E-Paper
এই প্রতিবেদনটি প্রথমে আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণে প্রকাশিত হয়েছে

হাওড়ায় বধূর মৃত্যু অন্ত্রের জটিল রোগে, দাবি প্রাথমিক তদন্ত রিপোর্টে

গত ২০ অক্টোবর রাতে পেটে যন্ত্রণা নিয়ে হাওড়া জেলা হাসপাতালের মহিলা ওয়ার্ডে ভর্তি হন হাওড়া ময়দান এলাকার হাট লেনের বাসিন্দা বেবি।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ৩০ অক্টোবর ২০২৬ ০৮:৫০
বেবি সিংহ।

বেবি সিংহ। ছবি: সংগৃহীত।

চিকিৎসক ও নার্সদের গাফিলতিতে নয়, অন্ত্রের জটিল রোগেই মৃত্যু হয়েছে হাওড়ার বাসিন্দা বেবি সিংহের। বেবির মৃত্যুর তদন্তের প্রাথমিক রিপোর্টে এমনটাই উল্লেখ করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।

হাওড়া জেলা স্বাস্থ্য দফতর সূত্রের খবর, গত ২০ অক্টোবর রাত ৮টা নাগাদ পেটে অসহ্য যন্ত্রণা নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন ৩৮ বছরের ওই মহিলা। দাবি, ওই সময়ে দায়িত্বে থাকা চিকিৎসক তাঁকে পরীক্ষা করে জানিয়েছিলেন, বেবির অন্ত্রে জি আই সেপসিস হয়েছে। তখন ওই মহিলাকে অ্যান্টিবায়োটিকও দেওয়া হয় বলে মৃত্যুর তদন্তের প্রাথমিক রিপোর্টে দাবি করেছেন হাসপাতাল কতৃর্পক্ষ।

প্রসঙ্গত, গত ২০ অক্টোবর রাতে পেটে যন্ত্রণা নিয়ে হাওড়া জেলা হাসপাতালের মহিলা ওয়ার্ডে ভর্তি হন হাওড়া ময়দান এলাকার হাট লেনের বাসিন্দা বেবি। পরিবারের অভিযোগ, বেবির হাতে চ্যানেল করতে গিয়ে বার বার ব্যর্থ হন নার্সরা। পরে এক চিকিৎসক এসে চ্যানেল করে দেন। শুধু স্যালাইন দেওয়া হয়, কোনও ওষুধ দেওয়া হয়নি। বেবি সারা রাত পেটের যন্ত্রণায় কাতরালেও কোনও চিকিৎসক বা নার্সকে পাওয়া যায়নি বলেও অভিযোগ। এমনকি, চ্যানেল খুলে মেঝে রক্তে ভেসে গেলে বার বার ডাকা সত্ত্বেও কেউ আসেননি। হাওড়া জেলা হাসপাতালের চিকিৎসক ও নার্সদের গাফিলতিতে স্যালাইনের সুচ থেকে রক্তক্ষরণ হয়ে বেবির মৃত্যু হয় বলে অভিযোগ তাঁর পরিবারের।

এর পরেই প্রধানমন্ত্রীর দফতরে ইমেলে বিষয়টি অভিযোগ আকারে জানায় বেবির পরিবার। দু’দিন পরেই প্রধানমন্ত্রীর দফতর থেকে উত্তর আসে, রাজ্যের স্বাস্থ্য দফতরের এক আধিকারিককে এই ঘটনার তদন্তভার দেওয়া হয়েছে। তারই ভিত্তিতে রাজ্য স্বাস্থ্য দফতরের নির্দেশে বেবির মৃত্যুর তদন্ত রিপোর্ট চাওয়া হয়।

হাওড়ার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক কিশলয় দত্ত বৃহস্পতিবার দাবি করেন, ‘‘২০ তারিখ রাতে ওই মহিলার মৃত্যুর পরে ১২ ঘণ্টার মধ্যে তদন্ত শুরু হয়েছে। তদন্তে দেখা গিয়েছে, ওই মহিলার মৃত্যুতে হাসপাতালের চিকিৎসক বা নার্স কারও গাফিলতি ছিল না।’’ মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক আরও বলেন, ‘‘হাওড়া জেলা হাসপাতালের সুপারের নেতৃত্বে আরও একটি তদন্ত কমিটি গঠিত হয়েছে। পৃথক তদন্ত করে সেই রিপোর্টও তৈরি হচ্ছে। দু’টি মিলিয়ে চূড়ান্ত রিপোর্ট তৈরি করে তা রাজ্য স্বাস্থ্য দফতরে পাঠানো হবে। তবে প্রাথমিক রিপোর্টের সঙ্গে চূড়ান্ত রিপোর্টের খুব একটা তফাত হবে না।’’

যদিও হাসপাতালের এই প্রাথমিক রিপোর্ট মানতে চায়নি রোগীর পরিবার। মৃতার আত্মীয় গোপাল সিংহ বলেন, ‘‘হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের গাফিলতিতেই কাকিমা মারা গিয়েছেন। ওয়ার্ডে ভর্তি অন্য রোগীরাও বলেছেন, নার্স ও ডাক্তারদের বার বার ডাকা হলেও কেউ আসেননি। বিনা চিকিৎসায় মারা গিয়েছেন। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ নিজেদের বাঁচাতে এই রিপোর্ট তৈরি করেছেন।’’


এই প্রতিবেদনটি প্রথমে আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণে প্রকাশিত হয়েছে

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy