‘বিক্ষুব্ধ’ বা ‘বিদ্রোহী’ তৃণমূল সাংসদদের মধ্যে তিনিও আছেন। এখন এনসিপিআই সাংসদ রচনা বন্দ্যোপাধ্যায় এনডিএর অংশ। তবে বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল জিতলে তিনি তৃণমূলেই থাকতেন। শুক্রবার এমনই মন্তব্য করলেন হুগলির তারকা-সাংসদ রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়। পাশাপাশি তাঁকে কেন লোকসভা নির্বাচনে অভিনয় জগতে একদা সহকর্মী লকেট চট্টোপাধ্যায়ের প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে হল, তা নিয়ে প্রশ্ন তুললেন।
শুক্রবার হুগলি গিয়েছিলেন রচনা। চুঁচুড়ার বিজেপি বিধায়ক সুবীর নাগের ‘ভারতমাতা পুজো’ উপলক্ষে। কেন তৃণমূল ছাড়লেন, কেনই বা এনডিএ-তে যোগ দেওয়া, প্রশ্ন করায় রচনার সটান জবাব এখনও সাংসদ হিসাবে তিন বছরের মেয়াদ রয়েছে তাঁর। সাংসদ হিসাবে তিনি কাজ করতে চান। তাই এই সিদ্ধান্ত। তৃণমূলের টিকিটে প্রথম বারের সাংসদ বলেন, “অনেক কাজ করেছি। আরও কিছু কাজ করতে হবে। বিজেপি বিধায়কদের সঙ্গে মিলে সেই কাজ করব।’’ পর ক্ষণেই সংযোজন, “আমি তৃণমূল, বিজেপি, সিপিএম বুঝি না। মানুষের জন্য কাজ করতে চাই। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আমাকে হাত ধরে নিয়ে এসেছিলেন। আমি সাধারণ মেয়ে নই। মমতা বুঝেছিলেন, তাই তিনি ‘দিদি নম্বর ওয়ান’-এর সেটে গিয়েছিলেন (বেসরকারি চ্যানেলের রিয়্যালিটি শো-র সঞ্চালনা করতেন রচনা। গত লোকসভা ভোটের আগে আমন্ত্রিত হিসেবে অংশগ্রহণ করেছিলেন রাজ্যের তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী)। উনি জানতেন, আমি আসব না। লকেটের বিরুদ্ধে আমাকে কেন প্রার্থী করা হয়েছিল? (তবে) মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতি শ্রদ্ধা আছে।” পাশাপাশি লকেটের সরল স্বীকারোক্তি, “বিজেপি সরকার না হলে আমি তৃণমূলেই থাকতাম।’’
আরও পড়ুন:
রচনার দাবি, প্রথম প্রথম তিনি নিজের সংসদ এলাকার জন্য কাজ করতে পারতেন না। তখন মমতা বলতেন, কেন্দ্র টাকা দেয় না। তিনি যেন চেষ্টা করেন। রচনার কথায়, “আমি অনেকের কাছে গিয়েছি। বলাগড়ের ভাঙন থেকে রেল সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করেছি।’’ তাঁর আরও দাবি, রাজ্যে ডবল ইঞ্জিন সরকারের দরকার ছিল। নইলে উন্নয়ন হত না। আর এই অল্প সময়ের মধ্যে যতটুকু দেখছেন, তাতে তাঁর মনে হয়েছে মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে ভাল কাজ করছেন শুভেন্দু অধিকারী।