এ বার তৃণমূল তাঁকে বিধানসভা ভোটে টিকিট দেয়নি। তা নিয়ে প্রচণ্ড অভিমান ছিল। কিন্তু ১৫ বছর রাজ্যশাসন করা দল যখন ভোটে বিপর্যস্ত, একের পর এক নেতা নানা বাহানায় দল ছাড়ছেন, তখন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গ ছাড়েননি চুঁচুড়ার প্রাক্তন বিধায়ক অসিত মজুমদার। বৃদ্ধ রাজনীতিকের দাবি, তারই ফলশ্রুতি হিসাবে জেলে যেতে হয়েছে তাঁকে। গত দু’মাসে দু’বার জেল খেটেছেন। সেই বন্দিদশা নিয়ে বই লিখে ফিললেন তৃণমূলের প্রাক্তন বিধায়ক। নাম ‘কারাগারের অন্তরালে ২০ দিন’। মঙ্গলবার বইপ্রকাশ অনুষ্ঠানে অসিত জানালেন, আরও বই লিখবেন তিনি। বিষয় সমকালীন রাজনীতি।
সোনারপুরে নিহত দলীয় কর্মীর পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে বিক্ষোভের মুখে পড়েছিলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক। ডিম ছোড়া হয় ডায়মন্ড হারবারের সাংসদকে। গায়ে হাত তোলার অভিযোগ ওঠে। তার প্রতিবাদে ৩১ মে চুঁচুড়ায় বিক্ষোভ কর্মসূচি করতে গিয়ে গ্রেফতার হন অসিত। তার পর তোলাবাজি, ধর্ষণের মতো গুরুতর অভিযোগ দায়ের হয় তাঁর বিরুদ্ধে। প্রাক্তন বিধায়কের দাবি, সবই রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র। তিন সপ্তাহ কারাবাসের পর জামিন পান। তার পর দ্বিতীয় বার গ্রেফতার হন গত ২১ জুলাই। সে বারও তোলাবাজির অভিযোগে। সকালে কালীঘাট তৃণমূলের আয়োজন করা ‘শহিদ সমাবেশ’-এ যাওয়ার জন্য তৈরি হচ্ছিলেন অসিত। কিন্তু কলকাতা আর যাওয়া হয়নি। জামিন পেতে বিকেল গড়িয়ে গিয়েছিল।
প্রথম বার জেলে যাওয়ার অভিজ্ঞতা নিয়ে অসিত লিখেছেন ‘কারাগারের অন্তরালে ২০ দিন’। জেলে বসেই খবর পেয়েছিলেন তাঁকে হুগলি জেলার সভাপতি করেছে কালীঘাট তৃণমূল। আবার নতুন অভিযোগের কথাও শুনেছিলেন সেই জেলে বসেই। ওই সমস্ত অভিজ্ঞতার কথা লিখেছেন বইয়ে। বুধবার হুগলি প্রেস ক্লাবের সভাঘরে নিজের বইয়ের আনুষ্ঠানিক প্রকাশ অনুষ্ঠানে চুঁচুড়ার প্রাক্তন বিধায়ক বলেন, ‘‘বহু দিন রাজনীতি করছি। বিরোধী রাজনীতিও করেছি। কিন্তু তখন জেলে যেতে হয়নি। এ বার আন্দোলন করতে গিয়ে জেলে যেতে হল। তার পরে তোলাবাজি, ধর্ষণের চেষ্টার মামলা যুক্ত করা হল। কারাগারের দিনগুলো খুব কষ্টের ছিল। সেই অভিজ্ঞতাই তুলে ধরেছি নতুন বইয়ে।’’
২১ জুলাই জামিন পাওয়ার পর অসিত আক্ষেপের সুরে বলেছিলেন তাঁর জীবন এখন ভাগ্য আর আইনের মাঝে ঝুলছে। কেন তিনি গ্রেফতার হচ্ছেন, নিজেও জানেন না। বইপ্রকাশ অনুষ্ঠানে নিজের নেত্রীর উদাহরণ টেনে অসিত বলেন, ‘‘মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও অনেক বই লিখেছেন। তবে আমার বই লেখার বিষয়টি এখনও তাঁকে জানানো হয়নি।’’
অসিতের বইয়ের প্রচ্ছদ সমাজমাধ্যমে পোস্ট হতেই ভাইরাল। সেই কথা শুনে অসিত জানাচ্ছেন, আগামী দিনে আরও বই লেখার ইচ্ছা রয়েছে তাঁর। রাজনীতি তো করবেনই। হুগলির সাংসদ রচনা বন্দ্যোপাধ্যায় তৃণমূলে থাকাকালীন অহরহ তাঁর সঙ্গে দ্বন্দ্বে জড়ানো প্রসঙ্গে অসিত বলেন, ‘‘রাজনীতি হবে পথে নেমে। পথই পথ দেখাবে। আর সেই সব অভিজ্ঞতা থাকবে বইয়ে।’’
আরও পড়ুন:
প্রাক্তন বিধায়কের কারাগারের অভিজ্ঞতা নিয়ে বই লেখাকে কটাক্ষ করেছেন চুঁচুড়ার বর্তমান বিধায়ক সুবীর নাগ। বিজেপি বিধায়কের খোঁচা, ‘‘তৃণমূল সরকার যা যা চুরি-জোচ্চুরি করেছে, তাঁদের নেতারাই যা বলছেন, সেগুলো নিয়ে একটা বই লেখাই যায়। ওঁর (অসিত) এখন কোনও কাজ নেই। তাই বই লিখছেন... তা ভাল কথা।’’ অসিতের সমসাময়িক হুগলির এক বাম নেতার খোঁচা, ‘‘আমেরিকান সাংবাদিক ও সমাজতান্ত্রিক কর্মী জন রিড রুশ বিপ্লব নিয়ে লিখেছিলেন ‘দুনিয়া কাঁপানো দশ দিন’। সেই বই ঐতিহাসিক। অসিতের বইয়ের নামটা শুনে রিডের বইয়ের কথা মনে পড়ে গেল।’’ বলেই উচ্চগ্রামে হাসেন সেই বাম নেতা।