রাজ্যে সরকার পাল্টে গিয়েছে। হুগলি-চুঁচুড়া পুরবোর্ড ভেঙে যাওয়ায় প্রশাসক বসেছে। তারপরেও এ শহরের ভাগাড়ের দুর্গন্ধের হাত থেকে রেহাই মিলছে না এলাকাবাসীর। কিছুদিন ধরে পাহাড়প্রমাণ আবর্জনা সুকান্তনগরে ওই ভাগাড়ের একেবারে গেট পর্যন্ত চলে এসেছিল। এর প্রতিবাদে সোমবার সকালে ভাগাড়ে আবর্জনা ফেলতে আসা পুরসভার গাড়িগুলিকে আটকে দেন স্থানীয় বাসিন্দারা। চাপে পড়ে যন্ত্রের সাহায্যে সামনের আবর্জনার স্তূপ পিছনে সরানো হয়। তারপরে গাড়িগুলিকে ছাড়া হয়।
ভুক্তভোগীদের বক্তব্য, সঠিক ব্যবস্থাপনার অভাবে বছরভর তাঁদের ভাগাড়ের দুর্গন্ধ সহ্য করতে হয়। দূষণের জেরে নানা রোগে ভূগতে হয় বলেও তাঁদের দাবি। সুরজ হালদার নামে স্থানীয় এক যুবক বলেন, ‘‘আগের পুরবোর্ডকে সমস্যার কথা বহুবার জানিয়েছি। কাজ হয়নি। সরকার বদলের পরে ভেবেছিলাম, কিছু একটা হবে। এখনও দেখছি যে-কে সেই। তাই বাধ্য হয়ে গাড়ি আটকেছি।’’ পুর কর্তৃপক্ষের আশ্বাস, ‘‘বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’’
পুর কর্তৃপক্ষ আশ্বাস দিলেও পুরোপুরি নিশ্চিন্ত হতে পারছেন না এলাকার বাসিন্দারা। তাঁদের অনেকেরই দাবি, বছরের প্রায় আট মাস ভাগাড়ের আবর্জনায় আগুন লাগে। তা থেকে বিষ-ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়ে গোটা এলাকায়। বাকি বর্ষার চার মাস দুর্গন্ধে টেকা দায় হয়। ওই বিষ-ধোঁয়া ও দুর্গন্ধে অনেকেই শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যায় ভোগেন। বছর ছয়েক আগে এই দূষণের কারণেই এক বৃদ্ধের মৃত্যু হয়েছে বলে এলাকাবাসীর দাবি। ভাগাড় লাগোয়া বসন্তবাগানের বাসিন্দারা সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়লেও রবীন্দ্রনগর, সুকান্তনগরের পাশাপাশি কয়েকশো মিটার দূরেও দূষণের প্রভাব পড়ছে।
দেড়শো বছর অতিক্রম করা হুগলি-চুঁচুড়া পুরসভার জন্মলগ্ন থেকেই সুকান্তনগরে ৬.১ একর জমিতে রয়েছে ভাগাড়টি। জনসংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে ভাগাড়ে বেড়েছে বর্জ্যের পরিমাণ। বর্তমানে শুধু পুর এলাকার নয়, কোদালিয়া ১ পঞ্চায়েতের সিংহভাগ এলাকার বর্জ্যও ওই ভাগাড়ে ফেলা হয়। বছর কয়েক আগে ভাগাড়ে পচনশীল ও অপচনশীল বর্জ্য পৃথকীকরণ প্রকল্প চালু হয়। এখানে সাধারণ প্লাস্টিক ও পচনশীল বর্জ্যকে আলাদা করা হয়। প্লাস্টিক চলে যায় বিভিন্ন সিমেন্ট কারখানায়। বাকি বর্জ্য সার তৈরির কাজে ব্যবহার হওয়ার কথা। অভিযোগ, এই পৃথকীকরণ প্রকল্পের কাজ সঠিক ভাবে না হওয়ায় আবর্জনার স্তূপ জমছে।
সুজিত হালদার নামে স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, "শুধু শ্বাসকষ্ট নয়। পেটের রোগ, চর্মরোগ— কী নেই আমাদের এখানে! বছরভর মশার উপদ্রব থাকে। ধোঁয়া ও দুর্গন্ধের জেরে অনেক সময় ঘরে ভাত পর্যন্ত খেতে পারি না। আমরা চাই, এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান।’’