বর্ষার আকাশ। পথের পাশে কড়াইতে ফুটন্ত তেলে আড়াই প্যাঁচের জিলিপি আর মেলার অস্থায়ী দোকানে তোড়জোড় জানান দিচ্ছে, রথযাত্রা উৎসব চলে এসেছে। স্নানযাত্রার দিন বিপুল পরিমাণ দুধ-গঙ্গাজলে স্নান করে জগন্নাথ-বলরাম-সুভদ্রা জ্বরে কাবু। মন্দির বন্ধ করে কবিরাজি চিকিৎসা চলছে। কাল, মঙ্গলবার মন্দিরের দরজা খুলবে। নবযৌবন উৎসব হবে। বৃহস্পতিবার রথযাত্রার দিন রথে চেপে তাঁরা যাবেন জগন্নাথের সখী পৌর্ণমসী, অর্থাৎ, মাসির বাড়িতে। সেই যাত্রার প্রস্তুতিতে সাজছে মাহেশেরবিখ্যাত রথ।
মাহেশের রথযাত্রার এ বার ৬৩০তম বর্ষ। বর্তমান রথটির বয়স ১৩১ বছর বলে জানিয়েছে শ্যামবাজারের বসু পরিবার। ওই পরিবারের তৎকালীন কর্তা কৃষ্ণচন্দ্র বসু রথটি তৈরি করিয়ে দেন। গোড়া থেকেই এই পরিবারের তরফেই রথের প্রয়োজনীয় সংস্কার করা হয়। এই পরম্পরাই চলছে। পরিবারের তরফে বিশ্বজিৎ বসু এবং পরিবারের জামাতা চন্দন দেবনাথের তত্ত্বাবধানে এ বারেও রথের সংস্কার করা হচ্ছে।
রথের চূড়া ন’টি। চন্দন জানান, গত বছর তিনটি চূড়া সংস্কার করা হয়েছিল। এ বার আরও তিনটি করা হল। বিভিন্ন তলে দাঁড়ানোর জায়গা-সহ নানা স্থানে কাঠ খারাপ হয়ে গিয়েছিল। সেগুলি বদলানো হয়েছে। লোহার কিছু যন্ত্রপাতিও বদলাতে হয়েছে।
রবিবার দুপুরে কাজের তদারকি করছিলেন চন্দন। তিনি জানান, চূড়ায় সেগুন কাঠ এবং বাকি অংশে শিরীষ কাঠ লাগানো হয়। রং করা হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘‘মে মাস থেকে সংস্কারের কাজ চলছে। এখন প্রায় শেষ পর্বে। এ বার প্রায় সাড়ে তিন লক্ষ টাকা খরচ হয়েছে।’’
পূর্বতন রাজ্য সরকারের তরফে জগন্নাথ মন্দির সংস্কার করা হয়েছে। তবে, রথের সংস্কার বা রক্ষণাবেক্ষণে তেমন পদক্ষেপ দেখা যায়নি। এ নিয়ে ভক্তদের মনেও প্রশ্ন রয়েছে। বছরের পর বছর ধরে সেই দায়িত্ব পালন করে আসছে বসু পরিবারই।