E-Paper
এই প্রতিবেদনটি প্রথমে আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণে প্রকাশিত হয়েছে

‘নির্মল সাথী’র মৃত্যু, ফের বকেয়া মেটানোর দাবি

চুঁচুড়া পুরসভার ২৩ নম্বর ওয়ার্ডের তোলাফটকে বাড়ি হীরার। স্বামী লক্ষ্মণ সামান্য মজুরিতে শ্রমিকের কাজ করেন। দুই ছেলে কলেজে পড়েন।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ০৯:৪৬
মৃত হীরা সাধুখাঁ।

মৃত হীরা সাধুখাঁ। নিজস্ব চিত্র।

পাঁচ মাসের মজুরি বকেয়া। আর্থিক দুশ্চিন্তা ছিলই। তার সঙ্গে জুড়েছিল অসুস্থতা। তবু, কাজে যাচ্ছিলেন হুগলি-চুঁচুড়া পুরসভার ‘নির্মল সাথী’ হীরা সাধুখাঁ (৪৪)। রবিবার তাঁর মৃত্যুতে ফের বকেয়া মেটানোর দাবি তুললেন ওই পুরসভার অস্থায়ী শ্রমিক-কর্মীরা। সহকর্মীদের অভিযোগ, আর্থিক অনটন ও মানসিক চাপই হীরার অসুস্থতা এবং মৃত্যুর অন্যতম কারণ। পুর কর্তৃপক্ষের বক্তব্য মেলেনি। বর্তমানে পুরসভা চালাচ্ছেন প্রশাসক।

চুঁচুড়া পুরসভার ২৩ নম্বর ওয়ার্ডের তোলাফটকে বাড়ি হীরার। স্বামী লক্ষ্মণ সামান্য মজুরিতে শ্রমিকের কাজ করেন। দুই ছেলে কলেজে পড়েন। পরিবার ও সহকর্মীদের দাবি, হাতে টাকা না থাকায় চিকিৎসকের কাছে যেতে পারছিলেন না হীরা। বকেয়া না পাওয়ার আশঙ্কায় কাজে যাওয়াও বন্ধ করেননি তিনি। গত শুক্রবারও জ্বর নিয়েই কাজ করেন। শনিবার কাজে গিয়ে বাড়ি ফিরে আসেন। দিন দশেক আগে শাশুড়ির মৃত্যুতে মানসিক চাপ আরও বেড়েছিল। রবিবার ভোর ৬টা নাগাদ আচমকাই তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়। অসুস্থতায় ছটফট করতে শুরু করেন হীরা। হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার তোড়জোড় শুরু করেন পরিবারের সদস্যেরা। কিন্তু তার আগেই মৃত্যু হয়। হৃদযন্ত্র বিকল হয়ে তাঁর মৃত্যু হয়েছে বলে মৃত্যুর শংসাপত্রে জানিয়েছেন চিকিৎসক।

লক্ষ্মণ বলেন, ‘‘কয়েক দিন ধরে সারাক্ষণ বকেয়ার কথা বলছিল হীরা। খুব উদ্বেগে ছিল। মায়ের শ্রাদ্ধশান্তির কাজে আমাদের কিছু দিতে হবে বলেও চিন্তিত ছিল।’’

পুরসভার শ্রমিক নেতা সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় জানান, ‘নির্মল সাথী’ কর্মীদের মজুরি দেয় রাজ্যের নগরোন্নয়ন সংস্থা (সুডা)। তাঁর অভিযোগ, পুরসভায় সেই টাকা পাঠালেও শ্রমিকদের বকেয়া মেটানো হয়নি। সৌরভ বলেন, ‘‘আর্থিক অনটনে চিকিৎসকের কাছেও যেতে পারেননি হীরা। মজুরিটা পেয়ে গেলে হয়তো এই পরিণতি হত না!’’ এলাকার বিধায়ক সুবীর নাগ বলেন, ‘‘দুঃখজনক ঘটনা। কিন্তু পুরসভার আর্থিক অবস্থা ভাল নয়, সকলেরই জানা। তবে, সুডা-র টাকা কেন দেওয়া হল না, দেখা হবে।’’ হীরার বাড়িতে গিয়ে এলাকার প্রাক্তন তৃণমূল পুরসদস্য (কাউন্সিলর) দিব্যেন্দু অধিকারীর দাবি, ‘‘আমাদের আমলে কখনও এত মাসের বেতন বকেয়া থাকেনি।’’

শুধু ‘নির্মল সাথী’রাই নন, পুরসভার তহবিল থেকে মজুরি পাওয়া অস্থায়ী শ্রমিক-কর্মীদেরও দু’তিন মাসের বেতন বকেয়া রয়েছে। মজুরির দাবিতে কিছু দিন আগেই কর্মবিরতিতে নেমেছিলেন তাঁরা। বিধায়কের হস্তক্ষেপে এক সপ্তাহের মধ্যে অন্তত এক মাসের বকেয়া মেটানোর আশ্বাস মেলায় আন্দোলন প্রত্যাহার করেন শ্রমিকেরা। কিন্তু মজুরি নিয়ে অসন্তোষ পুরোপুরি মেটেনি।

এই প্রতিবেদনটি প্রথমে আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণে প্রকাশিত হয়েছে
Chinsurah

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy