সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত দফায় দফায় বৃষ্টি। কখনও ঢিমেতালে, কখনও ঝমঝমিয়ে। তা উপেক্ষা করেই বৃহস্পতিবার সোজারথে মানুষের ঢল নামল মাহেশে।
সকাল থেকে বেলা যত গড়িয়েছে, জগন্নাথ মন্দিরের দিকে তত এগিয়েছে কালো মাথার সারি। ভোগ নিবদনের পরে সকাল সাড়ে ৮টা নাগাদ জগন্নাথ-বলরাম-সুভদ্রার বিগ্রহ গর্ভগৃহ থেকে মন্দিরের চাতালে নামানো হয়। দর্শনের জন্য ভিড় উপচে পড়ে। মন্দির চত্বরে লোকগানের আসর বসেছিল। মন্দির লাগোলা স্নানপিঁড়ি মাঠে যথারীতি মেলা বসেছে। রথযাত্রার সঙ্গে জিলিপি-পাঁপড় কিনতে দোকানে লাইন দিয়েছেন মানুষ। দুপুরে বিগ্রহদের রথে তোলার পরে প্রথা অনুযায়ী পুজো, আরতি হয়। তার আগে নৃত্যানুষ্ঠান হয় রথের সামনে। রথটান শুরু হয় বিকেল সওয়া চারটের কিছু পরে।
এ বারেও দূর দূরান্ত থেকে মানুষ এসেছিলেন। পুণ্য লাভের জন্য রথের রশি ছুঁতে আকুল হন বহু মানুষ। কাটোয়া থেকে এসেছিলেন অশোককুমার মণ্ডল। প্রবল ভিড়ের মধ্যেই জিজ্ঞাসা করছিলেন, কী ভাবে ওই রশি ছোঁয়া যায়। তাঁর আক্ষেপ, ভিড়ের মধ্যে কেউ তাঁর স্ত্রীর ব্যাগে ব্লেড চালিয়ে দিয়েছেন। তবে, কিছু খোওয়া যায়নি।
রাজ্যে রাজনৈতিক পালা বদলের ছবি স্পষ্ট হয়েছে উৎসবের আঙিনাতেও। গত মঙ্গল এবং বুধবার রাজ্যের বেশ কয়েক জন মন্ত্রী-বিধায়ক মাহেশে ঘুরে গিয়েছেন। এ দিন এসেছিলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার। স্থানীয় বিধায়ক তথা রাজ্যের মন্ত্রী ভাস্কর ভট্টাচার্য এ দিনও ছিলেন। এসেছিলেন বিজেপির স্থানীয় নেতারাও। বিভিন্ন ধর্মীয় বা ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান, সামাজিক সংগঠন বা রাজনৈতিক দলের তরফে জলসত্র শিবির করা হয়। অন্যান্য বছর তৃণমূলের একাধিক শিবির হয়। এ বার তা দেখা যায়নি। সিপিএম, বিজেপি, কংগ্রেসের শিবির যথারীতি ছিল। শ্রীরামপুরের পদত্যাগী পুরপ্রধান, পুর পারিষদ সন্তোষ সিংহ প্রমুখ মন্দির থেকে ঘুরে গেলেও উৎসবকে কেন্দ্র করে তৃণমূলের জনপ্রতিনিধি বা নেতাদের অংশগ্রহণ সে ভাবে দেখা যায়নি।
গুপ্তিপাড়ায় রথের রশি টানেন স্থানীয় বিধায়ক তথা মন্ত্রী সুমনা সরকার, মহকুমাশাসক (সদর) মধুশ্রী এবং বিডিও (বলাগড়) মহাশ্বেতা বিশ্বাস। এ বার এই রথযাত্রার ২৮৬তম বর্ষ। এখানেও প্রচুর ভিড় হয়েছিল বৃষ্টি উপেক্ষা করেই। বৃষ্টি মাথায় নিয়ে রথটান হয়। দর্শনার্থীদের সুবিধার্থে এবং নিরাপত্তায় নানা ব্যবস্থা করা হয়েছিল প্রশাসন ও বৃন্দাবনচন্দ্র জিউ মঠ কর্তৃপক্ষের তরফে। বিডিও বলেন, ‘‘গুপ্তিপাড়া প্রাচীন রথের কথা শুনেছিলাম। এ বারেই প্রথম দেখলাম। তার সঙ্গে রশি টানার সৌভাগ্যও হল। মহকুমাশাসকেরও রথের রশি টানার অভিজ্ঞতা এই প্রথম।’’