্রতিশ্রুতিমান, বলার অপেক্ষা রাখে না। ওদের পরিবার সচ্ছল নয়। সাঁতারে খরচ আছে। ওর মা যথাসম্ভব চেষ্টা করেন। কেউ পাশে দাঁড়ালে ছেলেটার লড়াই আরও সহজ হবে।’’ মায়ের ছোট্ট প্রতিক্রিয়া, ‘‘চেষ্টা তো করতেই হবে।’’