বছর আটেক আগে গ্রামীণ হাওড়ার বেশ কিছু শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে চালু হয়েছিল সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প। সেগুলির বেশির ভাগেরই প্যানেল বিগড়ে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন স্কুল কর্তৃপক্ষ। আলো জ্বালানো বা পাখা চালানো যাচ্ছে না বলে তাঁরা জানিয়েছেন। ফলে, বিদ্যুৎ খরচ বেড়েছে।
সমস্যার কথা স্বীকার করেছে উলুবেড়িয়ার অতিরিক্ত জেলা স্কুল পরিদর্শকের দফতর। দফতরের এক পদস্থ আধিকারিক জানান, বিগড়ে যাওয়া প্যানেলগুলি মেরামতের জন্য জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে সরকারের কাছে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে।
বিদ্যুৎ বিলে সাশ্রয়ের জন্যই স্কুলগুলিতে সরকারের তরফ থেকে নিখরচায় সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প চালু করা হয়েছিল বলে জেলা স্কুল শিক্ষা দফতর সূত্রের খবর। রাতে আলো জ্বালানো ছাড়াও পাখা চালানো, জল তোলা ইত্যাদি কাজ হত। এতে বিদ্যুতের বিল অনেকটা কমত স্কুলগুলিতে।
২০১৮ সালে বাগনান হাইস্কুলে সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প চালু হয়। স্কুলের তৎকালীন প্রধান শিক্ষক ভাস্করচন্দ্র আদক জানান, এই প্রকল্প চালু করতে খরচ হয় প্রায় ১০ লক্ষ টাকা। অচিরাচরিত শক্তি দফতরের পক্ষ থেকে এই প্রকল্প বসানো হয়। সব খরচ তারাই দিয়েছিল। ভাস্কর বলেন, ‘‘সৌরবিদ্যুৎ চালু হওয়ার পরে আমাদের স্কুলে বছরের বিদ্যুতের বিল অর্ধেক হয়ে গিয়েছিল।’’ স্কুলের বর্তমান ভারপ্রাপ্ত শিক্ষক সুনির্মল চক্রবর্তী বলেন, ‘‘প্রায় দু’বছর ধরে সৌর প্যানেলগুলি খারাপ হয়ে পড়ে রয়েছে। অচিরাচরিত শক্তি দফতরকে বার বার বলা সত্বেও তারা গুরুত্ব দেয়নি। এ দিকে বাড়তি বিদ্যুৎ বিলের ধাক্কায় আমরা কাহিল হয়ে পড়ছি।’’
এই প্রকল্প বসানো হয়েছিল বাগনানেরই দেউলগ্রাম মানকুর বাকসি (ডিএমবি) হাই স্কুলেও। এখানেও সৌর প্যানেলগুলি খারাপ হয়ে পড়ে রয়েছে। যখন এই প্রকল্প বসানো হয় তখন ভারপ্রাপ্ত শিক্ষক ছিলেন উকিল হাঁসদা। তিনি বলেন, ‘‘আমরা প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে এগুলি মেরামত করে দেওয়ার আবেদন করেছিলাম। কাজ হয়নি।’’ একই হাল শ্যামপুরের খাজনাবাহালা হাই মাদ্রাসারও। প্রধান শিক্ষক মণিরুল ইসলামের কথায়, ‘‘প্রায় দু’বছর ধরে বেশিরভাগ সৌর প্যানেল খারাপ।’’