ট্রেকারের দৌরাত্ম্যের অভিযোগ তুলে ১২ বছরের বেশি বাস চলাচল বন্ধ রেখেছিলেন মালিকরা। অবশেষে পুরশুড়ার বিধায়ক বিমান ঘোষের উদ্যোগে সব পক্ষকে নিয়ে কয়েক দফা বৈঠকের পর মঙ্গলবার থেকে ফের খানাকুলের চব্বিশপুর থেকে তারকেশ্বর ২৯ কিলোমিটার রাস্তা বাস চলাচল শুরু হল। এ দিন সকালে পুরশুড়ার চব্বিশপুর বাজারে তার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হল।
অতীতে এই পথে ১৬/২০ রুটের সাতটি বাস চলাচল করলেও এ দিন থেকে পাঁচটি বাস চলাচল শুরু হল। অন্য দিকে, ওই রাস্তায় দীর্ঘদিন বাস না থাকায় ট্রেকারের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ২৬টি। যাত্রী তোলায় বাস এবং ট্রেকার মালিকদের মধ্যে ঝামেলা এড়াতে বিধায়ক সতর্ক করেন, ট্রেকারে যাতে অতিরিক্ত যাত্রী বোঝাই না করা হয়। বিমান বলেন, “পরিবহণ নীতি মেনে চলতে হবে ট্রেকারগুলিকে। ট্রেকারের ছাদে বা পাদানিতে যাত্রী বোঝাই করা যাবে না। বাস মালিকদের বলা হয়েছে দু’পক্ষের বৈঠকে নির্দিষ্ট হওয়া সময়সূচি ধরে চলতে হবে। কেউ কারও রোজগারে ব্যাঘাত করবে না।’’
এই রুটের বাস মালিক সংগঠনের সম্পাদক মুন্সি মহম্মদ মুসা বলেন, “আমাদের ৫টি বাস আগের মতোই তিন বার করে যাতায়াত করবে। আমরা চাই, বাস ছাড়ার আগে অন্তত মিনিট কুড়ি-পঁচিশ যাতে ট্টেকার না চলাচল করে।”
অন্য দিকে, ওই রুটের ট্রেকার মালিকদের সংগঠনের সম্পাদক হারাধন ধোলে বলেন, “আমাদের ২৬টি ট্রেকারও তিন বার যাতায়াত করে। আমরা এত দিন ১০ মিনিট অন্তর ট্রেকার ছেড়েছি। সেটাকেই বজায় রাখতে চেয়েছি।”
বাস চলাচল শুরু হওয়ায় খানাকুল এবং পুরশুড়ার মানুষ খুশি। ওই রাস্তার মধ্যেই পড়ে প্রাচীন খানাকুলের বালিপুর বাজার। মুণ্ডেশ্বরী নদীর ধারে এই বাজারটিকে কেন্দ্র করে রয়েছে খানাকুলের তাঁতিশাল, বালিপুর এবং অরুণ্ডা, পুরশুড়ার চিলাডাঙ্গি-সহ বেশ কিছু পঞ্চায়েত এলাকা। ওখানকার বাসিন্দাদের দাবি, এই বাস চলাচল জরুরি ছিল।