সম্পত্তির লোভে বাবাকে খুনের অভিযোগ খোদ পুত্রের বিরুদ্ধে। অভিযোগ পুত্রবধূও সেই হত্যাকাণ্ডে ইন্ধন দিয়েছেন। বৃদ্ধা মায়ের চোখের সামনেই তাঁর স্বামীকে হত্যা করা হয়। ঘটনার প্রায় তিন বছর পর চন্দননগর আদালত দম্পতিকে যাবজ্জীবন কারাবাসের সাজা দিল। প্রৌঢ়ার সাক্ষ্যের ভিত্তিতে আদালত এই সাজা শুনিয়েছে।
হুগলির তারকেশ্বরের গৌরবাটি গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন আদিত্য কোলে। ২০২৩ সালের ৬ জুলাই তিনি খুন হন। অভিযোগ, মাকেও খুনের পরিকল্পনা ছিল পুত্র অমিত কোলের। কিন্তু ৬৪ বছরের সাবিত্রী সে দিন কোনও রকমে পালিয়ে বেঁচেছিলেন। তিনিই পরে থানায় অমিত এবং তাঁর স্ত্রী পূজা কোলের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেন। তার ভিত্তিতে পুলিশ দু’জনকে গ্রেফতার করে।
আরও পড়ুন:
কী ঘটেছিল? পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, রাতে খাওয়ার পর ১০টা নাগাদ নিজের দোতলার ঘরে শুতে গিয়েছিলেন আদিত্য। পাশের ঘরে নাতনিকে নিয়ে শুয়েছিলেন সাবিত্রী। রাত ১টা নাগাদ তিনি চিৎকার শুনতে পান। কিন্তু বেরোতে গিয়ে দেখেন, তাঁর ঘর বাইরে থেকে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। তিনিও চিৎকার করলে নাতি এসে তাঁকে দরজা খুলে দেয়। স্বামীর ঘরে গিয়ে সাবিত্রী দেখেন, বৃদ্ধের বুকের উপর বসে আছেন অমিত। তাঁর হাতে দস্তানা পরা। সঙ্গে রয়েছেন পুত্রবধূ পূজাও। গলা টিপে তাঁর সামনেই আদিত্যকে খুন করা হয়। এর পর পূজার প্ররোচনায় অমিত মাকেও খুন করতে এগিয়ে এসেছিলেন বলে অভিযোগ। তিনি দৌড়ে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যান এবং দেওরের বাড়িতে আশ্রয় নেন। পরের দিনই ছেলে এবং বৌমার বিরুদ্ধে তারকেশ্বর থানায় অভিযোগ দায়ের করেন তিনি।
দু’মাসের মধ্যে সেপ্টেম্বর মাসে এই ঘটনায় পুলিশ চার্জশিট পেশ করে। চন্দননগর আদালতে মামলাটি বিচারাধীন ছিল। সরকার পক্ষের আইনজীবী শঙ্কর গঙ্গোপাধ্যায় জানিয়েছেন, এই মামলায় মোট ১৯ জন সাক্ষী ছিলেন। তাঁদের মধ্যে ১২ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়েছে। নিহতের স্ত্রী সাবিত্রীর সাক্ষ্যই প্রত্যক্ষদর্শী হিসেবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ছিল। তার ভিত্তিতে আদালত অভিযুক্ত দম্পতিকে যাবজ্জীবন কারাবাসের নির্দেশ দিয়েছে। সরকারি আইনজীবী এই ঘটনাকে বিরলের মধ্যে বিরলতম বলে উল্লেখ করে দম্পতির সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করেছিলেন। কিন্তু চন্দননগর আদালতের অতিরিক্ত দায়রা বিচারক মানবেন্দ্র মোহন সরকারের পর্যবেক্ষণ, অপরাধের মাত্রা নিয়ে কোনও সংশয় নেই। কিন্তু দম্পতির দুই সন্তান রয়েছে এবং দু’জনেই ছোট। তাই মানবিকতার খাতিরে তাঁদের সর্বোচ্চ শাস্তি দেওয়া যায় না। দু’জনকেই যাবজ্জীবন কারাবাস করতে বলেন বিচারক। আইনজীবী শঙ্করের কথায়, ‘‘নিজের ছেলে এখানে বাবাকে খুন করেছে। প্রমাণ যাতে না থাকে, তাই হাতে দস্তানা পরে ছিল। নিজের সন্তানের কাছেও বৃদ্ধ বাবা সুরক্ষিত নয়! এটা মানবতার লজ্জা। আমি সর্বোচ্চ শাস্তি চেয়েছিলাম। মাননীয় আদালত দম্পতির সন্তানদের কথা ভেবে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছে।’’