তৃণমূল সরকারের আমলেই বাগনানের সামতাবেড়ে কথাশিল্পী শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের বাসভবনকে কেন্দ্র করে পর্যটনকেন্দ্র গড়ে তোলার কাজ শুরু হয়েছিল। রাজ্যে পালা বদলের পরে নতুন করে সেখানে পর্যটনকেন্দ্র গড়ে তুলতে চায় রাজ্য পর্যটন দফতর। তাদের নির্দেশমতো এ সংক্রান্ত সমীক্ষার কাজ শুরু হয়েছে বলে জেলা প্রশাসনের এক কর্তা জানিয়েছেন।
আমতার বিজেপি বিধায়ক অমিত সামন্ত পর্যটন দফতরকে চিঠি দিয়ে সামতাবেড়ে পর্যটনকেন্দ্র গড়ার প্রস্তাব দিয়েছিলেন। বিধায়ক জানান, সামতাবেড়ে শরৎচন্দ্রের বাড়িতে নানা জায়গা থেকে মানুষ আসেন। এখানে পর্যটকদের থাকার ব্যবস্থা, কথাশিল্পীকে নিয়ে বিশেষ প্রদর্শনী করা, তাঁর লেখা গ্রন্থের প্রদর্শনী করা যায়। সেটা করা হলে এই পর্যটনকেন্দ্রে দর্শক যেমন বাড়বে, তেমনই অনেক বেকার যুবকের কর্মসংস্থান হবে। তিনি বলেন, ‘‘এ বছর কথাশিল্পীর ১৫০তম জন্মবার্ষিকী। সে কথা মাথায় রেখেই আমি সামতাবেড়কে পর্যটনকেন্দ্র হিসাবে্ গড়ার প্রস্তাব দিই।’’
তৃণমূল সরকারের আমলেই পর্যটনকেন্দ্র গড়ার কাজে হাত দেয় বাগনান ২ পঞ্চায়েত সমিতি। এই কাজের জন্য জেলা পরিষদ পঞ্চায়েত সমিতিকে প্রায় ৫০ লক্ষ টাকা দিয়েছে বলে জানান জেলা সভাধিপতি গোপা ঘোষ। বিধায়ক অবশ্য দাবি করেন, ‘‘এ সংক্রান্ত পরিকল্পনা হলেও কোনও কাজ হয়নি। আমরা চাই নতুন করে পর্যটনকেন্দ্রটি গড়ে তোলা হোক।’’
সামতাবেড়ের পাশের গ্রাম গোবিন্দপুরে ছিল কথাশিল্পীর দিদি অনিলা মুখোপাধ্যায়ের বাড়ি। সেখানে শরৎচন্দ্র বেড়াতে আসতেন। সেই সূত্রে সামতাবেড় গ্রামটি পছন্দ হয়ে যাওয়ায় সেখানে তিনি বাড়ি করেন। ১৯২৬ থেকে ১৯৩৮ সালে মৃত্যুর বছর পর্যন্ত এই বাড়িতে ছিলেন শরৎচন্দ্র। এই বাড়িতেই তিনি ‘শ্রীকান্ত’-র চতুর্থ পর্ব, বিপ্রদাস, শেষ প্রশ্নের মতো উপন্যাস এবং ‘নারীর মূল্য’ প্রবন্ধমালা রচনা করেন। এই বাড়িতে কথাশিল্পীর সঙ্গে দেখা করার জন্য অগ্নিযুগের বহু বিপ্লবী নিয়মিত আসতেন। মাটির তৈরি দোতলা বাড়িটি বাংলো ধরনের। এখানে কথাশিল্পীর ব্যবহৃত বহু জিনিস রয়েছে।