পৃথক জেলা হবে আরামবাগ। কোন কোন ব্লক তাতে জুড়বে, সে সিদ্ধান্ত এখনও হয়নি বলে প্রশাসন সূত্রের খবর। তবে, হুগলি থেকে বিচ্ছিন্ন না করার দাবিতে তারকেশ্বরে পথে নেমেছেন কিছু মানুষ।
আরামবাগ মহকুমার মানুষের পৃথক জেলার দাবি বহু দিনের। বিভিন্ন কমিটিও গড়ে ওঠে এই দাবিতে। তাদের সুপারিশ ছিল, মহকুমার চার বিধানসভা (আরামবাগ, গোঘাট, খানাকুল, পুরশুড়া) ছাড়াও পাশের তারকেশ্বর, হরিপাল ও জাঙ্গিপাড়া ব্লককে নতুন জেলায় অন্তর্ভুক্ত করার। মহকুমা লাগোয়া পূর্ব বর্ধমানের মাধবডিহি তথা রায়না ২ ব্লক, বাঁকুড়ার কোতলপুর, পশ্চিম মেদিনীপুরের চন্দ্রকোনা ২ ব্লককেও নতুন জেলায় জুড়ে দেওয়ার দাবি রয়েছে।
তারকেশ্বরের কিছু মানুষ এই তীর্থক্ষেত্রের গুরুত্বের কথা তুলে হুগলি থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার ব্যাপারে আপত্তি জানিয়ে রাস্তায় নেমেছেন। ওই দাবিতে তারকেশ্বর নাগরিক ঐক্য মঞ্চের উদ্যোগে গত ১৫ অগস্ট তারকেশ্বরে পদযাত্রা করা হয়। প্রশাসনকে স্মারকলিপিও দেওয়া হয়।
আন্দোলনকারীদের বক্তব্য, তারকেশ্বরের প্রশাসনিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও ঐতিহাসিক সম্পর্ক জড়িয়ে হুগলির সঙ্গে। প্রশাসনিক পুনর্গঠনের নামে তারকেশ্বরের পরিচয় ও ঐতিহ্যের পরিবর্তন তাঁরা মানতে রাজি নন। তাঁদের দাবি, তারকেশ্বর, ধনেখালি ও জাঙ্গিপাড়া ব্লক মিলিয়ে হুগলিতেই নতুন মহকুমা গঠন করা হোক। তার সদর শহর করা হোক তারকেশ্বরকে। একান্তই নতুন জেলার অন্তর্ভুক্ত করতে হলে তার সদর শহর করা হোক তারকেশ্বরকে। জেলার নাম দেওয়া হোক ‘তারকেশ্বর’। অনুষ্ঠানের আহ্বায়ক সৌম্যজিৎ মাইতি বলেন, ‘‘তারকেশ্বরের পরিচয় বিশ্বব্যাপী। নতুন করে কোনও জায়গাকে নিজের জেলা হিসেবে আমরা মানব না।’’
বিধানসভার স্বরাষ্ট্র ও প্রশাসনিক সংস্কার, কারাগার, আইন, বিচারবিভাগীয় ও অসামরিক প্রতিরক্ষা বিষয়ক স্ট্যান্ডিং কমিটির চেয়ারম্যান তথা পুরশুড়ার বিধায়ক বিমান ঘোষ বলেন, ‘‘আরামবাগ জেলা গঠন নিয়ে প্রশাসনিক ভাবে এখনও চূড়ান্ত বৈঠক হয়নি। দিন পঁচিশ আগে জেলাস্তরে কেবল আরামবাগ মহকুমা ও তারকেশ্বর নিয়ে একদফা আলোচনা হয়েছে। ফের বসা হবে।’’
আরামবাগ মহকুমার নানা জায়গা থেকে হুগলির জেলা সদর চুঁচুড়ার দূরত্ব ১২০-১২৫ কিলোমিটার। সে কারণে প্রশাসনিক নানা কাজে হয়রানির প্রসঙ্গ তুলে আরামবাগকে জেলা করার দাবি ওঠে অনেক দিন আগেই। ২০১৭ সালে আরামবাগ নাগরিক মঞ্চ, সাহিত্য ও সংস্কৃতি পরিষদ-সহ খানাকুল, গোঘাট, পুরশুড়ার বিভিন্ন নাগরিক সংগঠন এককাট্টা হয়ে আন্দোলন শুরু করে। ২০২২ সালে সংগঠনগুলি মিলে ‘আরামবাগ জেলা চাই পরিষদ’ গঠন করে। সম্প্রতি জেলা ঘোষণার পরে কমিটির নাম বদলে করা হয়েছে ‘আরামবাগ জেলা উন্নয়ন পর্ষদ’।
পর্ষদের সভাপতি প্রদীপ গঙ্গোপাধ্যায় বলেন, ‘‘একমাত্র তারকেশ্বর নিয়ে সমস্যা হচ্ছে। যে সব বিষয় তুলে আরামবাগ জেলার সঙ্গে থাকতে চান না বলে ওঁরা দাবি করছেন, তা ভিত্তিহীন বলে মনে হয়েছে।’’ তাঁর সংযোজন, ‘‘ওঁরা বলছেন, আরামবাগ জেলায় এলে তারকেশ্বরের গুরুত্ব হারাবে। এটা ঠিক নয়। তারকেশ্বর থেকে চুঁচুড়া দু’টি ট্রেন বদলে হয়রানির যাত্রা। এক ট্রেনেই তারকেশ্বর থেকে মাত্র ২০-২৫ মিনিটে আরামবাগে আসা যাবে। বাসে মিনিট ৪৫। তারকেশ্বরবাসীর সুবিধাই হবে।’’