E-Paper
এই প্রতিবেদনটি প্রথমে আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণে প্রকাশিত হয়েছে

দুবাইয়ে কাজে গিয়ে নিখোঁজ

উদ্বিগ্ন বাবা-মা ও পরিজনেরাহন্যে হয়ে প্রশাসনের দ্বারস্থহয়েছেন। বিদেশ মন্ত্রক থেকে শুরু করে দুবাই পুলিশের কাছেও ই-মেল পাঠানো হয়েছে।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২৯ অক্টোবর ২০২৬ ০৮:৪৯
নিখোঁজ শোভন রায়।

নিখোঁজ শোভন রায়। নিজস্ব চিত্র।

সংসারে সচ্ছলতা ফেরাতে গত ৯ ফেব্রুয়ারি দুবাই পাড়ি দিয়েছিলেন চুঁচুড়ার বঙ্কিমকাননের বছর ত্রিশের যুবক শোভন রায়। সেখানে ‘ডেলিভারি বয়’-এর কাজ করছিলেন। কিন্তু কর্মস্থলে খুব একটা সুবিধা করতে পারছিলেন না বলে বাড়িতে জানিয়েছিলেন তিনি, এমনটাই দাবি পরিবারের। গত ২১ অক্টোবর থেকে তাঁর কোনও খোঁজ বা যোগাযোগ করতে পারছেন না বাড়ির লোকেরা। উদ্বিগ্ন বাবা-মা ও পরিজনেরাহন্যে হয়ে প্রশাসনের দ্বারস্থহয়েছেন। বিদেশ মন্ত্রক থেকে শুরু করে দুবাই পুলিশের কাছেও ই-মেল পাঠানো হয়েছে।

শোভনের বাবা জর্জ রায় ও মা সুবর্ণা বলেন, ‘‘আমরা চাই, ছেলে ভালয় ভালয় ফিরে আসুক। আর কোনও দিন বিদেশে যেতে হবে না।’’ ওই পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছেন এলাকার বিজেপি নেতা অজয় মোহান্তি ওরফে কার্তিক। তিনিও প্রশাসনের দোরে ছোটাছুটি করছেন।

সদর মহকুমা প্রশাসনের এক কর্তা বলেন, "এ ক্ষেত্রে বিদেশ মন্ত্রক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়ে পারে। আমাদের কাছে যখন পরিবার আবেদন করেছে, দেখা হচ্ছে।’’

পরিবার ও স্থানীয় সূত্রের খবর, শোভনের বাবা টোটোচালক। দুই ভাইয়ের মধ্যে উচ্চ মাধ্যমিক উত্তীর্ণ শোভন বড়। এখানে তিনি কখনও টেলিকম সংস্থায়, কখনও ই-কমার্স সংস্থায় কাজ করেছেন। বছর দেড়েক আগে জর্জের চোখে ছানি অস্ত্রোপচারের পরে রেটিনায় জল জমতে শুরু করে। দু’মাস অন্তর দামি ইঞ্জেকশন নেওয়া শুরু হয়। সংসারের হাল ধরতেই দুবাইয়ে বছর দুয়েক ধরে থাকা ব্যান্ডেলের এক বন্ধুর সুবাদে সেখানে গিয়ে পৌঁছন শোভন।

পরিবারের লোকেরা জানান, প্রথমে পাকিস্তানের একটি সংস্থায় কাজ করছিলেন শোভন। সেই সংস্থাই দুবাইয়ে শোভনের ড্রাইভিং লাইসেন্স করে দেয়। কিন্তু শুরুতে তাঁকে মোটরবাইকের পরিবর্তে সাইকেল দেওয়া হয়েছিল। ফলে, বেশি ‘ডেলিভারি’ করতে পারছিলেন না তিনি। রোজগারও কম হচ্ছিল। পরে বাইক দেওয়া হলেও অতিরিক্ত খরচ, কাজের অঞ্চলের সীমাবদ্ধতার জেরে বেশি টাকা বাড়িতে পাঠাতে পারছিলেন না। যা নিয়ে মতবিরোধের জেরে ওই সংস্থা ছেড়ে গুজরাতের একটি সংস্থায় একই কাজ শুরু করেন। কিন্তু পুরনো সংস্থা তাঁর জমা রাখা পাসপোর্ট ফেরত দেয়নি। শোভন দুবাই পুলিশের দ্বারস্থ হন। পাল্টা ওই সংস্থাও শোভনের বিরুদ্ধে সেখানকার থানায় অভিযোগ করেন। গত ২১ অক্টোবর সেখানকার সংশ্লিষ্ট থানা থেকে ডাক পড়েছে বলে সহকর্মীদেরকে জানিয়ে বেরোন শোভন। কিন্তু তারপর থেকে আর কোনও খোঁজ মেলেনি তাঁর।

এই প্রতিবেদনটি প্রথমে আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণে প্রকাশিত হয়েছে
Chinsurah Dubai

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy