E-Paper
এই প্রতিবেদনটি প্রথমে আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণে প্রকাশিত হয়েছে

আতশবাজি তৈরির অনুমতি চায় নতিবপুর

পুলিশ এবং ব্লক প্রশাসনের কাছে নতিবপুর শাহপাড়ার ওই বাজি নির্মাতাদের আবেদন, আর শব্দবাজি তৈরি করবেন না, এই মর্মে তাঁরা মুচলেকা দিতেও রাজি।

পীযূষ নন্দী

শেষ আপডেট: ০২ নভেম্বর ২০২৬ ০৯:০২
প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।

প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।

নিষিদ্ধ বাজি তৈরি ও বিক্রির অভিযোগে পুলিশের নিয়মতি ধরপাকড় এবং সামগ্রী বাজেয়াপ্ত সত্ত্বেও এই পেশা থেকে সরছিলেন না তাঁরা। এ বার শুধু আতশবাজি তৈরির জন্য প্রশাসনের কাছে আবেদন জানালেন খানাকুল ২ ব্লকের নতিবপুরের বাজি কারিগরেরা।

পুলিশ এবং ব্লক প্রশাসনের কাছে নতিবপুর শাহপাড়ার ওই বাজি নির্মাতাদের আবেদন, আর শব্দবাজি তৈরি করবেন না, এই মর্মে তাঁরা মুচলেকা দিতেও রাজি। তাঁদের আতশবাজি তৈরির অনুমতি দেওয়া হোক। দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা ‘বাজি মেলা’ ফের চালুর অনুমতির আর্জিও জানিয়েছেন তাঁরা। খানাকুলের বিজেপি বিধায়ক সুশান্ত ঘোষের কাছেও এ নিয়ে আবেদন করেছেন।

আবেদন জানালেও এখনও সুরাহা মেলেনি বলে জানান বাজি কারিগর কমিটির সদস্য শেখ মোরসেলিন। তিনি বলেন, ‘‘বিডিও এবং পুলিশ আধিকারিক বলে দিয়েছেন, বাজি তৈরি এবং বিক্রির লাইসেন্স না হলে তাঁরা কোনও দায়িত্ব নিতে পারবেন না। লাইসেন্স পাওয়ার মতো পরিকাঠামো আমাদের নেই।’’ তিনি জানান, এলাকার ১২০টি পরিবার এই পেশার সঙ্গে বংশানুক্রমে যুক্ত। বছরে দু’বার কারবার ভাল চলে। দিওয়ালি এবং সবেবরাতের সময়। প্রায় ২০০ বছরের প্রাচীন বাজি মেলা এখন বন্ধ।

পরিবেশকর্মী এবং সমাজকর্মীদের অনেকের বক্তব্য, বাজি তৈরি বিপজ্জনক পেশা। উপযুক্ত পরিকাঠামো ছাড়া তা আরও মারাত্মক। শুধু দুর্ঘটনার আশঙ্কা নয়, ঘরে ঘরে বাজি তৈরি হওয়ায় বারুদের কুফল ছোট-বড় সবাইকেই বয়ে বেড়াতে হয়। তা সত্ত্বেও কিছু লাভের আশায় বছরভর বেআইনি ভাবে বাজি তৈরি চলে। এই পরিস্থিতিতে উঠে আসে বিকল্প জীবিকার কথা। পরিবেশকর্মীরা চান, বাজি তৈরির বিপজ্জনক পেশা ছেড়ে বিকল্প জীবিকার সন্ধান করুন তাঁরা। শনিবার মোরসেলিন বলেন, ‘‘সরকারি তরফে আমাদের জন্য বিকল্প পেশারব্যবস্থা হয়নি।’’

বিডিও ভরতচন্দ্র দাসের বক্তব্য, ‘‘ওঁদের সঙ্গে বৈঠক করে সরকারি অনুমতি নিয়ে সবুজ বাজি তৈরির প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। কী ভাবে অনলাইনে (শিল্প সাথী পোর্টালে) আবেদন করতে হয়, তাও হাতে-কলমে দেখানো হয়েছে।’’ নিষিদ্ধ বাজি উদ্ধারে অভিযান ধারাবাহিক ভাবে চলছে জানিয়ে এসডিপিও (আরামবাগ) সন্দীপ নন্দী বলেন, ‘‘লাইসেন্স ছাড়া বাজি তৈরি বা বিক্রি করা যাবে না। মহকুমার চারটি থানা এলাকায় মোট ১৭ জন ব্যবসায়ী এই লাইসেন্স নিয়েছেন।’’

বিধায়ক বলছেন, ‘‘জীবনহানির ঝুঁকি এবং সরকারের প্রতি বিরূপ প্রতিক্রিয়া যাতে না পড়ে, সে জন্য শব্দবাজি কোনও ভাবেই তৈরি করা যাবে না, বলেছি। আতশবাজি তৈরির ক্ষেত্রে যদি প্রশাসন অনুমতি দেয়, তা হলে ওঁরা করতে পারেন।’’

এই প্রতিবেদনটি প্রথমে আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণে প্রকাশিত হয়েছে
Khanakul

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy