আইন অমান্যের অভিযোগে হুগলির উত্তরপাড়ার প্রাক্তন বিধায়ক শ্রুতিনাথ প্রহরাজকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তাঁর সঙ্গে দুই সিপিএম কর্মীও গ্রেফতার হয়েছেন।
স্থানীয় সূত্রে খবর, সোমবার রাতে সিপিএমের প্রাক্তন বিধায়কের উত্তরপাড়ার বাড়িতে গিয়েছিল চুঁচুড়া থানার পুলিশের একটি দল। রাতেই তাঁকে গ্রেফতার করে থানায় নিয়ে যায় পুলিশ। মঙ্গলবার চুঁচুড়া আদালতে তাঁকে হাজির করানো হয়। শ্রুতিনাথের সঙ্গে আরও দুই সিপিএম কর্মী কোন্নগরের দীপক চক্রবর্তী এবং অনুপম চক্রবর্তীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গত ১০ অগস্ট চুঁচুড়া ঘড়ির মোড়ে ‘আইন অমান্য করা’ এবং অশান্তি পাকানোর অভিযোগ রয়েছে তাঁদের বিরুদ্ধে।
ওই দিন বামেদের বিক্ষোভ মিছিলে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ হয়েছিল। ব্যারিকেড ভেঙে জেলাশাসক দফতরের দিকে এগোচ্ছিলেন বাম কর্মী-সমর্থকেরা। ঘড়ির মোড়ে তাঁদের বাধা দেয় পুলিশ। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে লাঠিচার্জ করা হয়। সে দিন দু’পক্ষেরই বেশ কয়েক জন আহত হন বলে দাবি করা হয়।
পুলিশের একটি সূত্রে খবর, তাদের দুই কর্মী জখম হয়েছিলেন সে দিন। ওই ঘটনায় প্রায় ৪০ জন বাম কর্মীকে আটক করা হয়েছিল। পরে চার জনকে গ্রেফতার করে বাকিদের ছেড়ে দেওয়া হয়। গ্রেফতারির পরের দিন তাঁরা আদালত থেকে জামিন পান। তবে ঘটনার দু’সপ্তাহ পর প্রাক্তন বিধায়ক শ্রুতিনাথের সঙ্গে সঙ্গে দীপক এবং অনুপম নামে দুই সিপিএম কর্মীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ধৃত দুই সিপিএম কর্মীর বাড়ি কোন্নগরে।
আরও পড়ুন:
আদালতে নিয়ে যাওয়ার সময় প্রিজ়ন ভ্যান থেকে প্রাক্তন বিধায়ক শ্রুতিনাথ বলেন, ‘‘মেহনতি মানুষের পক্ষে দাঁড়ানো যদি অপরাধ হয়, সেই অপরাধ বার বার করতে আমি রাজি।’’ বিজেপি-কে নিশানা করে তিনি আরও বলেন, ‘‘যারা সে দিন মারধর করল, ভাঙচুর চালাল, তারা ঘুরছে। তাদের বিরুদ্ধে কোনও ব্যবস্থাই নেই!’’
শেষ পর্যন্ত পাওয়া খবর অনুযায়ী, আদালত জামিন মঞ্জুর করেছে প্রাক্তন বিধায়ক-সহ তিন জনেরই।
উল্লেখ্য, সোমবার রাজ্যে ‘আইনশৃঙ্খলা রক্ষার’ আইন কার্যকর করেছে বিজেপি সরকার। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেছিলেন, ‘‘এ বার থেকে সরকারি সম্পত্তি ভাঙচুর, পুলিশকে আক্রমণ, থানা জ্বালানো, বিডিও অফিস জ্বালানো হলে গ্রেফতার করার পাশাপাশি ক্ষতিপূরণও আদায় করা হবে। ক্ষতিপূরণের অঙ্কের তিন গুণ আদায় করা হবে।’’