E-Paper
এই প্রতিবেদনটি প্রথমে আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণে প্রকাশিত হয়েছে

চূড়ান্ত তালিকায় গোটা পরিবারই ‘বিবেচনাধীন’, অভিযোগ চক্রান্তের

উত্তর হাওড়ার ১৫ নম্বর ওয়ার্ডের কয়েক দশকের পুরনো বাসিন্দা রায় পরিবার। পরিবারের অন্যতম সদস্য গৌতম রায় দু’দফায় হাওড়া পুরসভার পুরপ্রতিনিধি ছিলেন। গৌতম জানান, সালকিয়ার শৈলেন্দ্র বসু রোডে ৬৬ বছরের বাসিন্দা তাঁরা।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০৩ মার্চ ২০২৬ ০৮:২০

—প্রতীকী চিত্র।

ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনের (এসআইআর) চূড়ান্ত তালিকায় একটি গোটা পরিবারকে বিবেচনাধীন হিসেবে উল্লেখ করায় নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ওই পরিবারটি উত্তর হাওড়ার সালকিয়ার পুরনো বাসিন্দা। এসআইআরের চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশিত হওয়ার পরে দেখা যায়, পরিবারের সাত জন সদস্যের নামই ‘আন্ডার অ্যাডজুডিকেশন’ বা বিবেচনাধীন বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এতেই মাথায় হাত পড়েছে এলাকায় বামপন্থী বলে পরিচিত ওই পরিবারের সকলের। তাঁদের অভিযোগ, এটা রাজনৈতিক চক্রান্ত। পরিকল্পনা করেই তাঁদের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। তাঁদের প্রশ্ন, যাঁরা এই চক্রান্ত করেছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশন কেন ব্যবস্থা নেবে না?

উত্তর হাওড়ার ১৫ নম্বর ওয়ার্ডের কয়েক দশকের পুরনো বাসিন্দা রায় পরিবার। পরিবারের অন্যতম সদস্য গৌতম রায় দু’দফায় হাওড়া পুরসভার পুরপ্রতিনিধি ছিলেন। গৌতম জানান, সালকিয়ার শৈলেন্দ্র বসু রোডে ৬৬ বছরের বাসিন্দা তাঁরা। ২০০৩ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত তিনি হাওড়া পুরসভার ১৫ নম্বর ওয়ার্ডের পুরপ্রতিনিধি ছিলেন। ২০০৮ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত ছিলেন ১২ নম্বর ওয়ার্ডের পুরপ্রতিনিধি। সেই সঙ্গে দীর্ঘ ৩৭ বছর হাওড়ার নরসিংহ দত্ত কলেজে অধ্যাপনাও করেছেন গৌতম। অবসরপ্রাপ্ত এই অধ্যাপক সোমবার বলেন, ‘‘আমরা বামপন্থী পরিবার বলে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ভাবে আমার ও আমার দাদার পরিবার মিলিয়ে সাত জনের নাম ভোটার তালিকায় ‘আন্ডার অ্যাডজুডিকেশন’ বা বিবেচনাধীন হিসেবে রাখা হয়েছে। রাজনৈতিক চক্রান্ত করেই এ কাজ করা হয়েছে। এ বিষয়ে আমি হাওড়ার নিউ কালেক্টরেট বিল্ডিংয়ে জেলাশাসকের দফতরে অভিযোগ জানিয়েছি।’’

গৌতম জানান, তিনি অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক হিসেবে পেনশন পান। তাঁর পাসপোর্ট আছে। ২০০২ সালে ভোটার তালিকায় নাম ছিল। সেই সমস্ত নথি বিএলও-র কাছে জমাও দেওয়া হয়েছে। তা সত্ত্বেও সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অমান্য করে কী ভাবে নির্বাচন কমিশন তাঁর ও তাঁর পরিবারের সমস্ত সদস্যের নাম ভোটার তালিকায় বিবেচনাধীন করে দিল? তিনি বলেন, ‘‘সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছে, যাঁরা সরকারি পেনশন পান ও যাঁদের ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় নাম ছিল, তাঁদের নাম ভোটার তালিকায় কোনও ভাবেই বিবেচনাধীন হিসেবে রাখা যাবে না বা বাদ দেওয়া যাবে না।’’ গৌতম জানান, তাঁর স্ত্রী, ছেলে, মেয়ে ছাড়াও দাদা অমিতাভ রায় এবং তাঁর ছেলে, মেয়ে মিলিয়ে মোট সাত জনের নাম ‘আন্ডার অ্যাডজুডিকেশন’ বা বিবেচনাধীন বলে ভোটার তালিকায় উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁর দাবি, কী ভাবে এমনটা হল, নিবার্চন কমিশন খতিয়ে দেখুক।

এই বিষয়ে হাওড়ার জেলাশাসক পি দীপপ প্রিয়ার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘‘ওই পরিবার অভিযোগ জানালে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে। ঠিক কী কারণে একই পরিবারের সাত জনের নাম চূড়ান্ত তালিকায় বিবেচনাধীন রাখা হল, নথিপত্রে কোনও সমস্যা ছিল কিনা, সবটাই নির্বাচন কমিশনের সংশ্লিষ্ট আধিকারিকের কাছ থেকে জানতে চাওয়া হবে।’’

এই প্রতিবেদনটি প্রথমে আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণে প্রকাশিত হয়েছে
Special Intensive Revision West Bengal SIR Howrah

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy